হোমপেজ মাওলা আলী (আঃ) প্রসঙ্গ মাওলা আলী (আ:)-এর শানে চল্লিশটি হাদীস: পর্ব-১

মাওলা আলী (আ:)-এর শানে চল্লিশটি হাদীস: পর্ব-১

মাওলা আলী (আ:)-এর শানে চল্লিশটি হাদীস

পর্ব-১

১//
রাসুল (সা.) আলী (আ.)-এর কাঁধে হাত রেখে উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করলেন,
“এই আলী সৎ কর্মশীলদের ইমাম, অন্যায়কারীদের হন্তা, যে তাঁকে সাহায্য করবে সে সাফাল্য লাভ করবে
(সাহায্য প্রাপ্ত হবে) এবং যে তাঁকে হীন করার চেষ্টা করবে সে নিজেই হীন হবে।”

হাদীসটি হাকিম নিশাবুরী তাঁর ‘মুসতাদরাক’ গ্রন্থের ৩য় খণ্ডের ১২৯পৃষ্ঠায় জাবের বিন আব্দুল্লাহ্ আনসারী হতে বর্ণনা করেছেন।

(টীকা১) অতঃপর তিনি বলেছেন, “এই হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে তদুপরি বুখারী ও মুসলিম তা বর্ণনা করেন নি।”

(টীকা ১) কানযুল উম্মালের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ১৫৩ পৃষ্ঠায় ২৫২৭ নং হাদীস; সা’লাবী তাঁর ‘তাফসীরে কাবীর’ গ্রন্থে হযরত আবু যর হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

– আল মুরাজায়াত (পত্রালাপ), পৃষ্ঠা-২০১,
– আল্লামাহ্ সাইয়্যেদ আব্দুল হুসাইন শারাফুদ্দীন আল মুসাভী

২//
নবী (সা.) বলেছেন, “আলী সম্পর্কে আমার প্রতি তিনটি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে:

“নিশ্চয় সে মুসলমানদের নেতা, মুত্তাকীদের ইমাম এবং নূরানী ও শুভ্র মুখমণ্ডের অধিকারীদের সর্দার।”

হাকীম তাঁর ‘মুসতাদরাক’ গ্রন্থের ৩য় খণ্ডের ১৩৮ পৃষ্ঠায় হাদীসটি এনেছেন (২টীকা) ও বলেছেন, “হাদীসটি সনদের দিক হতে বিশুদ্ধ কিন্তু বুখারী ও মুসলিম তা বর্ণনা করেন নি।”

৩//
নবী (সা.) বলেছেন, “আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে যে, আলী মুসলমানদের নেতা, মুত্তাকীদের অভিভাবক এবং শুভ্র ও উজ্জ্বল কপালের অধিকারীদের (সৌভাগ্যবানদের) সর্দার।” ইবনে নাজ্জার (৩ টীকা) ও অন্যান্য সুনাম লেখকগণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

টীকা ২) বারুদী, ইবনে কানে, আবু নাঈম, বাযযার এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘কানযুল উম্মাল’ গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ১৭৫ পৃষ্ঠায় ২৬২৮ নং হাদীস হিসেবে এটি এসেছে।

কানযুল উম্মাল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৭৫পৃষ্ঠা, ২৬৩০ নং হাদীস।

৪//
নবী (সা.) হযরত আলীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন,
“হে মুসলমানদের নেতা ও মুত্তাকীদের ইমাম! তোমাকে সাধুবাদ।” আবু নাঈম তাঁর ‘হুলইয়াতুল আউলিয়া’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

[ইবনে আবিল হাদীদ প্রণীত ‘শারহে নাহজুল বালাঘা’ ২য় খণ্ড, ৪৫০ পৃষ্ঠা, ১১ নং হাদীস। কানযুল উম্মাল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৭৫ পৃষ্ঠা, ১৬২৭ নং হাদীস।]

৫//
একদিন রাসুল (সা.) ঘোষণা করলেন, “প্রথম যে ব্যক্তি এ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে সে মুত্তাকীদের ইমাম, মুসলমানদের নেতা, দীনের মধুমক্ষিকা (সংরক্ষণকারী), সর্বশেষ নবীর প্রতিনিধি ও উজ্জ্বল মুখমণ্ডলের অধিকারীদের সর্দার।” তখন আলী ঐ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করলে নবী(সা.) তাঁকে এ সুসংবাদ দানের উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে কোলাকুলি করলেন ও তাঁর কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, “তুমি আমার ঋণ পরিশোধ করবে, আমার বাণী মানুষের নিকট পৌঁছে দেবে, যে বিষয়ে তারা মতদ্বৈততা করবে তুমি তা ব্যাখ্যা করে বোঝাবে।

[ আবু নাঈম তাঁর ‘ হুলইয়াতুল আউলিয়া’ গ্রন্থে আনাস হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবিল হাদীদের ‘শারহে নাহজুল বালাঘাহ’ গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ৪৫০ পৃষ্ঠায় ৯ নং হাদীস]

