জীবনদর্শন নিয়ে জালালউদ্দিন রুমির বাণী সমাহার।

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी العربية العربية

জীবনদর্শন নিয়ে জালালউদ্দিন রুমির বাণী সমাহার।

মাওলানা জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ রুমি: ১২০৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বালখের খোয়ারজমীয় সম্রাজ্যে জন্মগ্রহন করেন। তিনি জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ বালখী, মাওলানা রুমি এবং মৌলভী রুমি নামে পরিচিত। তিনি ১৩শ শতাব্দির একজন কবি, সূফি, আধ্যাত্মিক, দার্শনিক, অতীন্দ্রিবাদী এবং ধর্মতাত্ত্বিক।

রুমির সাহিত্যকর্ম ও লেখালেখি বেশিরভাগই ফার্সি ভাষায় রচিত হলেও তিনি তুরকি, গ্রিক এবং আরবি ভাষায়ও রচনা করেছেন। তার লেখা জগত বিখ্যাত কিতাব ‘মসনবী’ কে ফার্সি ভাষায় লেখা সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হিসেবে গন্য করা হয়। ১২৭৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর তুরস্কের কোনিয়ায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কোনিয়ার রুম সালতানাতে তিনার সমাধি স্থান।

১. “যত বেশি নীরব হবে তত বেশি শুনতে পাবে।”

২. “জন্ম হয়েছে তোমার পাখা নিয়ে। উড়বার ক্ষমতা তোমার আছে তারপরেও খোঁড়া হয়ে আছো কেন!”

৩. “যদি আলো থাকে তোমার হৃদয়ে তাহলে ঘরে ফেরার পথ তুমি অবশ্যই খুঁজে পাবে।”

৪. “মোমবাতি হওয়া সহজ কোন কাজ নয়। আলো দেয়ার জন্য প্রথমে নিজেকেই পুড়তে হয়।”

৫. “যে মুহূর্তে তুমি তোমার সকল বাধা বিপত্তিকে স্বীকার করে নেবে, তখন থেকেই গুপ্তদ্বার তোমার জন্য উম্মুক্ত হয়ে যাবে।”

৬. “এই হচ্ছে পথ- এবং তোমার একার। অন্যেরা হয়তো তোমার সঙ্গে হাঁটবে। কিন্তু কেউই তোমার জন্য হাঁটবে না।

৭. “সবশেষে আমরা সবাই একদিন মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করবো, কিন্তু জীবনে চলার পথে সাবধান থাকবে, যেন কোন মানুষের হৃদয়ে আঘাত না করো।”

৮. “তোমার মনের ইচ্ছার অনুসরণ করতে গিয়ে বিপথে চলে যেও না। ”

৯. “যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি নিজের ভেতরের আগুন কে খুঁজে না পাবে, ততক্ষন পর্যন্ত জীবনের বসন্তে পৌঁছতে পারবে না।”

১০. “দুঃখ কষ্ট- উপহার স্বরুপ; এতে লুকায়িত আছে করুণা।”

১১. “মানব কায়া অচিন্ত্য আত্মার যন্ত্রস্বরুপ।”

১২. “এমন একটি আওয়াজ আছে, যা শব্দহীন। শুনে দেখো।”

১৩. “তোমাকে ঘিরে থাকা কালো মেঘ থেকে নিস্কৃতি লাভ করো! এরপর দেখবে তোমার নিজের আলো পূর্ণিমার চাঁদের মতই উজ্জ্বল!”

১৪. পিছু ফিরে তাকিয়ো না, আগামীকে ভয় পেওনা;
যদি তুমি অতীত কিংবা ভবিষ্যতে বাস করো, তবে তুমি এই মুহুর্ত যাপনে ব্যর্থ হবে।”

১৫. “হে আত্মা! কখনো আশাহত হয়ো না! কেননা অলৌকিকতা অদৃশ্যে বসবাস করে!”

১৬. “তুমি কি এখনও এ ব্যাপারে অবগত নও? এতো তোমারই আলো,যা দ্বারা সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড প্রজ্জ্বলিত হয়।”

১৭. “প্রত্যেক হৃদয়েরই একটি জানালা আছে। তুমি তোমার নিজের হৃদয়ের জানালা দিয়ে অন্যেরটাও দেখতে পাবে!”

১৮. “ওহে প্রেমিক! তুমি যদি চাও যে, মাওলার সঙ্গে বসিবে, তবে তুমি যে-কোনো এক আল্লাহর ওলির সম্মুখে বসিয়া যাও। যতক্ষণ আল্লাহর ওলির কাছে থাকিবে, ততক্ষণ ইয়াকিন করিবে যে, তুমি আল্লার সঙ্গেই বসে আছো।”

১৯. “নিরবতা হলো মহাসাগর। কথা হলো নদী। যখন মহাসাগর তোমাকে খুঁজছে তখন নদীর মাঝে হেটোঁনা, মহাসাগরের ডাকে সাড়া দাও।”

২০. “যখন তুমি চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন থাকবে, তখন ধৈর্য্য ধরবে। ধৈর্য্যের চাবি সুখের দরজা খুলে দেয়।”

error: অনুমতিহীন কপিকরা দণ্ডনীয় অপরাধ!