হোমপেজ বাণী ও উপদেশ যুক্তিসংগত ২০টি আধ্যাত্মিক বাণী

যুক্তিসংগত ২০টি আধ্যাত্মিক বাণী

যুক্তিসংগত ২০টি আধ্যাত্মিক বাণী

লেখা: নিশাত ওয়াহিদ
প্রকাশ: ২৪ জুন, ২০২২

(১) আল্লাহ ব্যতিত পীরকে সেজদা করা শির্ক। তবে আশেকের নিকটে মাশুক পীর পরিচয়ে থাকেনা, এই অর্থে ভিন্ন বিষয়।

(২) চেষ্টা, পরিশ্রম ও কর্মের ওপর রিজিক নির্ধারন হয়! হোক সেটা রহমত, সম্পদাদী ইত্যাদি।

(৩) কাম শুধু যৌন লালসাকে বুঝায় না, দুনিয়াবী যত কামনা-বাসনা আছে সবকিছুকেই কাম বুঝায়। আর মোহ হচ্ছে জাগতিক সকল মায়া, যা তোমার মনে স্বাচ্ছান্দ ও আনন্দ দিয়ে থাকে। মোহ হতেই কামের উৎপত্তি। তাই ঐশ্বরিক যাহা কিছু আছে তাহার প্রতি অগ্রসর হয়েই কেবল দুনিয়াবী মোহ ত্যাগ করা সম্ভব।

(৪) জেনে বুঝে মুনাফিকদের দালালী বা সমর্থনকরাও মুনাফিকেরই আওতাধীন। কারন মুনাফিকের সঙ্গ কেবল তার উপযুক্ত অনুসারীরাই পেয়ে থাকে।

(৫) মাওলা আলীর চেয়ে হযরত আবুবকর, ওমর, ওসমান কে যেসব পীরেরা বেশি প্রধান্য দিয়ে থাকে, সেসব পীর হাকিকত ও বেলায়ত সম্পন্ন নন৷ সুতরাং তাদেরকে ওলি বা কামেল পীর ভাবাটাও ভুল।

(৬) অন্যের সন্তুষ্টি অর্জনই দোয়া, মৌখিক দোয়া বা অভিশাপ কোনো কালেও কাজে আসেনা।

(৭) আপনি যেমন, তেমনই একজন পথপ্রদর্শক খুজে পাবেন।

(৮) যখনই বিপদে পড়ো মাওলা আলীর নামটি স্বরনে রাখিও! ‘ইয়া আলী মাদাদ’ বলিও।

(৯) বীরত্বের নাম মাওলা আলী, ত্যাগের নাম ইমাম হুসাইন। ত্যাগ ও বীরত্ব নিয়ে মিথ্যার সঙ্গে আপোষ না করাই আহলে বায়েতের গোলামী। আর এটাই আহলে বায়েতের প্রতি প্রেমের বহিঃপ্রকাশ।

(১০) যত সাধনাই করুক না কেন মাওলা আলীর দরজা ব্যাতিত বেলায়েতে কেউ প্রবেশ করতে পারেনি আর কস্মিনকালেও সম্ভব না। সুতরাং মাওলা আলীর চেয়ে অবশিষ্ট কাউকে বড় মনে করাটাই অজ্ঞতা। আর এমন অজ্ঞ চিন্তাধারার ব্যক্তিকে কামেল-মোকাম্মেলও বলা যাবেনা।

(১১) যার কেউ নাই তার প্রভু আছেন! অর্থাৎ তোমাকে নিঃস্ব হতে হবে, আমিত্বের বন্ধন হতে। তবেই কেবল তুমি তার হতে পারবে!

(১২) সার্বজনীন অর্থে পীরের হুকুম, আমল ও ওজিফা যেগুলো থাকে, তা প্রাথমিক। আর পীর ও মুরিদের মাঝে যখন দুরত্ব থাকেনা, তখন প্রাথমিক কাজগুলো হয়ে যায় নিজ ইচ্ছার অধীন। মুরিদের জন্য প্রেমিক হওয়াটাই বড় বিধান। আর এই পথে পাগলামী তার নিজ স্বাধীনতা।

(১৩) তকদির কর্মের ওপর নির্ধারন হয়। মাশুকের দয়ায় আবার পূণ্যও হয়। তবে কর্ম দ্বারা মাশুকের সন্তুষ্টি অর্জন না হলে তকদিরেরও পরিবর্তন হয়না।

(১৪) দুনিয়াভোগী সুখ, শান্তি ও জীবন যাপন করতে পারাকেই তকদির বলে না। তকদির হলো সেটাই, যেটা সত্য হিসেবে আসে এবং তা ধারন করার ক্ষমতা তোমার থাকে।

(১৫) দেখে ও চিনে প্রেম করতে হয়। অদেখা বস্তুতে কখনও প্রেম হয়না। মাশুককে না দেখে কেউ আশেক হতে পারেনা। সকল প্রেমিক স্বরুপ দেখেই প্রেমিকের সার্টিফিকেট অর্জন করে।

(১৬) নবী মুহাম্মদ (সাঃ) যখন কায়া রুপে অবতরন করেন তখন সাদৃশ আরশে দ্বিতীয় কেউই ছিলেন না।

(১৭) নবী সর্বকালেই বিরাজমান এবং তিনি সর্বকালেও বর্তমান। নবী চিনতে পারাটাই মূল হাকিকত। হাকিকত যে বুঝতে পারে তার কাছে সত্ত্বা দর্শন অতি সহজ।

(১৮) বিশ্বাসের কোনো মূল্য নাই যদি তা কর্মে প্রতিফলিত না হয়। শুধু মৌখিক বিশ্বাসী হলে চলবেনা। নিজে কর্মসাধন করে বুঝে বিশ্বাসী হতে হবে, নচেৎ বিশ্বাসের খুটি টিকে না।

(১৯) আল্লাহ-নবীর নাম জপতে জপতে কিংবা সাধনা করতে করতে যদি কেউ দেহকে ফানাও করে ফেলে, তারপরেও সে পরমের সন্ধান পাবেনা। যদি তার মধ্যে আহলে বায়েতের প্রতি বিন্দুমাত্র বিশুদ্ধ প্রেম না থাকে।

(২০) আল্লাহ নাম সারাদিন জপলেও এতে আল্লাহর কোনো লাভ নাই। আবার নাম না জপলেও আল্লাহর তাতে কোনোই লস নাই। আসল কথা হলো আল্লাহ চেয়েছেন তার প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে তার সিফাতী গুন তথা সৃষ্টির প্রেম ও বিনয় তোমার মধ্যে জাগ্রত হোক। যাতে তুমি পরমের পরিচয় লাভ করতে পারো এবং তার সাথে মিশে যাও। হাকিকত হলো- আল্লাহ নিজ স্বার্থের জন্য তিনাকে আনুগত্যের তাগিদ দেন নাই বরং তার মধ্যে যেনো বিলিন হতে পারো সেদিকেরই তাগিদ দিয়েছেন তিনি। আল্লাহ কত মহান।

বি: দ্র: কথাগুলো নিজ যুক্তিতে লেখা, অনেকের কাছে অযৌক্তিকও মনে হতে পারে। তবে আসা করি বিজ্ঞদের নিকট একটি কথাও মনগড়া মনে হবেনা

Author: Nishat Wahid