রাসূল (সাঃ)’কে আমাদের মতো মানুষ মনে করা কুফরী

রাসূল (সাঃ)'কে আমাদের মতো মানুষ মনে করা কুফরী
ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी العربية العربية

রাসূল (সাঃ)’কে আমাদের মতো মানুষ মনে করা কুফরী

কোরআনের ব্যক্ষায় এবং যে, সব হাদিসে রাসুলাল্লাহ (সা:) কে আমাদের মতো মানুষরুপে অংকিত করা হয়েছে সেগুলো প্রত্যেকটি মিথ্যা হাদিস এবং কোরআনের সেই সব অংশের ব্যাখ্যাগুলোও মিথ্যা রচনা। এ সব মিথ্যা রাজশক্তি কর্তৃক রচিত ডাহা মিথ্যা। কোন জাতির মধ্যেই মোমিনগণ তাদের নবীকে তাদের মতো মানুষ মনে করেনি। কেবল’ কাফেররাই নবীকে তাদের মতো মানুষ মনে করেছে।

একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ দিচ্ছি- প্রতিদিন রেডিও-টেলিভিশনে আজানের শেষে যে মোনাজাতটি প্রচারিত হয় সেখানে বলা হয়, এই পবিত্র আহবান এবং এই নামাজের তুমিই প্রভূ। আর বলা হয় হজরত মোহাম্মদ (সা:) কে দান করো বেহেশতের সন্মানিতস্থান, সুমহান মর্যাদা এবং বেহেশতের শ্রেষ্ঠতম প্রশংসিত স্থান তথা মাকামে মাহমুদায় তাকে অধিষ্ঠিত করো, যার প্রতিশ্রিূতি তুমি তাকে দিয়েছো, নি:শ্চয় তুমি ভঙ্গ করো না অঙ্গিকার বা ওয়াদা।

বিশ্লেষণ: এখানে কি নবী পাকের শান-মর্যাদাকে খাটো করা হয়নি? আমাদের মতো নাখাস্তা পাপী মানুষ দ্বারা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজানের সময় আল্লাহর কাছে মোনাজাত করতে বলা হয়েছে, হে আল্লাহ রাসুলের মান মর্যাদা বৃদ্ধি করে দাও।

প্রশ্ন হলো: তাহলে কি রাসুলের মান-মর্যাদা কোন দিক দিয়ে কম আছে? ( নাউযুবিল্লাহ) সারা বিশ্বের মানুষ বা জ্বীন জাতি যদি রাসুলকে না মানে তার মান-মর্যাদা কি কোন দিক দিয়ে কমে যাবে? আল্লাহ যাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করে সৃষ্টিতে পাঠিয়েছেন, তার জন্য আবার নতুন করে মান-মর্যাদা বৃদ্ধির কী হলো? তাও আবার পাপী নাখাস্তা বান্দাদের দোয়ার দ্বারা (নাউযুবিল্লাহ)। আসলে এগুলো কোন ধরণের ভিমরতি? আবার বলা হচ্ছে, হে আল্লাহ তোমার ওয়াদা মতো মোহাম্মদ (সা:) কে মাকামে মাহমুদায় পৌঁছাও।

তার মানে কি নবী(সা:) কি এখনও মাকামে মাহমুদায় পৌঁছিতে পারেন নি? (নাউযুবিল্লাহ)।আমরা প্রতিদিন এভাবেই দোয়া করছি আল্লাহর কাছে,রাসুল (সা:)কে মাকামে মাহমুদায় অধিষ্ঠিত করার জন্য। তাদের মোনাজাতের অর্থ বিশ্লেষন করলে দেখা যায় যে, নবী পাক (সা:) এখনও মাকামে মাহমুদায় অধিষ্ঠিত হতে পারেন নি।

যদি তাদের মোনাজাতের অর্থ সঠিক ধরে নেওয়া হয়, তাহলে প্রশ্ন এসে দ্বারায় যে, তাহলে নবী পাক (সা:) কিভাবে তার উম্মতকে মাফায়াত করবেন? (নাউযুবিল্লাহ)। এখানে স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে, এই মোনাজাত এজিদের পা-চাটা দোসর কর্ত্ক এই মোনাজাত রচিত হয়েছে। এ রকম বহু ইচ্ছাকৃত ভূল নবী ও নবী বংশের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা করে রেখেছে। যা আমরা অসহায়ের মত ঢোক গিলে খাচ্ছি।

গ্রন্থসূত্র: শানে পাক-পাঞ্জাতন, পৃ:১২-১৩।