হোম আত্ম সচেতনতা কোরানিক দর্শনে বর্নিত পর্দার হকিকত

কোরানিক দর্শনে বর্নিত পর্দার হকিকত

কোরানিক দর্শনে বর্নিত পর্দার হকিকত

পর্দা:

অজ্ঞানতা, কুসংস্কার , অন্ধকার, নাপাকি, বন্ধন, ভীরুতা ও কুফরী থেকে পৃথক তথা বিরত থাকাকে বলা হয় পর্দা। আপন নফসকে মুর্শিদের রহমতের চাঁদর দ্বারা আবৃত করাকে বলা হয় পর্দা। আপন নফস বা মনকে সত্যের নূরের আবরণ দ্বারা ঢেকে রাখাকে বলা হয় পর্দা। নফসকে তাকওয়ার ভূষণ পরিধান করানোকে বলা হয় পর্দা। মিথ্যা, জুলুম, অন্যায় ও সর্ববিদ গহিত আচারণ হতে নিজেকে পৃথক রাখাকে বলা হয় পর্দা। যা দ্বারা দৃষ্টিভঙ্গিকে সংযত করা যায় তাকে পর্দা বলে।

পর্দা দুই প্রকার যথা: মেজাজি পর্দা ও হাকিকি পর্দা।

কোরানের ২৪ নং সুরার ৩০-৩১ নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন: “মুমিনদেরকে বল, তাহারা যে তাহাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাহাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে, ইহাই তাহাদের জন্য উত্তম। উহারা যাহা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।”

“আর মুমিনদেরকে বল, তাহারা যেন তাহাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাহাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে; তাহারা যেন যাহা সাধারণত প্রকাশ থাকে তাহা ব্যতীত তাহাদের আভরণ প্রদর্শন না করে, তাহাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে, তাহারা যেন তাহাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, আপন নারীগণ তাহাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কাহারও নিকট তাহাদের আবরণ প্রকাশ না করে, তাহারা যেন তাহাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশ্য সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্ত কর, যাহাতে তোমরা সফলকাম হইতে পার।” (অনুবাদ: ই:ফা)।

ব্যাখ্যা:
আল্লাহপাাক রাসুল মারফত মুমিন নারীগণকে এই উপদেশের মাধ্যমে শিক্ষা দিচ্ছেন। একটু খেয়াল করার বিষয় হচ্ছে এই আয়াতে কিন্তু আমানু নারী অথবা নাস নারী, অথবা মুসলিম নারী অথবা ইনসান নারী অথবা মুসল্লি নারী অথবা নবী তথা রসুলগণের পত্মীর কথাও উল্লেখ করেন নি। এই আয়াতে একমাত্র মুমিন নারীদের আল্লাহপাক রসুল মারফত উপদেশ দিচ্ছেন তাদের প্রকৃতি কেমন হবে এবং তাদের শালীনতা বেশভূষণ কিরূপ হবে। এই মুমিন নারীদের দেখেই আমানু নারীগণ অনুপ্রানিত হবে তাদের আদর্শ। সেই কারণে মনে হয় আল্লাহপাক মুমিন নারীদের আচরণ প্রকৃতি উপদেশ বানী প্রদান করেছেন।

মুমিন নারীদের প্রতি আল্লাহ পাকের উপদেশ:

১: মুমিন নারীগণ যাতে তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে।

মন্তব্য:
এই আয়াতে আল্লাহপাক মুমিন নারীগণকে তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখতে বলেছেন। এই বাক্যের মূল বিষয় হচ্ছে দৃষ্টিকে সংযত করা অথবা রাখা। এখন প্রশ্ন হলো দৃষ্টিকে কিরূপে সংযত রাখবে মুমিন নারীগণ। প্রত্যেকটি বিষয়ে দুইটি দিক থাকে একটি মেজাজি দিক অপরটি হাকিকি দিক। তবে ইহা আদত সত্য যে, কোরানিক দর্শন দেহ এবং মনের সহিত সমন্ধযুক্ত। একটু খেয়াল করার বিষয় হলো এই বাক্যে কিন্তু মুখমন্ডল ঢেকে রাখার কথা কোরানিক দর্শন বলে নাই। কোরানিক দর্শন দৃষ্টিকে অবনত রাখতে বলেছেন। দৃষ্টি দুই প্রকার যথা: চর্মচোখের দৃষ্টি ও অন্তর চোখের দৃষ্টি। মানুষের চর্মচোখ লোভ করে না, লোভের ফাদে পা দেয় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি তথা মন। চর্মচোখ এক জিনিস আর দৃষ্টিভঙ্গি অন্য জিনিস। চর্মচোখ কাপড় দিয়ে আবৃত রাখা যায়, অর্থাৎ মানুষের দেহ কাপড় দিয়ে আবৃত করে রাখা যায়।

