হোমপেজ ইসলামের ইতিহাস রাসূল (সাঃ) এর সঙ্গে সাহাবী জাবেরের অমর প্রেমের ইতিহাস।

রাসূল (সাঃ) এর সঙ্গে সাহাবী জাবেরের অমর প্রেমের ইতিহাস।

রাসূল (সাঃ) এর সঙ্গে সাহাবী জাবেরের অমর প্রেমের ইতিহাস।

(পোস্টটি পড়ে অঝোর নয়নে কাঁদেন)।

হযরত রাসূল পাক (সাঃ) এর সাথে হযরত জাবের (রাঃ) কি এমন প্রেম করেছিলেন? যার কারনে অন্যতম বিখ্যাত সাহাবীতে পরিণত হয়েছিলেন এবং ইতিহাসে চির অমর হয়ে আছেন।

একবার বিশিষ্ট সাহাবী জাবের (রাঃ) রাসূল (সাঃ) এর কাছে আরজ করলেন, ইয়া রাসূল আল্লাহ! দয়া করে এই গোলামের বাড়ীতে দাওয়াত কবুল করে নিন। রাসূল (সাঃ) তার দাওয়াত কবুল করে নিলেন। জাবের (রাঃ) খুশীতে আত্মহারা হয়ে চলে গেলেন। বাড়ীতে গিয়ে স্ত্রী ও পুত্রদের খোশ- খবর দিলেন – আজ আমাদের ভাগ্য খুলে গেছে, আল্লাহর রাসূল দয়া করে আমাদের বাড়ীতে তশরীফ নিবেন।

এর চেয়ে আনন্দের ব্যাপার আমাদের জীবনে আর কি হতে পারে! তিনি তাদের নিয়ে মহানন্দে রাসূল (সাঃ) কে আপ্যায়ন করার আয়োজনে লেগে গেলেন। বাড়ি -ঘর পরিস্কার -পরিচ্ছন্ন করে সুন্দরভাবে সাজালেন। সুগন্ধি দ্রব্য ছিটিয়ে ঘরকে সুবাসিত করলেন এবং ঘরে পালিত খাসি জবাই করলেন।

বড় ছেলে আবদুল্লাহকে নিয়ে খাসি জবাই করে নিজ হাতে তার চামড়া ছাড়িয়ে সুন্দর করে মাংস টুকরো টুকরো করে নিলেন। অতঃপর স্ত্রীর কাছে মাংস নিয়ে বললেন, যত্ন করে মাংসের টুকরোগুলো ভুনা করে নাও।

স্ত্রীকে এ কথা বলে জাবের (রাঃ) বাড়ি -ঘর তদারক করতে থাকলেন, কোথাও কোন কাজ বাকি রয়ে গেল কিনা। মাঝে মাঝে রান্না ঘরে গিয়ে দেখেন – রান্না কতদূর হয়েছে; আবার বাড়ীর সামনের রাস্তায় গিয়ে দেখেন – রাসূল (সাঃ) আসছেন কিনা।

ইতিমধ্যে জাবের (রাঃ) এর ছোট ছেলে ঘুম থেকে উঠে খাসি তালাশ করতে লাগলো। তারা দুই ভাই মিলে খাসীটিকে আদর- যত্ন করে লালন-পালন করতো। বড় ভাই তাকে জানালো-নবীজীর মেহমানদারী করার জন্য খাসীটিকে জবাই করা হয়েছে।

ছোট ভাই বায়না ধরলো – খাসি কিভাবে জবাই করে আমাকে তা দেখাও। অগত্যা বড় ভাই ছুরি হাতে করে ঘরের পেছনে গিয়ে বললো, এখানে খাসি জবাই করা হয়েছে। ছোট ভাই জানতে চাইলো, কিভাবে? বর্ণনা করে বোঝাতে না পেরে অবশেষে বড় ভাই বললো, তাহলে তুমি মাটিতে শুয়ে পড়। আমি তোমাকে দেখাই।

ছোট ভাই মাটিতে শোয়ার পর বড় ভাই তার গলায় ছুরি চালিয়ে জবাই করার নমুনা দেখাতে গিয়ে ছোট ভাইকে সত্যি সত্যি জবাই করে ফেললো। বড় ভাই যখন দেখলো -ছোট ভাইয়ের গলা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে, সে ছটফট করতে করতে এক সময় নিস্তেজ হয়ে গেছে, তখন বুঝলো ব্যাপারটি কি ঘটেছে। আতংকিত হয়ে সে নিকটবর্তী এক খেজুর গাছের চূড়ায় উঠে আত্মগোপন করে রইলো।

