হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) এর নকশবন্দীয়া তরিকা গ্রহণ এবং এই তরিকার নেছবত ও খেলাফত প্রাপ্তিঃ

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) এর নকশবন্দীয়া তরিকা গ্রহণ এবং এই তরিকার নেছবত ও খেলাফত প্রাপ্তিঃ
ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी العربية العربية

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) এর নকশবন্দীয়া তরিকা গ্রহণ এবং এই তরিকার নেছবত ও খেলাফত প্রাপ্তিঃ

নকশবন্দীয়া তরিকা গ্রহণের Back Ground বা পটভূমির আলোচনায় “বিপ্লবী মুজাদ্দেদ” নামক গ্রন্থে দেখা যায়ঃ- নকশবন্দীয়া তরিকার একজন প্রসিদ্ধ কামেল ব্যক্তি হযরত আমকাংগী (রঃ) ছাহেব একদা কাশফে (অন্তর্দৃষ্টিতে) দেখিতে পান যে, নকশবন্দীয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা হযরত বাহাউদ্দীন নকশবন্দ (রঃ) ছাহেব তাহাকে বলিতেছেন, অনতিবিলম্বে ভারতবর্ষে হযরত নবী করীম (সাঃ) এর একজন খাছ প্রতিনিধি মনোনীত হইবে। উম্মতে মুহাম্মদীর আউলিয়া দফতরে তাঁহার মর্যাদা সর্বোচ।

সমস্ত দুনিয়ার ওলী আবদাল সকলে তাহার আবির্ভাবের অপেক্ষায় আছেন। সেই মহা পুরূষ আমার এই তরিকার মধ্যেই আবির্ভূত হইবেন। সুতরাং ভারতে আমার তরিকা প্রচারের জন্য কোন যোগ্য ব্যক্তিকে প্রেরণ করুন।” অতঃপর খাজা আমকাংগী (রঃ) ছাহেব নকশবন্দীয়া তরিকার অন্যতম বুজুর্গ খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) কে দ্রুত দিল্লী গমনের নির্দেশ দেন।

হযরত খাজা আমকাংগী (রঃ) ছাহেবের নির্দেশে হযরত খাজা বাকিবিল্লাহ (রঃ) ছাহেব সুদূর কাবুল হইতে দিল্লী গমনের প্রস্তুতি পর্বে একদা স্বপ্নে দেখেন যে, কোন একটি গাছের ডালে একটি সুন্দর তোতা পাখী বসিয়া আছে, আর তাহার সৌন্দর্যে তিনি মুগ্ধ হইয়া ভাবিতে লাগিলেন, যদি পাখীটি তাহার হাতে আসিয়া পড়িত! এই ভাবনার সাথে সাথেই পাখীটি উড়িয়া আসিয়া তাহার হাতে বসিল।

“ইহা ছিল প্রকৃতপক্ষে তাহার ভারত সফরের সফলতার পূর্বাভাস।” তৎপর কালক্ষেপণ না করিয়া তিনি দিল্লী অভিমুখে রওয়ানা দেন। পথি মধ্যে যখন সেরহিন্দে পৌঁছান, স্বপ্নে তাহাকে জানানো হয় যে, তিনি হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের এলাকায় আসিয়া গিয়াছেন। অতঃপর হযরত বাকীবিল্লাহ (রঃ) ছাহেব দিল্লীতে আসিয়া পৌঁছান।

অন্যদিকে পিতার ইনতেকালের পর হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব হজ্জ্বের উদ্দেশ্যে বাহির হইয়া সেরহিন্দ হইতে দিল্লীতে পৌঁছাইয়া তাহার এক বন্ধু মাওলানা হাসান কাশ্মিরীর গৃহে অবস্থান করেন। অতঃপর মাওলানা ছাহেব কথা প্রসংগে নকশবন্দীয়া তরিকার শ্রেষ্ঠ বুজুর্গ হযরত বাকীবিল্লাহ (রঃ) ছাহেবের গুণাবলী ও তাহার দিল্লী অবস্থানের কথা হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের নিকট প্রকাশ করিলে, মুজাদ্দেদ (রাঃ) ছাহেব কালবিলম্ব না করিয়া এই উচ্চ তরিকার নেয়ামত লাভের আশায় অবিলম্বে খাজা বাকীবিল্লাহের দরবারে হাজির হন।

হযরত বাকীবিল্লাহ (রঃ) ছাহেব তাহাকে দেখিবা মাত্র বলেন “আপনি তো হজ্জের ছফরে রওয়ানা হইয়াছেন, পথি মধ্যে আমার এখানে কিছুদিন অপেক্ষা করূন।”

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেব একটানা মাত্র আড়াই মাস হযরত বাকীবিল্লাহের সান্নিধ্যে থাকিয়া এই তরিকার যাবতীয় নেছবত ও নেয়ামত হাছিল করেন। তৎপর আড়াই মাস পরে সেরহিন্দে ফেরত আসেন। কিছুদিন পর আবার দিল্লীতে পীরের সান্নিধ্যে গমন করেন।

এইবার খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) ছাহেব নিজ হাছিলকৃত সমুদয় বাতেনী এলেম হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবকে প্রদান করিয়া হেদায়েতের ঝান্ডা তাহার হস্তে অর্পণ করেন এবং স্বীয় সমুদয় মুরীদ ও খলিফাদের হেদায়েত ও প্রতিপালনের দায়িত্ব তাহার উপর সোপর্দ করিয়া তাহাকে সেরহিন্দে পাঠাইয়া দেন।

খোদাপ্রাপ্তি জ্ঞানের আলোকে শাহ্সূফী হযরত ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেবের নসিহত-৮ এর “মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ও খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ)” কিতাব পৃষ্ঠা: ২১, ২২ ও ২৩ হতে তুলে ধরা হয়েছে।

→ নসিহত: মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ও খাজা বাকীবিল্লাহ (রঃ) এর সব গুলো অধ্যায়

→ নকশবন্দীয়া-মোজাদ্দেদীয়া তরিকার শাজরায়ে মোবারকঃ

আরো পড়ুন:

→ পীরের প্রতি মুরিদের আদব সর্ম্পকে মোজাদ্দেদ আলফেছানী রা: এর উপদেশ

→ সংক্ষিপ্ত ওজিফা সবগুলো পর্ব

→ আদাবুল মুরিদের সবগুলা নসিহত একসাথে

→ বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পরিচালনা-পদ্ধতির সব গুলো অধ্যায়

error: অনুমতিহীন কপিকরা দণ্ডনীয় অপরাধ!