তুমি কি নিয়ে ভাবছো?
তুমি কি নিয়ে ভাবছো? তুমি যাহা কিছু ভাবতে থাকো সেই ভাবনাগুলোকে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা কি তোমার রয়েছে? তুমি যদি তোমার ভাবনাগুলির বিশ্লেষণ করতে পারো তবে পাপ মুক্ত হওয়া তোমার জন্য মুহুর্ত সময়ের ব্যাপার মাত্র। মানুষেরা যাহা কিছু ভাবতে থাকে তাহা যদি তাহারা বিশ্লেষণ করিতে সক্ষম হয়, তাহা হইলে মানুষেরা নিজ নিজ দোষ খুঁজিয়া তাহারা নরক হইতে মুক্তি লইয়া স্বর্গে অবস্থান করিতে পারিতো।
মানুষেরা যদি নির্জনে বসিয়া প্রতিনের ভাবনা সমূহকে বিশ্লেষণ করিয়া দেখিতে পারে, তাহা হইলে উহারা দেখিতে পাইবে প্রতিদিনের ভাবনা সমূহের অধিকাংশ ভাবনা’ই ছিলো উদ্দেশ্যবিহীন ও অর্থহীন। তাহারা দেখিতে পাইবে তাহাদের ভাবনার বিষয় ছিলো অতি জঘন্য এবং অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ। নিজ চোখে দেখিতে পাইবে উক্ত ভাবনার সাথে তাহাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ছিলোনা। মানুষেরা নিজ ভাবনা সমূহের বিশ্লেষণ করিয়াই নিজেকে প্রশ্ন করার রাস্তা উন্মুক্ত করিতে পারে।
যখন নিজেকে প্রশ্ন করার রাস্তা নিজে উন্মুক্ত করিয়া নিবে, তখন তাহার সকল প্রশ্নের উত্তর সে নিজে’ই খুব সহজ ভাবে পাইয়া যাইবে এবং অনুভব হইবে নিজের স্বচ্ছতা ও খাঁটিত্ব। এমতাবস্থায় মানুষেরা নিজেকে নতুন ভাবে জন্মাইয়া নতুন রূপে বিবর্তন করিতে সর্বোচ্চ সুযোগ পাইয়া থাকে, ঐ অবস্থাকে’ই ধর্মীয় ভাষায় গঙ্গাস্নান বা অযু করা বলা হইয়াছে, উহাকে’ই ইবাদতের পূর্বে পবিত্র হওয়াকে নির্দেশ করা হইয়াছে।
পাপ মুক্ত হওয়া মাত্র’ই মানুষের অযু বা গঙ্গাস্নান কায়েম হইয়া থাকে, এ অবস্থার পরে যাহা কিছু’ই জগতের মঙ্গলের জন্য করা হইবে তাহা’ই পূণ্য বলিয়া গণ্য করা হইয়া থাকে। পাপ মুক্ত হইয়া’ই মানুষের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ সময়, এবং পাপ মুক্ত হইয়া প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকাই হলো পবিত্রতা রক্ষা করা।
এবার মানুষ কীসের উপর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইবে? মানুষেরা এই বলিয়া প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইবে যে, জীবনের অবশিষ্ট সময়গুলোকে অন্যের অবান্তর চিন্তায় মগ্ন থাকিয়া নষ্ট হইতে দিবোনা, যে সকল ভাবনার সাথে সরাসরি আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই আমি তাহা নিয়ে ভাবিতে যাইবোনা, যে চিন্তার নিজস্বতা নেই, সেই চিন্তা আমার উপযোগী নহে।
মানুষ নিজেকে বিবর্তন করিবে এবং এই বলিয়া প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইবে যে, অন্যরা কে কী করলো, এবং কেন করলো, কীভাবে করলো এসব ভাবিয়া অযথা নিজেকে ব্যাস্ত করিয়া রাখিবোনা। মানুষকে তাকাইয়া দেখিবো কিন্তু তাহাকে আমার ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু করিবোনা, মানুষের সাথে কথা বলিবো, কিন্তু তাহাদের কথাগুলোকে আমার কথা হিসেবে দেখিতে চাইবোনা।
সহজ ভাষায় বলিতে চাই, নিজেকে চিনতে চাওয়া মানে’ই হলো নিজের ভাবনাগুলোকে বিশ্লেষণ করা, নিজেকে দেখতে চাওয়া মানে’ই নিজের উপর প্রশ্ন করার রাস্তা উন্মুক্ত করা, নিজেকে বর্তমান স্বর্গে প্রবেশ করানোর একমাত্র উপায় হলো অবান্তর ভাবনাগুলোর পায়ে বেড়ী পরিয়ে দেয়া।
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






