হোম আহলে বায়াত (পাকপাঞ্জাতন) মাওলা আলী (আঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ

মাওলা আলী (আঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ

মাওলা আলী (আঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ

জেহাদ এবং যুদ্ধের মাঝে আকাশ- পাতাল ব্যবধান। ইতিহাস হতে দেখতে পাই, অনেকে যুদ্ধকে ফতোয়া দিয়ে জেহাদ নাম দেওয়া হয়েছে, আবার অনেকে যুদ্ধ বলছেন। মাওলা আলি আঃ এবং আমির মোয়াবিয়ার মধ্যে যে ভয়াবহ সিফফিনের যুদ্ধটি হয়েছিল উহাতে উভয় পক্ষেই মহানবীর সাহাবারা ছিলেন। তবে বেশিভাগ ইতিহাসবিদ এবং ইসলাম গবেষক আলি আঃ পক্ষটিকেই সমর্থন করেছেন। কারণ এই যুদ্ধে মহানবীর জুব্বা মোবারক পাওয়া তাবেয়িন হযরত ওয়ায়েস করণি মাওলা আলি আ: এর পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করে দ্বিখণ্ডিত হয়েছিলেন। মাওলা আলি আঃ এর পক্ষে যুদ্ধ করে আসহাবে সুফ্ফার জলিল কদরের সাহাবা এবং বহু হাদিস বর্ণনাকারী হযরত আবু হুরাইরাও শহিদ হয়েছেন।

এ রকমভাবে অনেক সাহাবা আলি আঃ এর পক্ষে যুদ্ধ করে শহিদ শাহাদাত বরণ করেছেন।

যদিও মহানবী বলেছেন-

“যে মাওলা আলির বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে সে মহানবীর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে, আর যে মহানবীর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে সে আল্লাহর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে।”

মহানবী আরো বলেছেন-

  • “আমি যার মাওলা, আলিও তার মাওলা।
  • “আলি হতে যে মুখ ফিরিয়ে নিলো, সে আমা (মহানবী) হতে মুখ ফিরিয়ে নিলো।’
  • “আমি (মহানবী) জ্ঞানের শহর এবং আলি তাঁর দরজা।”
  • “আলির মূল্য আমার কাছে সেই রকম, যে রকম মানুষের দেহের উপর মাথাটির মূল্য।”
  • “আলির মূল্য আমার কাছে সে রকম, যে রকম দেহের মধ্যে প্রাণের মূল্য।”

এ রকমভাবে অনেক উদাহরণ তুলে ধরা যায়।

ইতিহাসে ঘটে যাওয়া আরেকটি বেদনাদায়ক যুদ্ধের কথাটি আমরা জানতে পারি। সেই যুদ্ধটির একদিকে মহানবীর স্ত্রী এবং মুসলমানদের অবিসংবাদিত মা তথা মা মেনে নিতেই হবে, অন্যথায় যে মানবে না সে কাফের সেই মুসলমানদের মা, হযরত আবু বকর সিদ্দিকের কন্যা, মা আয়েশা (রা.) এবং অন্যপক্ষে মহানবীর জামাতা মাওলা আলি (আঃ)। সেই যুদ্ধটি নাম হলো জঙ্গে জামাল তথা উটের যুদ্ধ। এই বিষয়টিতে অধম লিখকের কোনো মন্তব্য নাই, কারণ একদিকে মাওলা আলি আঃ, অপরদিকে মুসলমানদের মাতা, ইহা আল্লাহর কোরান- ই ঘোষণা করেছেন।

সুতরাং যত যুক্তিতর্ক, আইনের চুঁলচেরা বিশ্লেষণই থাক না কেন, যেখানে মহানবীর স্ত্রীদেরকে কোরান মাতা বলে ঘোষণা করেছে সেখানে কোনো প্রকার মন্তব্য করা মোটেই সমীচীন নয়। এই নাজুক জায়গায় সর্বপ্রকার যুক্তিতর্কের লাগাম টেনে ধরতে হবে এখানে। কারণ যুক্তির কবরের উপরেই ভালোবাসার ফুল ফুটে উঠে। এই জঙ্গে জামাল নামক নাজুক যুদ্ধটি বিচার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অনেকে পা পিছলিয়ে যায়। পল্লবগ্রাহিতার আস্ফালন ফেটে পড়ে। গৈরিক দাবদাহের মতো অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বেরিয়ে আসতে হয়। এই নাজুক যুদ্ধটি যুক্তি আর ভালবাসার কোনটিতে দাড়িয়ে আছে সেটারই পরীক্ষা করার জন্য সংঘটিত হয়েছিল।

সূত্র: (“ধ্যান সাধনা” পৃষ্ঠা-৯০-৯১): চেরাগে জানশরীফ, চেরাগে ইসলাম কালান্দার মাওলানা জাহাঙ্গীর আঃ

পূর্ববর্তী পোস্টকবিতা: মহররম – কাজী নজরুল ইসলাম
পরবর্তী পোস্টফতেহ আলী ওয়াইসী (রহ.)-এর উল্লেখযোগ্য ৩৫জন খলিফার নাম
Quranik philosophy and sufism.

এই পোস্টে একটি মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন