হোমপেজ ইলমে মারেফত মোজাদ্দেদে আলফেসানী (রাঃ) আগমনের ভবিষ্যতবানী।

মোজাদ্দেদে আলফেসানী (রাঃ) আগমনের ভবিষ্যতবানী।

মোজাদ্দেদে আলফেসানী (রাঃ) আগমনের ভবিষ্যতবানী।

ইদানীং অনেককে দেখা যাচ্ছে ইমামে রাব্বানী কাইউমে জামানী হযরত শাহ আহমদ সিরহিন্দ মোজাদ্দেদে আলফেসানী (রাঃ) সম্পর্কে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য করতে। তাদের মতে ইমামে রাব্বানীর কাছে কোন তরিকাই ভালো লাগে নাই, তাই তিনি মনগড়া একটি তরিকা আবিষ্কার করেছেন। এই বিষয় নিয়ে ওনারা ওনাদের ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে যাচ্ছেন যা নকশবন্দিয়া মোজাদ্দেদী তরিকা সম্পর্কে বিস্তারিত না জানার ফল ছাড়া কিছুই না। এত যুগ পরে যাদের মনে ইমামে রাব্বানীর কামালিয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে তাদের অবগতির জন্য বলতে চাই আপনাদের সিলসিলার উর্ধতন মুরুব্বিগন বা আপনাদের সিলসিলার ইমামও শাহ আহমদ সিরহিন্দ (রাঃ) কে একজন উর্ধতন অলি হিসেবে বিবেচ্য করতেন।

ওনারা ইমামে রাব্বানীর আগমনের ভবিষ্যতবানী করে গেছেন ওনাদের শিশ্যদের মাঝে। এত বড় বড় অলীগন যার ব্যাপারে ভবিষ্যতবানী করে গেছেন এবং বড় বড় কিতাবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে ঐসব কি তাহলে মিথ্যা? না আপনারা সুফিবাদের নাম নিয়ে অন্য কোনো পায়তারা শুরু করেছেন? আগে শুনুন ও জানুন আপনাদের সিলসিসার উর্ধতন শায়খগন মোজাদ্দেদে আলফেসানী (রাঃ) সম্পর্কে কি বলেন। তারপর ভালো মন্দ মন্তব্য করুন। নয়তো ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা যেমন একই মায়ের সন্তান হয়েও দুধ না পেয়ে লাফালাফি করে আপনাদের অবস্থানও সেইরকম নির্বাচিত হবে!

মোজাদ্দেদে আলফেসানী (রাঃ) এর বাণী

হযরত মুজাদ্দিদ (রাঃ) দুদ্ধপোষ্য শিশু থাকাবস্থায় একবার ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে তার পিতা-মাতা ও পরিবারের অন্যান্য সকলে তাঁর জীবন সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েন। এ সময় কাদেরীয়া তরিকার একজন মহান বুযুর্গ হযরত শাহ কামাল কায়থিলী (রাঃ) সিরহিন্দ শরীফে আসেন। এইখবর পেয়ে ইমামে রাব্বানীর পিতা শায়খ আব্দুল আহাদ চিশতী (রাঃ) তাঁর অসুস্থ শিশুকে দু’আ করার জন্য তাঁর কাছে নিয়ে যান।

শিশুকে দেখা মাত্রই হযরত শাহ সাহেব বলেন:- আল্লাহ তায়ালা এই শিশুর হায়াত দারাজ করুন। এর ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জল। পরিণত বয়সে সে আলেমে হাক্কানী ও আরিফে কামিল হবে এবং আমার মত হাজার হাজার লোক তাঁর আত্মিক তালিমে উপকৃত হবে। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ প্রাপ্তির যে আলো সারা দুনিয়াতে ছড়াবে, তা কিয়ামত পর্যন্ত কখনো নিস্প্রভ হবে না। এরপর শাহ সাহেব তাঁকে কোলে নিয়ে নিজের পবিত্র জিহবা তাঁর মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দেন। শিশু মুজাদ্দিদে (রাঃ) অনেকক্ষণ পর্যন্ত উক্ত জিহবা লেহন করতে থাকেন।

