পৃথিবীতে নবী ও রাসূল (আঃ) এবং মুজাদ্দেদ বা সংস্কারক প্রেরণের উদ্দেশ্যঃ

পৃথিবীতে নবী ও রাসূল (আঃ) এবং মুজাদ্দেদ বা সংস্কারক প্রেরণের উদ্দেশ্যঃ
ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी العربية العربية

(বিষয় বস্ত: পূর্ববর্তী প্রধান প্রধান ওলী-আল্লাহগণের ভবিষ্যদ্বাণীর ভিত্তিতে তরিকতের ইমাম শায়খ আহমদ সেরহেন্দী হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণ।)

পৃথিবীতে নবী ও রাসূল (আঃ) এবং মুজাদ্দেদ বা সংস্কারক প্রেরণের উদ্দেশ্যঃ

আল্লাহপাক মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছেন তাহার পরিচয় গ্রহীতা ও প্রেম গ্রহীতা হিসেবে। মানুষ আল্লাহপাকের নাম ও গুণাবলীর প্রকাশস্থল হইবে-ইহাও মানব সৃষ্টির এক মহতী উদ্দেশ্য। মানুষকে সৃষ্টি করিয়া আল্লাহপাক দুনিয়ায় পাঠাইয়া তদীয় প্রতিনিধিত্ব দান করিয়াছেন, আরও দান করিয়াছেন ১৮০০০ আলম-এর উপরে মানুষের ছর্দারী করিবার ক্ষমতা।

কিন্তু দুনিয়ায় আসিয়া মানুষ বেমালুম ভুলিয়া গিয়াছে তাহার সৃষ্টির উদ্দেশ্য, ভুলিয়া গিয়াছে পরিচয় গ্রহণের কথা; বিস্মৃত হইয়াছে আলমে আরওয়াতে দেওয়া ওয়াদার কথা। পার্থিব মোহ, শয়তানের কু-মন্ত্রনা ও নাফসের ধোকায় মানুষ অন্ধ।

সেই ধোকায় পড়িয়া মানুষ পাপাচার ও কুসংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়; আল্লাহকে ভুলিয়া যায়; ভুলিয়া যায় তাহার আদি আবাসস্থলের কথা। কিন্তু আল্লাহ পাক মানুষকে ভালবাসেন; প্রেমের কারণেই তিনি মানব সৃষ্টি করিয়াছেন। কাজেই এই মানুষ পথভ্রষ্ট হউক, শয়তানী কুহকে ও নাফসের ফেরেবে পড়িয়া সে ধ্বংস হউক-ইহা দয়াময় খোদাতায়ালা চান না।

তাই মানুষকে পাপাচার, অসত্য ও কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে উদ্ধারের জন্য, গোমরাহী ও ভ্রষ্টতা থেকে মুক্তি দানের জন্য, সত্যের নূর প্রদানের জন্য অর্থাৎ নাফসের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করিয়া নিজ নাম ও গুণাবলীর প্রকাশস্থলের যোগ্যতা প্রদানের জন্য; যখনই প্রয়োজন বোধ করিয়াছেন, তখনই নবী বা পয়গম্বর
প্রেরণ করিয়াছেন।

এই ভাবে যুগে যুগে এক লক্ষ্য চব্বিশ হাজার, মতান্তরে দুই লক্ষ্য ২৪ হাজার পয়গম্বর প্রেরণ করিয়াছেন, কাহারো কাহারো নিকট দিয়াছেন পথ চলার নিয়মপদ্ধতি সম্মলিত বিধান পুস্তক বা আসমানী কিতাব। সর্বশেষে আগমন করেন নবীকূল শিরোমণি, সারওয়ারে কায়েনাত, মোফাখ্খারে মওজুদাত হযরত আহমদ মুজতবা মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)। শেষ নবী ও রাসূল (সাঃ) এর উপর সম্পন্ন হয় মানবজাতি ও অন্যান্য সৃষ্টির প্রতি আল্লাহপ্রদত্ত যাবতীয় নেয়ামতের পরিপূর্ণতা প্রদান।

রাসূলে পাক (সাঃ) এর পর আর কোন নবী আসিবেন না। তাহা হইলে কে আল্লাহর দীন হেফাজত করিবে? আল্লাহপাকই সেই ব্যবস্থা করেন। নিজ মনোনীত ধর্মকে জীবিত রাখিবার জন্য; গোমরাহী, শেরেকী ও বেদাতীর বিষাক্ত ছোবল থেকে ইসলামকে হেফাজতের জন্য প্রত্যেক শতাব্দিতেই মুজাদ্দেদ বা সংস্কারক প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। রাসূলে পাক (সাঃ) এর পর থেকে আজ পর্যন্ত মুজাদ্দেদ বা ধর্মের সংস্কারক আগমনের ধারা অব্যাহত রহিয়াছে।

কেয়ামত পর্যন্ত এই ধারা চালু থাকিবে। রাসূলে পাক (সাঃ) এর পরে সমস্ত উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে সাহাবাদের দল শ্রেষ্ঠতম। সেই দলের শ্রেষ্ঠতম পুরূষ হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) ছাহেব। সাহাবাদের যুগের পর হইতে আজ অবধি যত সাধক, যত মুজাদ্দেদ বা সংস্কারক, যত ওলীআল্লাহ জগতের বুকে আবির্ভূত হইয়াছেন, তাঁহাদের সকলের মধ্যে ইমামে রাব্বানী, কাইউমে জামানী, গাউছে ছামদানী, হযরত শায়খ আহমদ ছেরহেন্দি (রাঃ) ছাহেবের আসন বা মর্যাদা শীর্ষে।

কেন তিনি শ্রেষ্ঠতম ওলী? কোন্ কোন্ কর্মকান্ডের ভিত্তিতে তিনি এমন উচ আসন লাভ করিয়াছেন? সেই বিষয়ে মুজাদ্দেদীয়া তরিকার প্রত্যেক অনুসরণকারীরই কিছু না কিছু জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এই অধ্যায়ে তাঁহার শ্রেষ্ঠত্বের কিঞ্চিত পরিচয় পাওয়া যাইবে।

খোদাপ্রাপ্তি জ্ঞানের আলোকে শাহ্সূফী হযরত ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত-৮ এর “মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ও খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ)” কিতাব পৃষ্ঠা: ১১ ও ১২ হতে তুলে ধরা হয়েছে।

আরো পড়ুন:

→ নসিহত: মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ও খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) এর সব গুলো অধ্যায়

→ পীরের প্রতি মুরিদের আদব সর্ম্পকে মোজাদ্দেদ আলফেছানী রা: এর উপদেশ

→ সংক্ষিপ্ত ওজিফা সবগুলো পর্ব

→ আদাবুল মুরিদের সবগুলা নসিহত একসাথে

→ বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পরিচালনা-পদ্ধতির সব গুলো অধ্যায়

error: অনুমতিহীন কপিকরা দণ্ডনীয় অপরাধ!