যে মন্ত্র পাঠ করিলে দেয়াল ভেদ করিয়া ওপারে দেখা যায় না।
যে মন্ত্র পাঠ করিলে দেয়াল ভেদ করিয়া ওপারে দেখা যায় না,তাহাকেই যুগে যুগে মানুষ সোনার খাঁচায় বন্দী সত্য বলিয়া পূজা করিয়াছে।
শব্দের মালা গলায় পরিয়া ভাবিয়াছে—
জ্ঞানী হইল, উচ্চারণের ধোঁয়া তুলিয়া ভাবিয়াছে—
স্রষ্টার নিকট পৌঁছাইল।
অথচ ঠোঁট নড়ে, অন্তর ঘুমায়;
জিহ্বা জ্বলে, তাহাদের চেতনা নিভিয়া থাকে।
আল্লাহর বাণী পাঠ করিয়া আল্লাহকেই শুনাইবার যে অহংকার, ইহাই মানুষের সূক্ষ্মতম অন্ধত্ব।
যিনি নীরবতার পূর্বে আছেন, তাহাকে শব্দে প্রভাবিত করিবার প্রয়াস অজ্ঞানতার পরম হাস্যরস।
সমাজ এমনই এক দীর্ঘ অভ্যাস গড়িয়া তুলছে , যেখানে মৃত বাক্য জীবিত মানুষকে শাসন করে। রন্ধ্রে রন্ধ্রে ভয়, রক্তে রক্তে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কুসংস্কার, বংশের নামে ধার করা বিশ্বাস, আর প্রশ্নহীনতার উপর দাঁড়ানো সভ্যতা।
যে দুই একজন নতুন পথের আভাস দেয়,
অন্তরের দিকে ফিরিবার ডাক দেয়,
তাহাকে তৎক্ষণাৎ নাম দেওয়া হয়—নাস্তিক, বিধর্মী, কাফের, বিপদ।
কারণ বেড়ার পালের মত জনতা সর্বদা সেই আলোকে ঘৃণা করে যাহা তাহাদের ধার করা প্রদীপ নিভাইয়া দেয়।
আদি হইতে আজ অবধি যাহারা আকাশ পাতাল ভেদ করিয়া দেখিয়াছেন,
তাহাদের কাছে কিতাব ছিল না বলিয়া নয়—
কিতাব তাহাদের কাছে অন্তিম নহে বলিয়াই।
তাহারা অক্ষরের গায়ে নয়, অক্ষরের অন্তর্গত আগুনে হাত দিয়াছেন।
“তাহারা বুঝিয়াছেন—
সত্য মুখস্থে আসে না,
সত্য উত্তরাধিকারসূত্রে মিলে না,
সত্য ভিড়ের সম্পত্তি নহে,
সত্য একাকী মানুষের অন্তর-বিপ্লব”।
যখন অন্তরচক্ষু খুলে, তখন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কেবল নক্ষত্রমালা নহে— এক বিন্দু অশ্রুতেও গ্যালাক্সির গভীরতা দেখা যায়, একটি নিঃশ্বাসেও সৃষ্টির সুর শোনা যায়।
তখন আল্লাহ দূর আসমানে নহে , তিনি চেতনার মধ্যস্থ সূক্ষ্ম উপস্থিতি।
গুটিকয়েক সত্যসন্ধানী আছে বলিয়াই
পুঁথির ফেরিওয়ালারা এখনও বাজার বসায়।
কারণ মরুভূমি মাঝে মাঝে কোনো অদৃশ্য নদীর স্মৃতিতে বাঁচিয়া থাকে।
হে পথিক,
মন্ত্রে নয়—মননে যাও,
উচ্চারণে নয়—উপলব্ধিতে যাও,
জনতার কোলাহলে নয়—নিঃসঙ্গ নীরবতায় যাও।
যে দিন নিজের মিথ্যাকে দেখিবে,
সে দিন প্রথম সত্যের মুখ দেখিবে।
– ফরহাদ ইবনে রেহান