অত:পর শাহ সাহেব তাঁর পিতাকে সান্তনা দিয়ে বলেন-: চিন্তা করবেন না, ইনশা আল্লাহ্ শিশু আরোগ্য লাভ করবে। আল্-হামদু লিল্লাহ, শিশু কাদেরিয়া তরীকার সব নিয়ামত লাভ করলো। আল্লাহ তায়ালা এর দ্বারা তাঁর দ্বীনের খিদমত নিবেন।

রওযাতুল কাউইমিয়া গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, একদা হযরত গাওসে আজম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ) বাগদাদের কোন এক জঙ্গলে মুরাকাবায় মশগুল ছিলেন। এ সময় কাশ্ফের হালতে তিনি দেখেন যে, হঠাৎ একটি নূর আসমান থেকে প্রকাশ পাচ্ছে, ফলে সমস্ত বিশ্বজগত আলোকিত হচ্ছে। এ সময় তাঁকে বলা হয়, এখন থেকে পাঁচশ বছর পর যখন সারা দুনিয়াতে শিরক ও বিদ’আত ছড়িয়ে পড়বে, তখন একজন অসাধারণ বুজর্গ ওলী উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে জন্ম গ্রহণ করবে। সে দুনিয়া থেকে শিরক ও বিদ্‘আত দূর করে দ্বীন-ইসলামকে উজ্জীবিত করবে। তাঁর সোহবত স্পর্শ মনির মত হবে এবং তাঁর পুত্র ও খলীফাগণ দ্বীনি খিদমত উত্তমরূপে সম্পন্ন করবে।

মোজাদ্দেদে আলফেসানী (রাঃ) এর বাণী

এরপর হযরত গাওসে আজম (রাঃ) তাঁর খাস খিরকাকে কামালাতে ভরপূর করে স্বীয় পুত্র সৈয়দ তাজুদ্দীন আব্দুর রাজ্জাক (রাঃ)-কে সোপর্দ করে নির্দেশ দেনঃ- যখন ঐ বুজুর্গের প্রকাশ হবে, তখন যেন এটা তাঁকে প্রদান করা হয়। সেই সময় থেকে ঐ খিরকা মুবারক পর্যায়ক্রমে হস্তান্তরিত হয়ে হযরত পীরানে-পীর (রাঃ)-এর দৌহিত্র হযরত শাহ সেকেন্দার (রাঃ) এর মারফতে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রাঃ) -এর নিকট পৌঁছে।

এছাড়া হিজরী পঞ্চম শতকের মাঝামাঝি সময় হযরত শায়খ আহমদ জাম (রাঃ) নামক একজন বুজুর্গ ভবিষ্যদ্বানী করেন যে, তাঁর চারশ বছর পর ইসলাম জাহানে ‘আহমদ’ নামে একজন বুজুর্গ ব্যক্তির জন্ম হবে, যিনি মৃতপ্রায় ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করবেন। হযরত শায়খ আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী (রাঃ) ও হযরত শায়খ সেলিম চিশতী (রাঃ) উভয়েই মুরাকাবার মাধ্যমে মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রাঃ)-এর জন্মের বাতেনী ইঙ্গিত পেয়েছিলেন।

জাওয়াহেরে-মুজাদ্দেদীয়া গ্রন্থে এভাবে বর্ণিত আছেঃ- একদা অভ্যাস অনুযায়ী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রাঃ) যখন মুরীদদের সাথে ফযরের সালাত আদায়ের পর খানকার মধ্যে মুরাকাবায় রত ছিলেন, তখন হযরত শাহ্ কামাল কায়থিলী (রাঃ) -এর দৌহিত্র হযরত শাহ্ সেকান্দার (রাঃ) সেখানে উপস্থিত হন এবং একটি খেরকাহ্ বা জামা হযরত মুজাদ্দিদ (রাঃ) -এর কাঁধের উপর রাখেন। হযরত মুজাদ্দিদ (রাঃ) মুরাকাবা থেকে ফারেগ হয়ে হযরত শাহ্ সেকেন্দার (রাঃ) কে দেখে তাঁর সাথে আলিঙ্গন করেন এবং সম্মানের সাথে বসতে অনুরোধ করেন।

তখন হযরত শাহ্ সেকেন্দার (রাঃ) বলেনঃ- আমি আপনার কাঁধের উপর যে খেরকাটি রেখেছি, তা হযরত কুতুবে রাব্বানী গওসে ছামদানী শেখ সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ) -এর স্মৃতির পবিত্র নিদর্শন। এটা আমাদের খান্দানের কাছে দীর্ঘদিন থেকে আছে। আমার বুজর্গ পিতামহ শাহ কামাল কাযখিলী (রাঃ) ইনতিকালের সময় এ জুব্বাটি আমাকে দিয়ে বলেনঃ- “এটা আমানতস্বরূপ তোমার কাছে রাখ, আমি যখন এটা কাউকে দিতে বলি, তখন তাকে দিয়ে দিও।”

মোজাদ্দেদে আলফেসানী (রাঃ) এর বাণী

কিছুদিন থেকে তিনি এ জুব্বাটি আপনাকে দেওয়ার জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। কিন্তু কাদেরীয়া খান্দানের এ অমূল্য সম্পদ হস্তান্তর করতে আমার মন চায়নি। এরপর যখন আমার বুজর্গ পিতামহ বার বার আমাকে তাগিদ দিতে থাকেন, এমন কি তাঁর নির্দেশ অমান্য করলে, তিনি আমার কামালাত ও নিসবত ছিনিয়ে নেয়ার ধমক দেন; তখন আমি বাধ্য হয়ে এ দুর্লভ আমানত আপনার খিদমতে পেশ করার জন্য নিয়ে এসেছি।

সুলতানুল হিন্দ আতায়ে রাসুল খাজা মঈনউদ্দীন হাসান চিশতি (রাঃ)ও ভবিষ্যতবানী করেছেন মোজাদ্দেদে আলফে সানী (রাঃ) সম্পর্কে। তিনি গওসে আজম (রাঃ) এর দরবারে উপস্থিত হয়ে গওস পাককে বলেন হুজুর আমি এক নূর দেখতে পাই যা আসমান ও জমিনকে আলোকিত করে রেখেছে।তখন গওসে পাক ওনাকে এই নূর সম্পর্কে নিগূঢ় রহস্য বলেন। যা ছিল ইমামে রাব্বানী মোজাদ্দেদে আলফে সানী (রাঃ) এর নূর।

এরপরও আপনাদের আর কি বলার আছে? উপরে উল্লেখিত বিভিন্ন গ্রন্থ হতে নেওয়া ঘটনাগুলো মিথ্যা? হযরত শাহ সৈয়দ সেকান্দার (রাঃ) হতে হুজুর গওসে আজম(রাঃ) এর খেরকাহ হস্তান্তরকে কি বলবেন? আরেকটা আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে ইমামে রাব্বানীকে মেনে নিতে না পরে আপনারা গোটা নকশবন্দিয়া মোজাদ্দেদী খানদানকে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। ইমামে রাব্বানী ছাড়াও এই খানদানে আরও অসংখ্য সূর্যপুরুষ এসেছেন। আপনারা কি তাহলে একবাক্যে সুলতানুল আরেফিন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রাঃ) হযরত খাজা আবুল হোসেন খেরকানী (রাঃ) হযরত খাজা আবু আলী ফারমাদী তুসী (রাঃ) হযরত খাজা মোহাম্মদ বাবা ছাম্মাছী (রাঃ) হযরত খাজা সৈয়দ আমির কালাল (রাঃ) শামসুল আরেফিন হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ (রাঃ) হযরত খাজা বাকি বিল্লাহ (রাঃ) সহ আমাদের ভারত উপমহাদেশের অমূল্য রত্ন ওয়াইসি কেবলায়ে আলম সুফি ফতেহ আলী ওয়াইসী আল বর্ধমানী (রাঃ) কে তথা গোটা খাজেগানকে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন?

যেই ওয়াইসী কেবলা’র শিশ্য মওলানা আহমদ আলী ওরুফে বাবা জান শরিফ শাহ সুরেশ্বরী (রাঃ) ও কুতুবুল এরশাদ শাহ সুফি ওয়াজেদ আলী মেহেদীবাগী (রাঃ) এবং ওনাদের শিশ্যগন যারা বাংলার আনাচে-কানাচে সুফিবাদ ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদের অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন?

আগে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করুন। নিজের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে জানুন। তারপর বুঝে শুনে মন্তব্য করুন। নয়ত হঠাৎ করে একটা বলে দিলে ঐটা মূর্খামি ছাড়া আর কিছু বলে বিবেচ্য হবে না। ধন্যবাদ।

নিবেদক- Emran Hassan Emon