২১৬০০বার শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রভু কেনো আসা-যাওয়া করে?

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी العربية العربية

২১৬০০বার শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রভু কেনো আসা-যাওয়া করে?

২১৬০০বার শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রভু কেনো আসা-যাওয়া করে? সবার জন্য এই পোস্ট প্রযোজ্য নয়।

নাসিকা দ্বারা আমরা প্রতি সেকেন্ড শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে থাকি। এটা প্রতিদিন ২১৬০০ বার হতে পারে আবার কম বেশীও হতে পারে। অধমের মূল প্রসঙ্গ ভিন্ন বিষয়। মানব দেহ থেকে এই শ্বাস যখন চিরতরে বের হয়ে যাবে, তখনই মানুষের অর্থাৎ নফসের মৃত্যু ঘটবে। মহাপ্রভু অর্থাৎ পরম আত্মা প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে বের হয় আবার ভিতরে ঢুকে থাকে। এটা মহান আল্লাহর তাঁর বান্দার জন্য সতর্ক বার্তা। যাতে আমরা পাপ কাজ থেকে বিরত থেকে মহান প্রভুর স্মরণে নিমজ্জিত থাকতে পারি। মূলত মানবদেহের এক সেকেন্ডের ভরসা নাই। যখন তখন মৃত্যু ঘটতে পারে, এটা অস্বীকার করার অবকাশ নাই। পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা আমাকে সর্বক্ষণ স্মরণ করো, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করবো।

রুহুর জগতে আমরা সবাই ওয়াদা দিয়ে আসছিলাম, আল্লাহ তোমাকে আমরা এক সেকেন্ডের জন্য ভুলবো না। সর্বক্ষণ তোমাকে স্মরণ করিবো। কিন্তু আমরা পৃথিবীতে এসে ষড়রিপুর ফাঁদে পড়ে আল্লাহকে ভুলে পাপ কাজে নিমজ্জিত রয়েছি। তাই প্রভু প্রতিটি শ্বাসের মাধ্যমে বের হয়ে বলে, আমি বের হয়ে গেছি। এখন আমি আবার না ঢুকলেই তুমি লাশ হয়ে যাবে। অথচ তুমি আমাকে ভুলে পাপ কাজে লিপ্ত রয়েছো। এটাই কি আমার সাথে তোমার ওয়াদা ছিলো? এভাবেই মহান প্রভু প্রতিদিন ২১৬০০ বার আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। যাতে আমরা পাপ কাজ থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহর স্মরণে নিমজ্জিত থাকতে পারি। কিন্তু মহান আল্লাহ অপরিসীম দয়ালু বিধায়, আবার আমাদের ভিতরে ঢুকে।

শুধুমাত্র তওবা করে সংশোধন হওয়ার জন্য। কারণ আল্লাহ তওবাকারীকে খুবই ভালোবাসে। এই জন্যই আল্লাহর আরেক নাম রাহমানুর রাহীম অর্থাৎ দয়ালু। আল্লাহ যখনই আমাদের এই দেহ খাঁচা থেকে চিরতরে বের হয়ে যাবে, তখনই আমাদের জীবনের অবসান ঘটবে। প্রতিটি পাপ কাজ করার আগে যদি চিন্তা ভাবনা করি, এই তো প্রভু শ্বাসের মাধ্যমে বের হয়ে গেছে। আমার পাপ কাজের জন্য যদি আর না ঢুকে, তাহলে তো আমার ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে যাবে। এমনটি চিন্তা ভাবনা করলে, মানুষ পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারবে।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে বলেন, যার ক্বালবে আল্লাহ নামের জিকির চালু নাই, সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট এবং গোমরাহ। সূরা যুমার, আয়াত নং ২২। এই জিকির একবার ক্বালবে চালু হয়ে গেলে অটোমেটিক সর্বক্ষণ আল্লাহ আল্লাহ করতে থাকবে। ইহা আপনি সুস্পষ্ট শুনতে পারবেন। আপনি ঘুমের মধ্যেও আল্লাহ নামের মধুর জিকির শুনতে পারবেন। তখন আপনি অতি সহজেই আস্তে আস্তে করে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারবেন। কারণ আপনি প্রতিটি সেকেন্ডেই আল্লাহর স্মরণে নিমজ্জিত আছেন।

এই জন্যই আল্লাহ বলছেন, তোমরা আমাকে সর্বক্ষণ স্মরণ করো, আর আমি তোমাদেরকে স্মরণ করিবো। আর জিকির মানেই হলো স্মরণ করা। জিকির আরবী শব্দ। এর বাংলা অর্থ স্মরণ করা। মানুষের হৃদয়ে যখন আল্লাহ নামের মধুর জিকির চালু হয়ে যায়, তখন ঐ মানুষটির ভিতরে চরিত্রগত পরিবর্তন দেখা যায়। ইহা মহান আল্লাহর এক অশেষ নিয়ামত। এরুপ মানুষই প্রতিদিন ২১৬০০ বার আল্লাহ নামের মধুর জিকির করে থাকে। তাই লালন ফকির বলছেন, একবার আল্লাহ বল মনরে পাখি। সূফী সম্রাট শাহ দেওয়ানবাগী (রঃ) মানুষকে বায়াত হওয়ার সময়ই এই আল্লাহ নামের মধুর জিকিরের বীজ বপন করে দেন।

একটু পরিচর্চা করলেই ইহা বিশাল বট বৃক্ষের ন্যায় ধারণ করে। অর্থাৎ সর্বক্ষণ আল্লাহ নামের মধুর জিকির চালু হয়ে যায়। তবে একটু ভুল করলে আবার সাময়িকীর জন্য বন্ধ হয়ে যায়, আবার অনেক ক্ষেত্রে নিস্তেজ নির্জীব হয়ে যায়। তবে খাঁটি মনে তওবা করলে আবার পুনরায় চালু হয়ে যায়। সুতরাং সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়, একমাত্র ক্বালবে আল্লাহ নামের মধুর জিকির মাধ্যমেই প্রতিদিন ২১৬০০ বার আল্লাহর স্মরণে থাকা যায়।

সূত্র: সূফী সম্রাটের যুগান্তকারী ধর্মীয় সংস্কার।
নিবেদক: অধম পাপী মোজাম্মেল পাগলা।

error: অনুমতিহীন কপিকরা দণ্ডনীয় অপরাধ!