কিন্তু লোভের তথা কামনার শরীল কি দিয়ে আবৃত করা যায়? এই লোভ, কামনা, বাসনা, কোথায় জম্মায়? মানবীয় নফসে তথা মনে এই বিষয় রাশি জম্ম হয়। মানবীয় নফসের যে কামনা, বাসনা, লোভ, মোহ, জৈবিকচাহিদা ও প্রবৃত্তিসমূহের সমন্বয়ে গঠিত হয় দৃষ্টিভঙ্গি। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সংযত করতে হয়, তথা পবিত্র করতে হয়, এই মনকে মুসলিম বানাতে হয়, নূরময় করতে হয়, সার্বজননীন করতে হয়, দায়েমি সালাতের মাধ্যমে তথা আমলে সালেহার মাধ্যমে। মানুষের অস্থির মনটাই হল সকল পাপের মূল হোতা। তাই কোরান বারবার বলতেছেন “তোমরা মনে প্রাণে পবিত্র হও তথা বিশুদ্ধ হও”। এই অবাধ্য মনটাই হল আসল চোখ, এই মনের চোখকে সংযত করতে কোরানিক দর্শনের উপদেশ বানী দিচ্ছে মুমিন নারী ও পুরুষগণকে। অত্র আয়াতে চর্মচোখকে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে বলে নাই। বলা হয়েছে দৃষ্টিভঙ্গিক হেফাযত করতে। আর চর্মচোখ ঢেকে রাখলে যদি পবিত্র তথা মুমিন বলে ধরা হয় তাহলে সালাত, সিয়াম, জাকাত, হাজ্জ, ও কোরবানি করার তো মানে হয় না। মানুষ তার ব্যক্তিস্বাধীনতাকে তথা অবাধ্যমনটাকে পবিত্র করলেই দৃষ্টিভঙ্গি পবিত্র তথা সংযত হয়ে যায়।

২: এবং মুমিন নারীগণ যেন তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।

মন্তব্য:
এই বাক্যটিতে লজ্জাস্থান হিফাযত করতে বলা হয়েছে।কোরানে বেশকিছু আয়াতেই মুমিন নারী ও পুরুষকে তাদের লজ্জাস্থান হেফাযত করতে উপদেশ দিয়েছেন।

এই বাক্যটি মেজাজি এবং হাকিকি উভয় দিকই ব্যাখ্যাই দেওয়া যায়। তবে দর্শনগত দিকটাই আলোকপাত করার প্রয়াস পাচ্ছি। তবে লিঙ্গ তথা গুপ্তাঙ্গ এক জিনিস আর লজ্জাস্থান অন্য জিনিস। লজ্জাস্থান হল মানুষের অভ্যন্তরীন দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশস্থল মস্তিষ্ক। এই মস্তিষ্কই হল প্রধান যৌনাঙ্গ তথা লজ্জাস্থান। আর লিঙ্গ তথা অর্গান তথা গুপ্তাঙ্গ হল কর্মইন্দ্রিয়। লিঙ্গ তথা গুপ্তাঙ্গ তথা কর্মইন্দ্রিয় হল মুসলামন। অর্থাৎ দেহের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ সবকিছুই তাওহীদে তথা আল্লাহর দ্বীনে বাস করে তথা আখিরাতে অবস্থান করে।অবস্থান করে না আপন মন ও মস্তিষ্ক। এই দুনিয়ার বিষয়রাশি দিয়ে এই মন ও মস্তিষ্ক ভরপুর।

