হোমপেজ আহলে বায়াত (পাকপাঞ্জাতন) আহলে বাইতকে মহব্বত করা ফরজ।

আহলে বাইতকে মহব্বত করা ফরজ।

আহলে বাইতকে মহব্বত করা ফরজ।

আহলে বাইতকে ভালোবাসা আল্লাহর হুকুম। আহলে বাইতগন ছিলেন রাসূল (সাঃ) এর খুবই একান্ত আপনজন। পবিত্র কোরান ও হাদীসের আলোকে তাহা বর্ননা করা হলোঃ-

শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (রহ.) ফরমানঃ-

“দয়াল নবী (সাঃ) বলিয়াছেন; আমার আহলে বায়েত হইলো- আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসেন।”

“আহলে বায়েতের প্রতীক হইলো নূহের তরী। আর এই তরীতে আরোহণের উপায়ই হইল আহলে বায়েতের মহব্বত অর্জন।”

(সূত্র “নসিহত” সকল খন্ড একত্রে, (পৃষ্টাঃ-১১৬৭-১১৬৮)।

নবী নন্দিনী ফাতেমা (আঃ) বলেনঃ-

“আহলে বাইত (আ.) প্রেমীকদের মৃত্যু হচ্ছে শাহাদতের সমতুল্য, আহলে বাইত পবিত্র যারা আহলে বাইতকে কে ভালো বাসে তারাও পবিত্র।”

ফাতেমা বিনতে মুসা ইবনে জাফার (আ.) হতে বর্ণিত- আল্লাহর রাসূল (স.) বলেছেন: “জেনে রাখ! যে ব্যক্তি আহলে বাইত (আ.) এর ভালবাসা অন্তরে নিয়ে মৃত্যুবরণ করে, তার মৃত্যু শহীদের মৃত্যুর ন্যায়।” সূত্রঃ (আওয়ালেমুল উলুম, খণ্ড ২১, পৃ. ৩৫৩)

জালাল উদ্দিন সূয়ুতী (রহঃ) বর্ণনা করেনঃ-

“পবিত্র আল কোরআন ও নবী (সাঃ) এঁর হাদীস শরীফ হতে এটি প্রমাণিত হয় যে, আহলে বাইত হচ্ছে- আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসাইন (عليه السلام) -এঁর মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) দ্বীনের ফরায়েজে গণ্য।”

সুতরাং ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ইহার সমর্থনে সনদ প্রদান করেন যে, “ইয়া আহলে বাইত-এ রাসূল, আল্লাহ তাঁর নাজিল করা পবিত্র কোরআনে আপনাদের মুয়াদ্দাতকে ফরজ করেছেন, যারা নামাজে আঁপনাদের উপর দরুদ না পড়বে, তাদের নামাজই কবুল হবে না”। (ইবনে হাজার মাক্কীর, সাওয়ায়েকুল মুহরেকাঃ পৃঃ ১০৩)

দয়াল নবী রাসূলে পাক (সাঃ) বলেছেনঃ-

“যে সত্ত্বার হাতে আঁমার প্রাণ, সে সত্ত্বার কসম! কোন ব্যক্তির অন্তরে ঈমান প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না তাঁরা আল্লাহ্ ও রাসূলের খাতিরে তোমাদের (আহলে বায়েতকে) ভালোবাসবে।” (সূত্রঃ তিরমিজি শরীফ,ষষ্ঠ খণ্ড,হাদিস নং-৩৭৫৮,ইসঃ ফাঃ)

“কোন ব্যক্তির অন্তরে ঈমান প্রবেশ করবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ‘আহলে বাইত’কে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য ভালবাসবে।” (সূত্রঃ মিশকাত শরীফ ৫৭০ পৃষ্ঠা)

“তোমরা আমার আহলে বাইতকে ভালবাসো আমার ভালবাসার কারণে।” (সূত্রঃ মুস্তাদরাকে হাকেম-৩/১৬২)

পবিত্র কোরানুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ-

“হে নবী! আপনি আপনার উম্মতদের বলে দিন, আমি আমার দাওয়াতের বিনিময়ে আমার আহলে বাইতদের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই চাই না।” (সূরা: আল বাকারা, আয়াত: ২৩)।

“হে আহলে বাইত! আল্লাহ চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।” (সূরা: আল আহ্‌যাব, আয়াত: ৩৩)।

পবিত্র আল কোরানে রাসূল (সাঃ) -এঁর আহলে বাইতের ভালবাসা ও অনুসরণ করা আমাদের সকলের জন্য ফরজ করা হয়েছে। অতএব, আহলে বায়েতের ওপর পূণ্য মহব্বত করতে হলে, রাসূল পাক সাঃ এর ওপর পূণ্য মহব্বত এবং তার আহলে বায়েতদের অর্থাৎ (আলি, ফাতেমা, হাসান ও হোসাইনকে) জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে হবে। কেননা ইহা আল্লাহরই হুকুম।

Author : Nishat Wahid