এদিকে জাবের (রাঃ) পুত্রদের খোঁজে বাড়ির পেছনে এসে ছোট ছেলের অবস্থা দেখে থমকে গেলেন। অতঃপর তাকে বুকে করে স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললেন, তাড়াতাড়ি একটি কম্বল নিয়ে এসো, বাচ্চাটিকে শুইয়ে দিই। স্ত্রী রক্তমাখা সন্তানের লাশ দেখে চিৎকার করে কাদতে লাগলেন।

কিন্তু স্বামী তাকে সান্তনা দিয়ে বললেন, আজ আমাদের শোক প্রকাশ করার দিন নয়, আমাদের দুঃখ দেখলে নবীজীও দুঃখিত হবেন। অতএব, ধৈর্য ধারণ করো। মুখে হাসি ফুটিয়ে তোল। তারপর তারা দু’জনে মিলে ছোট ছেলেকে কম্বলে মুড়ে রান্নাঘরের পেছনে রেখে আসলেন। স্ত্রী রান্না কাজে মন দিলেন।

জাবের (রাঃ) বের হলেন বড় ছেলে আবদুল্লাহর খোঁজে। বাড়ির পেছনে গিয়ে ছেলের নাম ধরে জোরে জোরে হাঁক দিলেন। গাছের উপর আত্মগোপন করে বড় ছেলে সব ঘটনা খেয়াল করছিল, আর ভয়ে কাঁপছিল।

পিতার ডাক শুনে ভাবলো, এখন পালাতে না পারলে আব্বার হাতে ধরা পড়তে হবে। ধরা পড়লে আর রক্ষা থাকবে না। পালানোর উদ্দেশ্যে গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ে পাথরের সাথে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সেও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো। পিতা কাছে গিয়ে গায়ে হাত দিয়ে দেখেন – আবদুল্লাহর দেহে প্রাণের স্পন্দন নেই! বড় ছেলেকে কোলে তুলে তিনি বাড়ির ভিতরে আসলেন।

স্ত্রীকে বললেন, বউ দেখ আমাদের আবদুল্লাহর অবস্থা! তুমি তাড়াতাড়ি আর একটি কম্বল নিয়ে এসো। বড় ছেলের অবস্থা দেখে মাতা পুনরায় আর্তনাদ করে উঠলেন। স্বামী তাকে পুনরায় সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ধৈর্য ধরো। আজ আমাদের দুঃখ প্রকাশের দিন নয়। আজ আমাদের পরম আনন্দের দিন। আজ যে আমাদের ঘরে রাহমাতাল্লিল আলামীন আসবে।

তারপর দু’জনে মিলে বড় ছেলের লাশও কম্বলে মুড়ে ছোট ছেলের লাশের পাশে রাখলেন। স্বামী – স্ত্রী তাদের চোখের পানি মুছে মুখে হাসি ফুটিয়ে তুললেন। যাঁর নুরে সমগ্র মাখলুকাত পয়দা, সেই রাহমাতাল্লিল আলামীনের সামনে অশ্রু বিসর্জন দিলে তিনি দুঃখ পাবেন। তাই আনন্দিত হয়ে তারা নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।

এদিকে জাবের (রাঃ) বাড়ির সামনে দাড়িয়ে নবীজীর আগমনের অপেক্ষা করতে লাগলেন। অল্প সময়ের মধ্যে নবীজীকে উটের পিঠে করে আসতে দেখা গেলো। জাবের (রাঃ) আনন্দে আত্মহারা হয়ে দৌড়ে গিয়ে স্ত্রীকে নবীজীর আগমনের সংবাদ দিলেন। পুনরায় তিনি দৌড়ে বাড়ীর সামনে চলে এলেন। নবীজীর উটের কাছে গিয়ে তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে আনলেন।

নবীজী জাবের (রাঃ) এর ঘরের সামনে উট থামিয়ে তার ডান পা মোবারক মাটিতে রাখলেন, বাম পা মোবারক এখনো নামতে বাকী। এমন সময় আল্লাহ বললেন, “হে আমার পিয়ারা হাবীব, আমার দোস্ত আপনি জাবেরের ছেলেদের সংগে না নিয়ে খানা খাবেন না।

অতঃপর নবীজী সাহাবায়ে কেরামদের নিয়ে জাবের (রাঃ) এর ঘরে তশরীফ নিলেন। তাদের সামনে জাবের রাঃ দস্তর খানা বিছিয়ে দিলেন। তার স্ত্রী খাবার বেড়ে দিলেন আর তিনি সেগুলো এনে মেহমানদের সামনে হাজির করলেন। তারপর তিনি নবীজীকে আরজ করলেন, ইয়া রাসূল আল্লাহ! খাবার খাওয়া শুরু করুন।