৬//
নবী (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ আমার নিকট আলীকে এভাবে বর্ণনা করেছেন- আলী হেদায়েতের ধ্বজাধারী, আমার আউলিয়া অর্থাৎ বন্ধুদের ইমাম, আমার আনুগত্যকারীদের আলোকবর্তিকা এবং সে এমন এক আদর্শ মুত্তাকীদের উচিত অপরিহার্যরূপে যার পদাঙ্কনুবর্তী হওয়া।”

লক্ষ করুন এই ছয়টি সহীহ হাদীস তাঁর ইমামত ও আনুগত্যের অপরিহার্যতাকে কিরূপে সুস্পষ্ট করছে! তাঁর ওপর সালাম বর্ষিত হোক।

[ আবু নাঈম তাঁর ‘হুলইয়াতুল আউলিয়া’ গ্রন্থে আবু বারজা আসলামী এবং আনাস হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবিল হাদীদের নাহজুল বালাঘাহর ব্যাখ্যা গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ৪৪৯ পৃষ্ঠায় ৩য় হাদীস হিসেবে এটি এসেছে।]

৭//
নবী (সা.) আলীর প্রতি ইশারা করে বলেন, “এই প্রথম ব্যক্তি যে আমার প্রতি ঈমান এনেছে ও প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সে কিয়ামতে আমার সঙ্গে হাত মিলাবে, সে সিদ্দীকে আকবর ও ফারুক ( এই উম্মতের সত্যপন্থী ও অসত্যপন্থীদের মধ্যে পার্থক্যকারী), সে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সীমারেখা টানবে এবং সে মুমিনদের সংরক্ষণকারী।”

[ তাবরানী তাঁর ‘কাবীর’ গ্রন্থে হযরত সালমান ও আবু যর হতে এবং বায়হাকী তাঁর সুনান গ্রন্থে, ইবনে আদী তাঁর ‘কামীল’ গ্রন্থে হুযাইফা হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কানযুল উম্মালের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ১৫৬ পৃষ্ঠায় ২৬০৮ নং হাদীস হিসেবে এটি এসেছে।]

৮//
নবী ( সা.) বলেছেন, “ হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি চাও তোমাদের আমি এমন বিষয়ের প্রতি নির্দেশনা দেব যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো গোমরাহ ও বিপথগামী হবে না? সেটি হলো আলী। আমাকে তোমরা যেরূপ ভালবাস তাকেও সেরূপ ভালবাস। আমাকে যেরূপ শ্রদ্ধা কর তাকেও সেরূপ শ্রদ্ধা ও সম্মান কর এবং আমি তোমাদের যা বলছি তা আল্লাহ জিবরাঈলের মাধ্যমে আমাকে বলতে নির্দেশ দিয়েছেন।”

[ তাবরানী তাঁর ‘কাবীর’ গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কানযুল উম্মাল ৬ষ্ঠ খণ্ডের ১৭৫ পৃষ্ঠায় ২৬২৮ নং হাদীস। ইবনে আবিল হাদীদের ‘শারহে নাহজুল বালাগাহ’ গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ৪৫০ পৃষ্ঠায় ১০ নং হাদীস হিসেবে এসেছে। ]

৯//
নবী (সা.) বলেছেন, “আমি জ্ঞানের শহর ও আলী (আ.) তার দ্বার এবং যে কেউ শহরে প্রবেশ করতে চাইলে দ্বার দিয়েই প্রবেশ করবে।”

[ তাবরানী তাঁর ‘কাবীর’ গ্রন্থে এবং আল্লামাহ্ সয়ূতী তাঁর ‘জামেয়ুস্ সাগীর’ গ্রন্থে ১০৭ পৃষ্ঠায় ইবনে আব্বাস হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকীম নিশাবুরী তাঁর ‘মুসতাদরাক’ গ্রন্থের ৩য় খণ্ডে ২২৬ পৃষ্ঠায় ‘মানাকিবে আলী’ অধ্যায় দু’টি সহীহ সনদে- একটি ইবনে আব্বাস হতে ও অপরটি জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সপক্ষে সুস্পষ্ট দলিল উপস্থাপন করেছেন। ইমাম আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সিদ্দীক মাগরেবী( কায়রোর অধিবাসী) এই হাদীসটি যে বিশুদ্ধ তা প্রমাণের জন্য ‘ফাতহুল মুলকিল আলী বি সিহহাতী বাবি মাদীনাতুল ইলমি আলী’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। গবেষকদের জন্য এ মূল্যবান গ্রন্থটি অধ্যয়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়।]

১০//
নবী (সা.) বলেছেন, “আমি প্রজ্ঞার ঘর আলী তার দরজা।”

[ ইবনে জারির ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুত্তাকী হিন্দী তাঁর ‘কানযুল উম্মাল’ গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৪০১ পৃষ্ঠায় হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, “ইবনে জারির বলেছেন: এই হাদীসটি আমাদের দৃষ্টিতে সহীহ সনদে বর্ণিত…” এবং জালালুদ্দিন সুয়ূতী ‘ জামেয়ুল জাওয়ামেহ্’ ও ‘ জামেয়ুস সাগীর’ গ্রন্থে তিরমিযী হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। জামেয়ুস্ সাগীর, ১ম খণ্ড, ১৭০ পৃষ্ঠা।]

চলবে…

নিবেদক- Sheikh Sabir Ali

– মাওলা আলীর শানে চল্লিশটি হাদীস- সবগুলো পর্ব