খোদাপ্রাপ্তির পথে জেকেরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা।

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी العربية العربية

খোদাপ্রাপ্তির পথে জেকেরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা।

খোদাপ্রাপ্তিজ্ঞানের আলোকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্বওলী হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেবের প্রদত্ত নসিহত সমূহের ২য় খন্ড “তরিকতের পাঁচ রোকন” এর নসিহত নং-৪ থেকে প্রদান করা হচ্ছে-

তরিকতের পাঁচ রোকন:

জেকের, জেকেরের প্রকারভেদ এবং খোদাপ্রাপ্তির পথে জেকেরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সর্ম্পকে আলোচনাঃ

শরীয়তে পাঁচটি রোকন বা ভিত্তি নির্ধারিত আছে। ঠিক তেমনি তরিকতের পাঁচটি রোকন আছে। শরীয়তের রোকন সমুহ হইলঃ ঈমান, নামাজ, যাকাত, রোজা ও হজ্জ। আর তরিকতের পাঁচটি রোকন হলঃ জেকের, রাবেতা, শোগল, মুরাকাবা ও মোহাছাবা। এই অধ্যায়ে তরিকতের প্রথম দুই রোকন, অথাৎ জেকের ও রাবেতা সর্ম্পকে আলোচনা করিতেছি।

জেকেরঃ জেকের আরবী শব্দ, যাহার অর্থ স্মরণ বা ইয়াদ করা। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহপাকরে স্মরণ করাই জেকের। জেকের বা খোদাতয়ায়ালার স্মরণ হইল সমস্ত ইবাদতের মূল বা সারবস্তু। জেকেরই ইবাদতের প্রাণ। জেকের দুই প্রকার, যথাঃ- জেকেরে এসমে জাত অর্থাৎ আল্লাহর জাতি নামের জেকের। এবং জেকেরে নাফী-এসবাত অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’-এই কালেমা শরীফের জেকের। জেকের সম্পর্কে আল্লাহপাক সুরা আনকাবুতে বলেন, “আল্লাহর জেকেরই সর্বশ্রেষ্ঠ”(আয়াত নং-৪৫)।

রাসূলে পাক (সাঃ)জেকের সম্পর্কে বলেন, “ আমি কি তোমাদিগকে তোমোদের শ্রেষ্ঠ আমল কি-তা বলবো না, যা তোমাদের প্রভুর নিকট অধিক প্রিয় ও পবিত্র এবং যা তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধির ব্যাপারে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তোমাদের পক্ষে সোনা-রুপা দান করা অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ এবং ইহা অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ যে জেহাদে তোমরা শত্রুর মুকাবেলা করবে ও তাদের গর্দান কাটবে, আর তারাও তোমাদের গর্দান কাটবে অর্থাৎ জেহাদে শহীদ হবে।” তারা উত্তর করলেন, হ্যা, হুজুর (অবশ্যই বলবেন) তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বললেন,“ তা হলো আল্লাহর জেকের বা স্মরণ।” (মেশকাত, তিরমিযী, ইবনে মাযা)।

পবিত্র কুরআনের উল্লিখিত আয়াত ও পবিত্র হাদীসের ভাষ্য থেকে বুঝা যায় যে, আল্লাহর জেকেরই শ্রেষ্ঠ। ইসলামী বিধানে সর্বপ্রথমে আসে ঈমান। ইসলামের মূলমন্ত্র কালেমা, “লা ইহাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ,” অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই, মুহাম্মাদ মোস্তফা (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ। এই কালেমার মৌখিক স্বীকারোক্তি ও আন্তরিক বিশ্বাস যাহা শরীয়তের সর্ব প্রথম ও শ্রেষ্ঠতম রোকন।

বিশ্বাসের পরে আসে আমল । ইসলামী জীবন বিধানের সমুদয় আমলের মধ্যে নামাজ শ্রেষ্ঠতম, কারণ নামাজের মধ্যে খোদাতায়ালার দরশন বা মেরাজ বা সান্নিধ্য মিলে। নামাজের দুইটি দিক। একটি বাহ্যিক, অপরটি অভ্যন্তরীণ।

বাহ্যিক দিক; যথাঃ- নামাজের আহকাম-আরকান বা ফরজ সমূহ, ওয়াজেব, সুন্নত, মোস্তাহাব, তথা সমুদয় নিয়ম-কানুনসহ নিখুত ও পরিপূর্ণ ভবে নামাজ আদায় করা। সমুদয় নিয়ম-কানুনসহ নিখুত ভাবে নামাজ আদায় করিলেও নামাজ হইবে না যদি নামাজে খোদাতায়ালার জেকের বা স্মরন না থাকে।

খোদাতায়ালার জেকের হইল নামাজের অন্তর বা অভ্যন্তরীণ দিক। মুখে আল্লাহর নাম আর অন্তরে দুনিয়ার চিন্তা এমন নামাজে তাই কোন ফল হয় না।মৌখিক ভালবাসার কোন দাম নাই। ইহাকে লিপসিমপ্যাথি বলা হয়।

(তথ্যসূত্রঃ নসিহত-সকল খন্ড একত্রে, পৃষ্টা নং-৬৩, নসিহত নং-৪,)

error: অনুমতিহীন কপিকরা দণ্ডনীয় অপরাধ!