তাই সালাত ও সিয়ামের মাধ্যমে মন ও মস্তিষ্ক হতে দুনিয়ার আবর্জনা অপসারণ করতে হবে। কর্মইন্দ্রিয় দ্বারা কর্ম সম্পাদিত হয়। মন এবং মস্তিষ্ক উত্তেজিত না হলে লিঙ্গ তার ক্রিয়া করে না। মন এবং মস্তিষ্কে কামের মোহ থাকলেই লিঙ্গ ক্রিয়া প্রকাশ করে। তাই আমাদের আগে মন এবং মস্তিষ্ক হতে দায়েমি সালাত ও সিয়ামের মাধ্যেমে এই ষড়রিপুগুলো দমন করে পবিত্র হলেই লজ্জাস্থান হেফাজত হবে। তা না হলে উপর দিয়ে পিটফাট ভিতর দিয়ে সদরঘাট হয়ে যাবে। সুতরাং বাহ্যিকতার চেয়ে অভ্যন্তিরণ পবিত্রতা আগে অর্জন করতে হবে।তাই কোরানিক দর্শনের তাকওয়ানামক পোশাক পড়তে বলছেন তথা পবিত্রতার পোশাক বলতে বলছে সুরা আরাফের ২৬ নং আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন “হে বনী আদম! তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকিবার ও বেশভূষার জন্য আমরা তোমাদের পরিচ্ছদ দিয়াছি এবং তাকওয়ার পরিচ্ছদ।ইহাই সর্বোৎকৃষ্ট (পরিচ্ছদ)।

ইহা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম, যাহাতে তাহারা উপদেশ গ্রহণ করে। “মনে রাখা দরকার পরিচ্ছন্নতা আর পবিত্রতা এক বিষয় নয়, খান্নাসমুক্ত হলে নফস পবিত্র হয়। আমরা অনেক মজ্জুব অলিদের উলঙ্গ অবস্থায় থাকতে দেখি। তারা কিন্তু আসলেই উলঙ্গ তথা নগ্ন নয়। তারা শরিয়তের দৃষ্টিতে উলঙ্গ কিন্তু হাকিকতের দৃষ্টিতে তারাঁ পবিত্রতার পোশাক পরিহিত তথা নুরী পোশাক তথা তাকওয়া নামক পোশাক পরিহিত। মানুষ বন্ধনের পোশাক পড়ে দুনিয়াতে আগমন করে, এবং কবর নামক পর্দায় আবৃত থাকে। এই বন্ধনের পোশাক ফেলে দেওয়া, এবং কবর নামক পর্দা হতে বের হয়ে আসাই হল হাকিকি পর্দা।ঈশ্বরের নৈকট্য দাঁড়াতে হয় নগ্ন অবস্থায়। ঈশ্বর নগ্ন তথা উলঙ্গ সত্য।

সুতরাং সত্যকে আলিঙ্গ করতে হলে সকল মান সম্মান, দম্ভ, জ্ঞানের অহংকার সব বিসর্জন দিয়ে স্থির সত্য (নগ্ন) রূপে উপস্থিত হতে হবে। আল্লাহ থাকেন সত্তারহাজার পর্দার ভিতর। বান্দা আল্লাহকে দেখেতে গিয়ে, পর্দা খেলতে খেলতে বান্দার পাছায় আর পোশাক থাকে না। সত্তহাজার পর্দাভেদ করে বান্দা দেখে সে নিজেই উলঙ্গ অবস্থায় দাড়িয়ে রয়েছে। তবে শরিয়াত শালীনতা বজায় রাখতে বিশেষভাবে জোড় দিয়েছে। অবশ্যই মুমিন নারীগণ তাঁরা তাদের লজ্জাস্থান জাহেরী ও বাতেনী উভয়ভাবে হেফাজত করবেন। আল্লাহপাক ব্যতীক্রম করে দিলে সেটার সংজ্ঞা আলাদা। ব্যতীক্রম সংজ্ঞায় তথা বিচারে আসে না। এটা স্বতঃসিদ্ধ। স্বতঃসিদ্ধকে সূত্র তথা আইন তথা যুক্তি দিয়ে বিচার করা যায় না। সুতরাং সবই তকদীরের রহস্যময় লীলাখেলা। সুতরাং গালি দেওয়ার কোনো বিধান নাই। কারণ সৃষ্টিতে বিন্দুমাত্র কোনো ভুল নাই।

৩: মুমিন নারীগণ তারা যেন সাধারণ প্রকাশ থাকে তাহা ব্যতীত তাহাদের আভরণ প্রদশন না করে।

