হোমপেজ বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পরিচালনা-পদ্ধতি পবিত্র শবে মেরাজ সম্পর্কে | শাহসূফী হযরত ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেব

পবিত্র শবে মেরাজ সম্পর্কে | শাহসূফী হযরত ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেব

পবিত্র শবে মেরাজ । শাহসূফী হযরত ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেব

পবিত্র শবে মেরাজঃ

রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত রাত্রকে “শবে মেরাজ” বলা হয়। শবে মেরাজ বিশেষ তাৎপর্যবহ রাত। এই বিশেষ রাত্রিতেই। রাহমাতুল্লিল আলামীন, সরােয়ারে কায়েনাত, মােফাখখারে মওজুদাত, হযরত আহমদ মুজতবা, মােহাম্মদ মােস্তফা (সাঃ) মহান খােদাতায়ালার আহবানে জড় জগত, নূরের জগত ও সেফাতের জগত পার হইয়া শান-শয়ুনাত জগতের পরপারে হােব্বে সেরফা ও মাবুদিয়াতে সেরফা পর্যন্ত পৌছান এবং আল্লাহর নিছক জাতের নিবিড় সান্নিধ্য লাভ করেন, পবিত্র জাতের বর্ণনাতীত দর্শন লাভ করেন এবং খােদাপ্রাপ্তিতত্ত্বজ্ঞানের পরিপূর্ণতা অর্জন করেন।

খােদাতায়ালা তাহার পেয়ারা হাবিবকে নিজ জাতের সান্নিধ্যে লইয়া শুধু যে হাস্যমুখী তাজাল্লা দান করেন তাহা নহে-তিনি তাহার বন্ধুর। সহিত গুপ্তালাপ করেন; বন্ধুকে সৃষ্টি জগতের সবকিছু তথা আরশ, কুরছি, লওহ-কলম বেহেশত-দোযখ, সাততলা আসমান হইতে সাততলা জমীনের নীচে তাহাতাছ ছারা পর্যন্ত সবকিছু দেখান। দয়াল নবী (সাঃ) সৃষ্টিতত্ত্বজ্ঞান ও স্রষ্টাতত্ত্বজ্ঞানের পরিপূর্ণতা অর্জন করিয়া, সমুদয় সৃষ্টি জগত দর্শন করিয়া, খােদাতায়ালার সাথে গােপন বাক্যালাপ করিয়া, সর্বোপরি খােদাতায়ালার পবিত্র জাতের দর্শন লাভ করিয়া অতিশয় খুশী হন। প্রীত হন। এই রাত্রিতে তিনি যে নেয়ামত পান, তাহা তদপূর্বে কোন পয়গম্বরই পান নাই।

উক্তরূপ বহুবিধ নেয়ামতে ভূষিত করিয়া মহান খােদাতায়ালা তাহার পেয়ারা হাবিবকে ছালামতে দুনিয়াতে পৌছাইয়া দেন। কিন্তু দুনিয়াতে আসিয়া উম্মত প্রেমিক রাসূলে করিম (সাঃ) অঝরে কাঁদিতে থাকেন। আল্লাহপাক তদীয় পেয়ারা হাবিবকে জিজ্ঞাসা করেন, “হে বন্ধু, আপনি কাদেন কেন? আপনাকে যে নেয়ামত দেওয়া হইলাে ইতিপূর্বে। কাহাকেও এই নেয়ামত দেওয়া হয় নাই। এমন কিছু নাই-যাহা আপনাকে দেখানাে হয় নাই। এমন কোন কথা নাই-যাহা আপনাকে বলা হয় নাই। তথাপিও আপনি কোন দুঃখে কাঁদিতেছেন?”

রাসূলে পাক (সাঃ) তখন বলিলেন, “হে খােদাতায়ালা! তুমি আমাকে দয়া করিয়া যে অপূর্ব নেয়ামত দান করিয়াছ, তাহাতে আমি এতই। আনন্দিত যে তাহা প্রকাশের ভাষা নাই। তথাপিও আমি কাঁদিতেছি এই কারণে যে, যে নেয়ামত তুমি আমাকে দান করিলে সে মহামূল্য। নেয়ামত প্রাপ্তি হইতে আমার উম্মতেরাতে বঞ্চিত হবে। যে স্বাদ আমি পাইলাম-তাহা হইতে আমার উম্মতেরাতো বাদ পড়িবে। আমি কাদিতেছি সেই দুঃখে। ইহা শুনিয়া আল্লাহতায়ালা দয়াল নবী (সাঃ) কে বলিলেন, “হে হাবীব! আপনি কাদিবেন না। যে নেয়ামত আমি আপনাকে দিলাম, যে মেরাজ বা দিদার দানে আপনাকে সম্মানিত করা হইল; সেই মেরাজ বা দিদার আমি আপনার উম্মতের জন্য দিনে পাচ বার নির্ধারণ করিলাম।

প্রতি দিন পাচ ওয়াক্ত নামাজে আপনার উম্মতেরা এই মেরাজ লাভ করিবে।” এই সংবাদে রাসূলে পাক (সাঃ) অতিশয় খুশী হইলেন এবং আপন উম্মতকুলকে সুসংবাদ প্রদান করিলেন। বলিলেন, “আসসালাতু মেরাজুল মােমেনীন।” অর্থাৎ সালাত বা নামাজ মােমেনের জন্য মেরাজ। রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাত্রিতে উল্লেখিত মেরাজের ঘটনা ঘটে। তাই এই রজনী বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এই রাতের ইবাদতও বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে প্রতিবছর শবে-মেরাজের ধর্মীয় অনুষ্ঠান মহাধুমধামের সহিত পালিত হয় এবং আমার অবর্তমানেও এই ধারা অব্যাহত থাকিবে।

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পরিচালনা-পদ্ধতি (পৃষ্ঠা-৯০,৯১ হতে)

→ বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পরিচালনা-পদ্ধতির সব গুলো অধ্যায়

→ দয়াল-নবী (সাঃ) এর খাছ হােব্ব এশক মহব্বতের ফয়েজ।