উম্মতে মুহাম্মদীতে ৭৩ ফেরকা বা দলঃ

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी العربية العربية

খোদাপ্রাপ্তি জ্ঞানের আলোকে শাহ্সূফী হযরত ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেবের “নসিহত নং-১১” এর “মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ও খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ)” কিতাব পৃষ্ঠা: ৬৩,৬৪ ও ৬৫ হতে তুলে ধরা হয়েছে।

উম্মতে মুহাম্মদীতে ৭৩ ফেরকা বা দলঃ

সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল (সাঃ) কর্তৃক প্রবর্তিত সত্য ধর্ম ইসলামের অনুসারী মুসলমানগণ কয়েকশত বছর পর্যন্ত একটি দল বা ফেরকা হিসেবেই পরিচিতি ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আকীদাগত ত্রুটিবিচ্যুতির কারণে মুসলিম জাতি বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত হইয়া পড়ে। শিয়া, সুন্নী, রাফেজী, খারেজী, মােতাযেলা ইত্যাদি মােট ৭৩ ফেরকায় বিভক্ত হয়। অবশ্য রাসূলে পাক (সাঃ) তদীয় জীবদ্দশাতেই বিভিন্ন দল-উপদলে মুসলমানদের বিভক্তির পূর্বাভাস দিয়ে যান। হাদীস শরীফে প্রকাশ-রাসূলে পাক (সাঃ) এরশাদ করিয়াছেন, শুনিয়া রাখ, হযরত মুসা (আঃ) এর হেদায়েতের বিপরীত বনি-ইসরাইল সম্প্রদায়ের মধ্যে ৭১ টি ফেরকার সৃষ্টি হইয়াছিল-উহার মধ্যে একটি মাত্র দল বা ফেরকা ছাড়া বাকী সবগুলােই ছিল পথভ্রষ্ট। আর হযরত ঈসা (আঃ) এর উম্মতের মধ্যে সৃষ্টি হইয়াছিল ৭২ টি ফেরকা। আর তাহারও মাত্র একটি ফেরকা ছাড়া বাকী সবগুলােই গােমরাহ ফেরকা ছিল।

কিন্তু আমার উম্মত তথা তােমাদের মধ্যে অভ্যুদয় ঘটিবে মােট ৭৩টি ফেরকার। আর উহার মধ্যে একটি মাত্র দল ছাড়া বাকী সবগুলিই গােমরাহ ও বেদীন হইবে। কেবল ঐ একটি মাত্র দলই প্রকৃত মুসলমানরূপে গণ্য হইবে।” সাহাবীগণ আরজ করিলেন, “সেই দলটি কিরূপ হইবে?” হুজুর (সাঃ) বলিলেন, “ঐ দলটি আমার ও আমার সাহাবীদের পথ অনুসরণ করিবে।” অপর এক বর্ণনায় রাসূলে পাক (সাঃ) বলেন, আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হইয়া পড়িবে। তন্মধ্যে ৭২ ফেরকা বা দল দোযখী এবং একটি মাত্র দল বেহেশতী। এই বেহেশতী ফেরকার নামই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত বা সুন্নী জামাত (ইমাম আহমদ ও আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত)।

রাসূলে পাক (সাঃ) আরও বলেন, “নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন দলসমূহ বাহির হইবে যে, উহাদের মধ্যে বদ-আকীদা ও নাফছানী খাহেশাত এমন ভাবে সংক্রমিত হইবে যেমন পাগলা কুকুরের বিষ সংক্রমিত হয় দংশিত ব্যক্তির মধ্যে কু-আকীদা ও কু-রিপুসমূহ ঐ গােমরাহ লােকদের প্রতিটি নাড়ী-নক্ষত্র ও প্রত্যেক গ্রন্থিতে গ্রন্থিতে সংক্রমিত হইবে।” (আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত]। রাসূলে পাক (সাঃ) এর যুগে, সাহাবীগণের যুগে, তাবেয়ীদের যুগেও মুসলিম জাতির মধ্যে একাধিক ফেরকা আবির্ভূত হয় নাই। রাসূলে পাক (সাঃ) এর ইন্তেকালের কয়েকশত বছর পরে মুসলিম জাতি বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত হইতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যে ৭৩ ফেরকায় বিভক্ত হইয়া পড়ে। হযরত গউস পাক আব্দুল কাদের (রঃ) ছাহেব তদীয় “গুনিয়াতুত তালেবীন” নামক কিতাবে বলেন, ৭৩ ফেরকা মূলতঃ মূল দশটি ফেরকার শাখা প্রশাখা।

সেই দশটি ফেরকা হইলঃ (১) আহলে সুন্নাত, (২) খারেজী, (৩) শিয়া বা রাফেজী, (৪) মােতাযেলা, (৫) মারজিয়া, (৬) মুশাব্বহা, (৭) জাহমিয়া, (৮) জারারিয়া, (৯) নাজ্জারিয়া ও (১০) কালাবিয়া। আহলে সুন্নাত বা সুন্নী জামাতের কোন শাখা প্রশাখা নাই। উহা একক কিন্তু অপরাপর ৯টি দলেরই শাখা প্রশাখা বর্তমান। হযরত গউস পাক (রঃ) ছাহেব বলেন, খারেজী দলের শাখা ১৫টি, মােতাযেলার শাখা ৬টি, মারজিয়ার ১২টি, শিয়া বা রাফেজীর ৩৩ টি, মুশাব্বাহার ৩টি এবং জারারিয়াহ, কালাবিয়াহ ও জাহমিয়াহ -এই তিনটি প্রত্যেকটির মােট একটি করিয়া সর্বমােট ৭৩ টি ফেরকা বর্তমান। এই ৭৩ ফেরকার একটি মাত্র ফেরকা বা দল আখেরাতে পরিত্রাণ পাইবে; আর বাকী সবই দোযখী। মুক্তি প্রাপ্ত দলের আকীদা রাসূল পাক (সাঃ) ও তদীয় সাহাবী সকলের অনুরূপ। তাহাদের আকীদাই নির্ভুল বা বিশুদ্ধ অপরাপর দলগুলাে মুসলিম জাতির দলভুক্ত হইলেও বদ-আকীদা পােষণ করার দোষে যেমন দোষী, তেমনি পথভ্রষ্ট বলিয়া পরিগণিত।

– বিশ্ব ওলি শাহ্সূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু: ছে: আ:)

আরো পড়ুন:

→ নসিহত: মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ও খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) এর সব গুলো অধ্যায়
→ পীরের প্রতি মুরিদের আদব সর্ম্পকে মোজাদ্দেদ আলফেছানী রা: এর উপদেশ
→ সংক্ষিপ্ত ওজিফা সবগুলো পর্ব
→ আদাবুল মুরিদের সবগুলা নসিহত একসাথে
→ বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পরিচালনা-পদ্ধতির সব গুলো অধ্যায়

error: অনুমতিহীন কপিকরা দণ্ডনীয় অপরাধ!