মন্তব্য:
এই বাক্যটি নারীদের শালীনতার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, মুমিন নারীগণ যেন অতিরঞ্জিত সাজ সজ্জিত হয়ে বাহিরে চলাফেরা না করে। সাধারণ পরিচ্ছদ যাতে তারা পড়েন সেইদিকে আলোকপাত করেছেন।একটু স্পষ্ট ভাষায় বলতে গেলে তারা যেন চলচ্চিত্রের বা সিনেমা নায়িকাদের অশ্লীল পোশাক পরিধান না করে,শালীন পোশাক যেন পরিধান করে।তাই বলে আপাদমস্তক চিঞ্জির দিয়ে ঢেকে রাখা নয়।
দৃষ্টিকটু পোশাক পরিধান না করতে কোরান মুমিন নারীদের উপদেশ দিয়েছেন।

৪: মুমিন নারীগণ যেন তাহাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে।

মন্তব্য:
এই বাক্যটি মুমিন নারীদের হিজাব তথা ঊরনা তথা আবরু কেমন হবে তা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে। মুমিননারীগণ তারা যেন তাদের মাথা কাপড় দ্বারা তাদের গলা এবং বুকের উপরের অংশ কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখে।এখানে কিন্তু মুখমণ্ডল ঢেকে রাখতে বলে নি।মুখমণ্ডল পবিত্রতার প্রতীক। মানুষের পরিচয়। মুখমণ্ডল কোনো যৌনাঙ্গ নয় যে ঢেকে রাখতে হবে। আগের বাক্যে বলা হয়েছে দৃষ্টিভঙ্গিকে হেফাজত করতে।  মুখন্ডলকে ঢেকে রাখতে বলে নাই। মুখমন্ডলে সালাতের চিহ্ন ফুটে উঠে তথা আল্লাহর নূর ফুটে উঠে।(৪৮:২৯)।

মুখমন্ডল ঢেকে রাখতে বলেন নি। কারণ মুখমন্ডলে সালাতের বিনয়ী, নমনীয় ও নুরানী চিহ্ন ফুটে উঠে। আর একজন মুমিন নারী ও পুরুষের মুখমন্ডলে তথা চেহারায় নূর ফুটে উঠে। মুমিনের চেহারা তো আল্লাহর প্রকৃতি। সুরা কাহাফে বলা হয়েছে তাঁরা যেন ইবাদত করে আল্লাহর চেহারা লাভের জন্য। মুমিনের চেহারাতে তো আল্লাহর নূর চমকাতে থাকে। মুমিন নারী ও পুরুষের চেহারা দেখলে আমানুদের মধ্যে খোদাভীতি পয়দা হয়।সালাতে মনোযোগ আসে। মনের ময়লা আবর্জনা দূরীভূত হয়।মুমিনের চেহারায় আল্লাহর ঐশ্বর্য ফুটে উঠে।মুমিন নাপাকী হতে মুক্ত। মুমিনকে আল্লাহ হেফাজত করে।

৫: “মুমিন নারীগণ যেন তাহাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র , স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র , ভগ্নিপুত্র, আপন নারীগণ, তাহাদের ডানহাতের অধিকারী(দাসী), পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কাহারও নিকট তাহাদের আভরণ প্রকাশ না করে, তাহারা যেন তাহাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশ্য সজোরে পদক্ষেপ না করে।”

মন্তব্য:
ডানহাতের অধিকারীগণ বা যাহাদের উপর দক্ষিণ হস্তের অধিকার রয়েছে: অর্থাৎ ছাত্র – ছাত্রীদের উপর; ভক্ত শিষ্যদের উপর, সন্তান- সন্ততিদের উপর ইত্যাদি সর্বপ্রকার অধীনস্ত লোকদের উপর কর্তব্য পালনকালে মনের সালাত হেফাজত থাকে না। সাময়িকভাবে সালাত কর্ম শিথিল হইয়া যায়। ফলতঃ সালাতের প্রশান্তি বিঘ্নিত হয় উক্ত প্রকার ব্যক্তিগণের উপর কর্তব্য সম্পাদন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনতিবিলম্বে সালাতের প্রশান্তির মধ্যে ফিরিয়া আসিতে হইবে। সালাত বিঘ্নিত হইবার সীমারেখা এতটুকু রাখা হইল। এবং বেশি হলে সীমালঙ্ঘন। (কোরান দর্শন: দ্বিতীয় খন্ড)।

