হোম আহলে বায়াত (পাকপাঞ্জাতন) মুমিনদের মাওলা আমিরুল মুমিনীন আলী (আ:)

মুমিনদের মাওলা আমিরুল মুমিনীন আলী (আ:)

মুমিনদের মাওলা আমিরুল মুমিনীন আলী (আ:)

২১ রমজান আমীরুল মো‌মেনীন মাওলা আলী আলাইহিস সালামের শাহাদাত দিবস। হযরত আলী আলাইহিস সালাম ১৯ রমজান কূফার মসজিদে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ২১ রমজান শহীদ হন। তিনি একমাত্র ব্যক্তি, যিনি কাবা শরী‌ফের অভ্যন্তরে আগমণ করেছেন। তাঁর পিতা হযরত খাজা আবু তালেব আর মাতা হযরত ফাতেমা বিনতে আসাদ।

আমীরুল মু’মিনীন মাওলা আলী আলাইহিস সালাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের যতটা সহচার্য পেয়েছেন অন্য কেউই ততটা সহচার্য পাননি। আনুষ্ঠানিকভাবে রাসূলের নবুয়াতের ঘোষণা এলে হযরত খাদিজাতুল কুবরা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন আর তারপরেই যিনি আল্লাহর রাসূলের ডাকে সাঁড়া দিয়েছিলেন তিনিই হযরত আলী ইবনে আবু তালিব আলাইহিস সালাম।

মক্কী জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই মাওলা আলী আলাইহিস সাল্লাম আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছায়ার মত লেগে থাকতেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন সেই রাতেও রাসূলের নির্দেশে তিনি তাঁর ঘরে শুয়ে ছিলেন। যে রাতটি লাইলাতুল মাবিত নামে পরিচিত।

মদীনায় হযরত আলী আলাইহিস সালাম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পাশে থেকে ইসলামের জন্য বহু ত্যাগ স্বীকার করে অবদান রেখেছেন। বদর যুদ্ধে নিহত ৭০ জন কাফেরের মাঝে ৩৬ জনই হযরত আলীর তরবারির আঘাতে মারা গিয়েছিল। উহুদ যুদ্ধেও যখন সবাই দূরে চলে গিয়েছিল তখনো আমীরুল মো‌মেনীন হযরত আলী আলাইহিস সাল্লাম আঘাত সহ্য করেছেন, নিজের শরীর দিয়ে আঘাত প্রতিহত করেছেন কিন্তু পিছপা হননি। খন্দকের যুদ্ধে আমর ইবনে আবদুহ যখন প‌রিখা পার হ‌য়ে মুসলমান‌দের সাম‌নে এসেছিল তখন তিনিই তাকে প্রতিহত করেন। খায়বারের যুদ্ধ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের তাঁর হাতেই পতাকা তুলে দিয়েছিলেন।

আমিরুল মোমেনীন আলী আলাইহিস সালাম সম্পর্কে কোরআনের বহু আয়াত রয়েছে। হযরত আলী আলাইহিস সালাম তিনি আহলে বাইতের অন্যতম একজন সদস্য, রাসূলের নিকটাত্মীয়। মোবাহেলা আয়াতে হযরত আলীকেই রাসুলের নাফস বা জান বলা হয়েছে। তাঁকে পরিচিত করা হয়েছে মুমিনদের ওয়ালী বা অভিভাবক হিসাবে।

আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী আলাইহিস সালাম জান্নাতি যুবকদের নেতা হযরত ইমাম হাসান, হোসাইনসহ জয়নব, উম্মে কুলসুম, আবুল ফজল আব্বাস আলাইহিমুস সালামের পিতা, তিনি জান্নাতী নারীদের নেত্রী হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালামের স্বামী, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের জামাতা। যাঁকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মুমিনদের মাওলা ও জ্ঞানের শহরের দরজা বলে ঘোষণা দিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, আলীর সাথে আমার সম্পর্ক তেমনি যেমন মুসার সাথে হারুনের সম্পর্ক শুধুমাত্র আমার পরে কোন নবী আসবে না।

আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী আলাইহিস সালাম তাঁর শিষ‌্যদের তাফসীর, হাদীস, ফেকাহ-ফারায়েজ, এরফানসহ বহুবিদ জ্ঞানের শিক্ষা দিয়েছেন। বিখ্যাত মুফাসসির আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তাঁর কাছে তাফসীর শিক্ষা লাভ করেছেন। আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রের আবুল আসাদ দোয়াইলীও তাঁরই শিষ্য।

৪০ হিজরীর ১৯ রমজান আমিরুল মোমিনিন হযরত আলী আলাইহিস সালাম যখন ফজরের নামাজের ইমামতী করছিলেন, তখন দুরাচার আব্দুর রহমান ইবনে মুলজিম তাঁকে বিষাক্ত তরবারি দ্বারা আঘাত করলে আমীরুল মো‌মেনীন হযরত আলী আলাইহিস সালাম ২১ রমজান শহীদ হন। হযরত আলী আলাইহিস সালামের শাহাদাত দিবসে তাঁর প্র‌তি শত-সহস্র সালাম পেশ কর‌ছি এবং তাঁর সকল ভক্ত-প্রেমিক-অনুসারীকে শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

– আবু সালেহ

পূর্ববর্তী পোস্টবাঁশি কেন কাঁদে! (মাওলানা রুমি রহঃ) – পর্ব-২
পরবর্তী পোস্টইমাম হাসান (আ:)-এর খোশরোজ-বেলাদাত দিবস
«انا عبد من عبيد محمد صلي الله عليه و آله و سلم»

এই পোস্টে একটি মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন