জালালউদ্দিন রুমির বাছাইকৃত বাণী।

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी العربية العربية

জালালউদ্দিন রুমির বাছাইকৃত বাণী।

১.
“কয় দিনই বা এই বাড়িতে আমরা থাকবো? এখানে আমরা সবাই প্রভুর অতিথিতি হয়ে রয়েছি।”

২.
“প্রভু আমি তোমার উপস্থিতি আমার অন্তরে খুঁজে পাই যদিও তুমি বিশ্বের সব জাগায় বিরাজমান।”

৩.
“অতীত আর ভবিষ্যৎ নিয়ে কেনই বা আমি এত চিন্তায় মগ্ন হবো, যখন প্রভুর ভালবাসার স্বর্গীয় আলো বর্তমানে জ্বল জ্বল করছে।”

৪.
“তুমি সব জাগায় বিরাজমান, তবুও আমি তোমাকে পাগলের মত খুজতেছি।”

৫.
“প্রভুকে পাবার অনেক পথ আছে, আমি ভালবাসার পথকে এর জন্য বেঁছে নিয়েছি।”

৬.
“কেন তুমি প্রভুকে খুঁজতে প্রত্যেক দরজায় দরজায় গিয়ে আঘাত করছ? যাও, নিজের অন্তরের দরজায় গিয়ে আঘাত কর।”

৭.
“একটা নিঃশ্বাস বাকি থাকতেও যদি তুমি আমার কাছে ফিরে আসো,তাহলেও আমি সদা প্রভু তোমাকে স্বাগত জানাব।”

৮.
“বাস্তবে আমার আর তোমার আত্মা একই, তুমি আমার মাঝে আছো আর আমি তোমার মাঝে,আমরা একজন আরেকজনের মাঝে পরস্পর লুকিয়ে আছি।”

৯.
“এমন এক সময় আসবে যখন প্রভুর ভালবাসায় মগ্ন হওয়া ছাড়া সব কিছুই তোমার কাছে অর্থহীন মনে হবে।”

১০.
“যে তার জ্ঞান দিয়ে মনের খারাপ ইচ্ছা গুলোকে জয় করতে পারে সে স্বর্গের ফেরেশতাদের থেকেও বেশি সম্মানিত বলে বিবেচিত হয়।”

১১.
“প্রকৃতির প্রতিটা জিনিস বসন্তে ভালোভাবে প্রকাশিত হয়, আবার শীতে তা ঝরে যায়, কিন্তু প্রভুর স্বর্গীয় ভালোবাসা কোন নিদিষ্ট ঋতুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।”

১২.
“তোমার অন্তরের যে কেন্দ্রবিন্দুতে প্রান রুপী ঈশ্বর থাকেন, সেটাই হল এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গা।”

১৩.
“সব সময় সতর্ক থাক।কারন প্রভুর লীলা খেলার সৌন্দর্য মাঝে মাঝে হটাৎ করে দেখা যায় । এটা কোন রকম সতর্কবানি ছাড়াই স্বচ্ছ হৃদয়ে অবতরন করে থাকে।”

১৪.
“যে শরীয়তকে তোমরা মহা জ্ঞানের ভাণ্ডার মনে করে থাক, তাকে আমি অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি, শরীয়তের জ্ঞানের আমার কোণই অভাব ছিল না।কিন্তু পরে বুঝতে পেরেছি যে সেই জ্ঞান দ্বারা আমি প্রকৃত জ্ঞানী ছিলাম না, বরং ছিলাম একটা আস্ত পাগল।”

১৫.
“শরীয়তের আলেমরা হাজারো জ্ঞানের প্রতিভা রাখে, কিন্তু নিজের পায়ে কুঠার আঘাতকারি দূষিত আত্মা সম্পর্কে কোন জ্ঞানই রাখে না।”

১৬.
“মূর্খরা জাহিরি মসজিদের সম্মান করে কিন্তু আল্লাহর অলি-আউলিয়াদের কে অত্যাচার করে। ওহে গর্দভগণ! ঐ (মসজিদ) হইতেছে অস্থায়ী নশ্বর বস্তু কিন্তু মানূষের হৃদয় হইতেছে শাশ্বত সত্য-অমর।
আল্লাহ প্রেমিকদের হৃদয় ব্যতিত কোন সত্য স্থায়ী মসজিদ নাই।”

১৭.
“প্রভুর দরজায় আঘাত কর, সে তোমার জন্য তার দরজা উন্মুক্ত করে দিবেন। নিজেকে দুনিয়া থেকে অদৃশ্য করে ফেল, সে তোমাকে সূর্যের প্রখর আলোর মত দীপ্তিমান করে তুলবেন।নিজের মান-সম্মান আর অহংকার ধ্বংস করে ধুলায় লুটিয়ে যাও, সে তোমাকে জান্নাতের শিখরে টেনে তুলবেন। নিজেকে একদম শূন্য করে ফেল, সে তোমাকে সব কিছুর বাদশাহ বানিয়ে দিবেন।”

১৮.
“তোমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের জন্য প্রভুর কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। তাহলে তোমার চেহরা সূর্যের মত চমকাতে থাকবে এবং তখন যে কেউই তোমাকে দেখবে সে স্বর্গীয় আনন্দ ও শান্তি অনুভব করবে।”

১৯.
“তুমি প্রভুকে কেন দূরে খোঁজ করছো, সে তোমার অতি নিকটে কিন্তু তুমি জানো না।যেমন কেউ তার হিরার-হাড় পাগলের মত খুঁজে বেড়ায় এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে, অথচ তা তার গলায়ই রয়েছে।”

২০.
“তুমি যদি মারিফত তথা গোপন কিছুর জ্ঞান লাভ করতে চাও, তাহলে অবশ্যই তোমাকে নিজের মান-মর্যাদা ও লজ্জা ভুলতে হবে। তুমি প্রভুর প্রেমিক হয়ে এখনো চিন্তা করছো যে “লোকে কি বলবে”