৬: “মুমিন নারীগণ, তাহারা যেন তাহাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশ্য সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মুমিনগণ! তেমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাহাতে তোমরা সফলকাম হইতে পার।”

কোরানের ৩৩ নং সুরা আহযাবের ৩৩ নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ-

“তোমরা তোমাদের ঘরে অবস্থান করো, এবং জাহেলি যুগের মতো চাকচিক্য প্রদর্শন করিও না, সালাত কায়েম করো, যাকাত আদায় করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অনুসরণ করিবে। (ওয়া কারনা ফী বুইউতিকুমা ওয়ালা তাবাররাজনা তাবাররুজাল জাহিলিয়াতি উলা ওয়া আকিমিনিস সালাতা ওয়া আতিনায যাকাতা ওয়া আতিনাল্লাহ ওয়া রাসুলাহু)।

ব্যাখ্যা:
এই অত্যাাধুনিক যুগে এই আয়াতের ব্যাখ্যাটি লিখতে গিয়ে ভীষণ চিন্তায় পড়ে যাই। তবে যদিও এই আয়াতের আদেশগুলো মহানবির স্ত্রীদেরকে তথা সমগ্র মুসলিম জাহানের মায়েদের দেওয়া হয়েছে, তবু উপদেশটি মুসলিম নারীদের বেলাও প্রযোজ্য। তবে বিশেষভাবে মহানবীর স্ত্রী তথা মুসলমানদের মাতাদেরকে লক্ষ করে আদেশটি দেওয়া হয়েছে উহা যেন মুসলিম নারীরাও অনুসরণ করতে পারে।উচ্চ এবং সর্বোচ্চ আলাদতের বিচার তথা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের চলাফেরার উপর বিশেষ কতগুলো নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে। মহানবির স্ত্রীদের তথা মুসলমানদের মাতাদের যে উপদেশগুলো দেওয়া হয়েছে উহা অনেকটা উচ্চ আলাদতের বিচারপতিদের চলাফেরার উপর বিধি- নিষেধ দেওয়ার মতো বলা যায় কি না বিজ্ঞ আলেম- উলামাদের উপরেই এই বিচারের ভারট তুলে দিলাম।কারণ হিশাবে এই বলতে চাই যে, এই অত্যাধুনিক যুগে ঘরের ভেতর অবস্থান করতে গেলে জ্ঞান অর্জনের প্রশ্নে বাহিরে আসতেই হবে।

চাকুরীর প্রশ্নে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রশ্নে, আইনজ্ঞদের প্রশ্নে এবং ইত্যাদি বিষয়ের প্রশ্নে নারীদেরকে ঘর হতে বাহির হতেই হবে। সুতরাং আমার মনে হয়( আমার ভুলও হতে পারে) এই রকম কড়াকড়ি ব্যবস্থাপত্রটি মহানবির স্ত্রীদের বেলায়ই কেবল প্রযোজ্য।তবে মুসলিম নারীরা যেন বেহায়াপনার পোশাক আশাক না পরে শালীনতার পোশাকে আচ্ছাদিত হয়ে বাহির হয়। এমন এক অত্যাধুনিক যুগে নাটক – সিনেমায়, নারীদের অবস্থানটি কী হবে তা আমার পক্ষে ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভবপর হলো না।তবে এক কথায় যুগের চাহিদা অনুযায়ী নারীদের কর্মসংস্থানের প্রশ্নে শুধু একটি কথাই বলতে চাই আর সেই কথাটি হলো, বেহায়াপনা করাটি মোটেই ঠিক নয়।

(কোরানের সালাতের কথা ৮২ বার ৭৪ পৃষ্ঠা: কালান্দার মাওলানা জাহাঙ্গীর আঃ)।

দেখুন কোরান কত বিজ্ঞানময়, আর কত সুন্দর বাক্যের গঠনশৈলী। অপূর্ব কোরানের রচনাশৈলী।

– আর এফ রাসেল আহমেদ

পূর্ববর্তী পোস্টসূফির পরিচয়
পরবর্তী পোস্টজ্ঞান-প্রজ্ঞা ও আদম-ইনসানের স্বরূপ
Quranik philosophy and sufism.

এই পোস্টে একটি মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন