হোম আধ্যাত্মিক প্রশ্ন ও উত্তর আধ্যাত্মিক প্রশ্নোত্তর (পর্ব-১১)

আধ্যাত্মিক প্রশ্নোত্তর (পর্ব-১১)

ভাষান্তর: Bangla | English | Hindi | Arabic | Persian

আধ্যাত্মিক প্রশ্নোত্তর (পর্ব-১১)

৫৪.
শিষ্যঃ প্রেম কি আর কাম কি?

গুরুঃ প্রেম হল নিস্বার্থ কর্ম। কোনো বিনিময় লাভের আশা না করে শুধু প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যা যা করা হয়, তাহাই প্রেমে গণ্য। আর স্বার্থযুক্ত কর্মই হল কাম। কামের আরেক নাম হল বাসনা। বাসনা নিয়ে যে কর্ম করা হয় তাহা সবই কাম।

৫৫.
শিষ্যঃ ঈশ্বরের সন্তুষ্টির আশার বাইরে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী যে একে অপরকে ভালবাসে, তাহা কি তবে প্রেম নয়! তাহা সবই কি তবে কাম!

গুরুঃ জাগতিক বিষয় আর আধ্যাত্মিক বিষয় সম্পূর্ন ভিন্ন। এই দুইটি আলাদা জগত। এই জাগতিক মানুষ আনন্দে হাসে, আর প্রভুর প্রেমিকরা প্রভুর উদ্দেশ্যে চোখের জল ফেলে কাঁদতে পারলে আনন্দ পায়। জাগতিক ভাবে বিচার মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা, পশুর প্রতি পশুর ভালবাসা সবই প্রেম। কিন্তু আধ্যাত্মিক জগতের সব কিছুই হল প্রভুকে কেন্দ্র করে। যদি কোনো মানুষ কোনো মানুষ বা অন্য পশুকে প্রভুর সন্তুষ্টির জন্য ভালবাসে, তবে তা প্রেম। আর কাম হল কামনা বাসনা। যদিও জাগতিক মানুষের শুধু যৌনতাকেই কাম বলে। কিন্তু প্রভুর সন্তুষ্টির জন্য যদি যৌন কর্ম করে থাকে কেউ, তবে সেটাও তখন কাম না হয়ে প্রেমে গণ্য হবে।

৫৬.
শিষ্যঃ যৌন কর্ম কিভাবে প্রেম হতে পারে? আর প্রভুর সন্তুষ্টির জন্যেই বা কিভাবে কেউ যৌন কর্মে লিপ্ত হয়? সেটা কেমন পরিস্থিতে হয়?

গুরুঃ হে পার্থ! তোমাকে সহজ ভাবে বুঝাচ্ছি। ধরো কোনো স্ত্রী তার স্বামীর প্রতি খুব আসক্ত হয়ে উত্তেজিত হয়ে উঠল হঠাৎ। তার এই কাম জ্বালা নিবারণ না করার আগ পর্যন্ত সে অশান্তি থেকে মুক্তি পাবে না। এমন অবস্থায় স্বামীর উচিত স্ত্রীর মনের বাসনা পূর্ন করা। তবে নিজের খায়েশ মেটানোর জন্য নয়; বরং স্ত্রী হল প্রভুর সৃষ্ট জীব। আর এই স্ত্রীর অধিকার দেওয়া হয়েছে স্বামীর উপর। স্বামীকে ভাবতে হবে যে এই স্ত্রী আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার জন্য মেহমান, যার ভাল-মন্দ দেখার ভার আমার উপর দেওয়া হয়েছে, সুতরাং তাকে অশান্তি থেকে মুক্তি দিতেই হবে। এরূপ ভাবনা মনে নিয়ে স্ত্রীর মনের বাসনা পূরনে যৌন কর্মে লিপ্ত হলেও সেই স্বামীর জন্য তাহা প্রেমেই গণ্য হবে। কারন তার উদ্দেশ্য ছিল প্রভুর সন্তুষ্টি। [সংক্ষিপ্ত ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করব, জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট]

৫৭.
শিষ্যঃ ধন্য আমি। প্রভু! যদি বাসনাই কাম হয়ে থাকে তাহলে যারা লোভী, অহংকারী, হিংসুক, তারাও কি কামুক?

গুরুঃ হ্যা, লোভ, মায়া, অহংকার, হিংসা, মোহ যার মধ্যে আছে, সেই ব্যক্তিই কামুক।

৫৮.
শিষ্যঃ তবে যে প্রভু শুনেছি ষড় রিপুর মধ্যে কামই প্রধান রিপু, তাহলে লোভ, মায়া, মোহ, গর্ব, ঈর্ষা এগুলো ‘কাম’ হয় কিভাবে? সব ত আলাদা বিষয়।

গুরুঃ শুনো, কাম হল ষড় রিপুর প্রধান। আর বাকী পাঁচটি অপশক্তি হল কামের অধীন। কাম নিবারণ হলেই বাকীগুলো এমনিতেই দমন হয়ে যাবে। এই পাঁচের মিশ্রনেই ‘কাম’। কামের সাথে কোনো না কোনো ভাবে এই (লোভ, মায়া, অহংকার, হিংসা, মোহ) পাঁচটি অপশক্তি জড়িত।

৫৯.
শিষ্যঃ প্রভু কাম দমন করব কিভাবে?

চলবে…

» পরবর্তী পর্ব শুলো দেখুন

লেখাঃ DM Rahat

পূর্ববর্তী পোস্টআধ্যাত্মিক প্রশ্নোত্তর (পর্ব-১০)
পরবর্তী পোস্টআধ্যাত্মিক প্রশ্নোত্তর (পর্ব-১২)
"আমি মানুষেরেই পূজি, মানুষের মাঝেই আমি আল্লাহ-গড-ভগবানকে খুঁজি।"

এই পোস্টে একটি মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন