হোমপেজ খাজাবাবা ফরিদপুরীর কারামত জনাব আব্দুস সালাম মাতব্বর ওরফে লাল ভাই এর ঘটনা।

জনাব আব্দুস সালাম মাতব্বর ওরফে লাল ভাই এর ঘটনা।

225
জনাব আব্দুস সালাম মাতব্বর ওরফে লাল ভাই এর ঘটনা।
Advertisement:
IPL 2024: ফ্রিতেই IPL Live Cricket খেলা দেখুন Full HD তে

জনাব আব্দুস সালাম মাতবর ওরফে লাল ভাই পীর কেবলাজানের প্রথম মুরিদ এবং প্রথম খাদেম ছিলেন। ছোট বেলায় উনার বাবা মারা যায়। উনার বয়স যখন ১২/১৩ বছর তখন তাহার একটি রােগ হইয়াছিল। রােগটি হইল উনার প্রচন্ড পেটের ব্যথা বহু ডাক্তার, কবিরাজ দ্বারা চিকিৎসা করাইছেন এবং অনেক অর্থ সম্পদও ব্যয় করিয়াছেন কিন্তু কোন রূপ ভাল হয় নাই উনার আম্মা অনেকের সাথে উনার অসুখের বিষয় আলাপ করিতে করিতে একদিন কোন এক লােকের নিকট শুনিলেন যে, আটরশি খান সাহেবের বাড়ীতে একজন পীর সাহেব আসিবেন ইহা শুনিয়া তিনি অপেক্ষা করিতেছেন এবং প্রায়ই খবর নিতেছেন কবে তিনি আসিবেন।

এই রূপ ১৫/২০ দিন যাবত খবর নিতে নিতে জানতে পারিলেন। আগামীকাল আসিবেন ইহা শুনিয়া পরদিনই ছেলেকে নিয়া খান সাহেবের বাড়ি আসিলেন। কিন্ত পীর কেবলাজান তখনও আসিয়া পৌছেন নাই। অপেক্ষা করিতে থাকিলেন। দেখা গেল এ দিনই বিকাল বেলায় পীর কেবলাজান আসিয়া পেীছিলেন। কিছুক্ষণ পরই মা-ছেলে পীর কেবলাজানের সাথে দেখা করিলেন এবং নালিশ দিলেন। পীর কেবলাজান বলিলেন আপনারা এখন বিদায় হইয়া যান। আগামী দিন আসিবেন। উনারা বিদায় হইয়া গেলেন। পরদিন উনারা আবার আসিলেন। পীর কেবলাজানের সহিত সাক্ষাত করিতে গেলে পীর কেবলাজান বলিলেন ওকে আমার এখানেই রাখিয়া যান। আমি ওকে চিকিৎসা করিব। এই কথা শুনিয়া লাল ভাইয়ের আম্মা কাদিয়া বলিলেন আমার ছেলে আপনাকে দান করিলাম। আপনার কদমে দিয়া গেলাম। এই বলিয়া তিনি। বিদায় নিয়ে গেলেন।

পরে তিনি প্রায় দিনই আসিতেন। কিন্তু আসার সময় প্রতি দিনই কিছু না কিছু নজরানা নিয়া আসিতেন। এইভাবে কিছুদিন চলিয়া গেল। লালভাই পীর কেবলাজানের নিকট থাকিতে লাগিলেন। আস্তে আস্তে ছেলের অসুখের উন্নতিও হইতে লাগিল। মা অত্যন্ত খুশি হইলেন। বেশ কিছু দিন পর পীর কেবলাজান একটি জলসার আয়ােজন করিতে উদ্যোগ নিলেন। লাল ভাই তাহার ধানের জমিন বিক্রয় করিয়া জলসার খেদমত দিলেন। তিনি উনার আম্মাকেও সাথে নিয়া আসিলেন। মা ও ছেলে উভয়ই দরবার শরীফের খেদমত করিতে লাগিল। মাঝে মধ্যে জায়গা জমি বিক্রয় করিয়া আনিয়া পীর কেবলাজানকে নজরানা দিতেন। সর্বশেষে বাড়ির জায়গাটাও বিক্রি করিয়া সব টাকা পয়সা পীর কেবলাজানের কদমে নজরানা দিয়া দিলেন। পীর কেবলাজান তাহা গ্রহণ করিলেন।

পীর কেবলাজান তাহাকে পােষ্যপুত্র হিসাবে লালন পালন করিতে লাগিলেন। যাই হােক উনার বয়স যখন ২৪/২৫ বছর হইল। তখন পীর কেবলাজান নিজেই উনাকে বিবাহ করাইলেন। দরবার শরীফে একটা দুই রুম বিশিষ্ট ঘরে থাকিতে দিলেন। তিনি এক রুমে অন্য রুমে তাহার মাকে থাকিতে দিলেন। তিনি সারাজীবন এখানে কাটাইলেন। মৃত্যুর পরও দরবার শরীফের এলাকার মধ্যে উনার কবর দেয়া হইয়াছে। উনার মৃত্যুর দুইদিন আগে পীর কেবলাজানের কদম মােবারকে হাজির হইয়া বলিলেন, আমাকে যে জগতে পাঠাইতেছ ওখানে আমার কি কাজ আছে? ইহা শুনিয়া পীর কেবলাজান জালালী হালাতে বলিলেন, কাজ না থাকিলে কি পাঠাইতেছি? যাও, তােমার দাদা পীর সাহেবের খেদমত করিতে হইবে।

IPL 2024: ফ্রিতেই IPL Live Cricket খেলা দেখুন Full HD তে

ভাইসব বুঝিয়া দেখেন, সারাজীবন, ছােটকাল হইতে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত পীরের খেদমত করিয়াছেন। দুনিয়া হইতে আবার পরপারেও দাদা পীরের খেদমতে পাঠাইতেছেন। উনার আম্মাও খেদমত করিয়া গিয়াছেন। উনিও খেদমত করিয়াছেন। উনার স্ত্রী, পুত্র এখনাে খেদমতেরত আছেন যেমন পীর তেমনই তার মুরিদ। পীর কেবলাজানও তার বিষয়-সম্পত্তি, জীবন ও যৌবন তাহার পীরের কদমে নেছার করিয়া ছিলেন। এরূপ আমার লাল ভাইও বিষয়-সম্পত্তি, বাড়ীঘর, বাবা-মা, স্ত্রী-পুত্রসহ সবাইকে খেদমতে নেছার করিয়াছেন এখন এই যমানায় যদি কেহ কোটি কোটি টাকার খেদমত করেন, তাহা হইলেও উনার খেদমতের তুলনা হবে না এরূপ খেদমত পরিপ্রেক্ষিতে পীর কেবলাজান তাহার উপর খুশি হইয়া কবরে যাওয়ার যাহা কিছু সম্বল দরকার তাহাই পীর কেবলাজান তাহাকে দান করিয়া ছিলেন।

সংকলকঃ আলহাজ্জ্ব আব্দুল খালেক।
সূত্রঃ “বিশ্বওলি খাজাবাবা হযরত ফরিদপুরী (কু:ছে:আ:) ছাহেবের কারামত” নামক বই হতে তুলে ধরা হয়েছে।

→ বিশ্বওলি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু:ছে:আ:) ছাহেবের আরও কিছু কারামত