তখন নবীজী বললেন, হে জাবের! তোমার ছেলেরা কোথায়? তাদেরকে ডাক। জাবের (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল আল্লাহ, ইয়া হাবীব আল্লাহ! আপনি দয়া করে খেয়ে নিন। ছেলেরা এখন ঘুমিয়ে আছে, তাদেরকে আমি পরে ডাকবো। রাসূল (রাঃ) পুনরায় বললেন, তোমার ছেলেদের ডেকে নিয়ে এসো। তাদেরকে সাথে নিয়ে খানা খাবো।

জাবের (রাঃ) ও তার স্ত্রী হাত জোড় করে পুনরায় আরজ করলেন, ইয়া রাসূল আল্লাহ, ইয়া হাবীব আল্লাহ! আপনি খানা খেয়ে নিন। তারা এখন ঘুমিয়ে আছে। আমি তাদের পরে ডেকে দিব। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, হে জাবের! এইমাত্র আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে গেলেন, আমি যেন তোমার ছেলেদেরকে সাথে নিয়ে খানা খাই।

নবীজীর একথা শুনে জাবের (রাঃ) ও তার স্ত্রী আর ধৈর্য্য ধারণ করতে পারলেন না। তারা হাউমাউ করে কেঁদে বললেন, ইয়া রাসূল আল্লাহ! ছেলেদের কোথায় পাব? তারা তো এই জগত বেচে নেই। তারা চিরতরে ঘুমিয়ে গেছে। নবীজী জানতে চাইলেন, তাদের কি হয়েছে? তখন তারা নবীজীকে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন। তাদের দুঃখের কাহিনী শুনে সাহাবীরা কাঁদতে শুরু করলেন। রাসূল (সাঃ) এর চোখে পানি এসে গেল। নবীজীর প্রেমিক জাবের (রাঃ) ও তার স্ত্রীর ঘটনা শুনে অনেকে চিল্লাচিল্লি করে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে থাকেন।

তারপর নবীজী উঠে দাড়িয়ে জাবের (রাঃ) কে বললেন, তাদেরকে কোথায় রেখেছো, সেখানে আমাকে নিয়ে চলো। জাবের (রাঃ) নবীজীকে রান্না ঘরের পেছনে নিয়ে গেলেন। আল্লাহর নবী কম্বলাবৃত দুই ছেলের মৃতদেহের উপর তার দুই হাত মোবারক রেখে বললেন, হে জাবেরের ছেলেরা! তোমরা কি দেখ না, তোমাদের আব্বা-আম্মা আল্লাহর নবীকে কত ভালোবাসেন! আমি মনে কষ্ট পাবো বলে তোমাদের কথা তারা আমাকে জানায়নি। আমি তোমাদের ডাকতেছি, তোমরা শীঘ্রই ওঠ। আমি তোমাদের সঙ্গে করে খানা খাবো।

একথা বলে নবীজী যখন তাদের দেহ থেকে কম্বল সরিয়ে দিলেন, সঙ্গে সঙ্গে তারা দু’জন উঠে নবীজীর কদম মোবারক জড়িয়ে ধরলো। তখন নবীজীর প্রেমে কেউ সুস্হির ছিলেন না। সবাই কাঁদতে কাঁদতে বেহুশের মতো হয়ে গেলেন।

পরিস্হিতি শান্ত হলে নবীজী জাবের (রাঃ) এর দুই ছেলেকে নিয়ে খানা খেতে বসলেন। সবাইকে বললেন, মাংস খাবার পর হাড় চিবিয়ে না খেয়ে তা জমা করে রাখার জন্যে।

এভাবে সবার খাওয়া শেষ হলে নবীজী তার পবিত্র হাত খাসীর হাড়ের উপর রেখে বললেন, ওহে জাবেরের খাসী! তুমি কি দেখো না তোমার মনিব আমাকে কতখানি ভালোবাসেন? তুমি পুনরায় তোমার মনিবের হয়ে যাও। নবীজী এ কথা বলার পর খাসি জিন্দা হয়ে সামনে দাড়িয়ে গেলো। পরবর্তীতে রাসূল (সাঃ) এর খাসির দেওয়া বরকতে জাবের (রাঃ) এর সংসারে অভাব অনটন দুর হয়ে গিয়েছিল।

সূত্র: রাহামাতাল্লিল আলামিনের গৌরবময় জীবনগাথা।

নিবেদক: অধম পাপী মোজাম্মেল পাগলা।