ফকির লালনশাহ নাস্তিক নাকি বড় একজন আশেক ছিলেন (আলোচনা)

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी العربية العربية

ফকির লালনশাহ নাস্তিক নাকি বড় একজন আশেক ছিলেন (আলোচনা)

লালন এর নাম এর পর কেন আমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলি এতে অনেকেই কনফিউজড। লালনকে আমি একজন ফক্বির মনে করি। লালন বাউল নয়। কারন উনি কখনো নিজেকে গানে বাউল বলে পরিচয় দেননি। সর্বদা ফক্বির বলেছেন৷ যা মুসলিমদের মাঝে এক উচ্চ পর্যায়ের আউলিয়াদের ধরন।

যেমন সবার পরিচিত একটি গান “মিলন হবে কত দিনে” সেখানে লালন বলেছেন,
“লালন ফক্বির ভেবে বলে সদাই
ঐ প্রেম যে করে সে জানে”

তাই উনি কোন বাউল নন উনিতো ফক্বির। কোন ফক্বির গ্রাম বাংলার ফক্বির নন উনি উনার মুর্শিদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে এক গানে বলেন,
“দরবেশ সিরাজ সাই কয় নাইরে লালন তার তুলনা”

উনার মুর্শিদের নাম দেখেই বুঝা যায় উনি মুসলিম দরবেশ ছিলেন। তাই লালনও উনার মুর্শিদের মত ফক্বিরিতে দরবেশ হয়েছেন।

উনার বিখ্যাত গান,
“পারে কে যাবি নবীর নৌকাতে আয়”
রুপকাঠেরী নৌকাখানি নাই ডুবার ভয়
পারে কে যাবি নবির নৌকাতে আয়”

আরো আছে,
“আইন ভেজিলেন রাসুলুল্লাহ
মুখে বলরে সদায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
লা ইলাহা নফি যে হয় ইল্লালাহ মোর দীন দয়াময়”

“নবী না মানে যারা মুরতাদ কাফের তারা এই দুনিয়ায়
ভজনে তার নাই মুজুরি এই দুনিয়ায়”

“মাওলা বলে ডাক রসনা গেল
দিন গেল বিষয় বাসনা মাওলা বলে ডাক রসনা”

“মিরাজ সে ভাবেরি ভুবন গুপ্ত ব্যক্ত আলাপ হয়রে দুজন”

“কোন প্রেমিকের প্রেমিক ফাতিমায় করেন সাইকে
অতি ভজনা কোন প্রেমের দায় ফাতিমাকে
সাই সাই মা বোল বলেছে সুধাই কার সনে”

“কায়াধারী হয়েরে কেন, এই ভুবনে ছায়া নাই,
রাসুল নামে কে এলোরে সোনার মদিনায়”

“ওরে রাসুলের দ্বীন সত্য জানো ডাকো সদাই আল্লাহ বলে”

আর কি বলবে উনি আর কি কিছু বলার আছে যে বুঝার এমনেই বুঝবে। আরে আমিতো সেদিনই উনাকে বুঝতে পেরেছিলাম যেদিন প্রথম উনার একটা গান শুনেছিলাম-

“অনন্ত কুঠুরি থরে থর চারদিকে আয়না মহল ঘর
বিনা হাওয়ায় রুপ দেখা যায় মনি মানিক্যের কোঠা
কি আজব কলের রশিক বানিয়েছে কোঠা”

যাদের অন্তরের চোখ খোলা উনারাই এই লাইন গুলির অর্থ বুঝবেন। আরে লালনের গান যারা গায় এরা কয়জন তার অর্থ বুঝে সেটাও ভাবার বিষয়।

লালন হল বাংলার রুমি, বাংলার শাহ আব্দুল লতিফ ভিটায়ি, বাংলার বুল্লে শাহ। (রাহিমাহুল্লাহ)

অনেক দেওবন্দি ও সালাফিরা পর্যন্ত যেমন জাকির নায়েক, শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানককে মুসলমান বলে । কিন্তু লালনের বেলায় তাদের মুখ বাকা হয়ে যায়। লালন কে যদি কেউ নাস্তিক বলে তার মত জালিম আর কেউ হবেনা। আরে যে সারাটা জীবন এক স্রস্টার প্রেমে জাজবার হালতে কাটাই দিলেন, কত গান লিখলেন সেই মাওলাকে নিয়ে, তাকে তোমরা নাস্তিক বলো!

হ্যা আমাদের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। মহাত্মা গুনিজনদের নিয়ে সবার টানাটানি। বামপন্থিরা বলে উনি আমাদের লোক। হিন্দুরা বলে আমাদের। বাউলরা বলে আমাদের। আসলে উনারা সব মানুষের।  উনাদেরকে বুঝতে হলে মানুষ হইতে হবে।

হাদিস মুতাবেক প্রত্যেকটা শিশুই মুসলিম হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। পরে বড় হয়ে সে যদি নাস্তিক না হয় আর অন্য কোন ধর্মও গ্রহন না করে তাহলেও সে কি মুসলিম থাকবেন না?

আরো কিছু কথা আছে সব সবার হজম হবেনা থাক।

শেষ কথা আমরা কে কি তা দেখিনা, কার সিনায় স্রস্টার নুর আছে তা দেখি। ওয়াসসালাম।

বিঃদ্রঃ হালতে সুকর এ অনেক বুজুর্গ থেকে অনেক কথা প্রকাশিত হয়। এ ভুলত্রুটি আল্লাহ ক্ষমা করবেন। লালন যদি এমন কিছু কথার জন্য মুসলিম না হন তাহলে কাজী নজরুলও মুসলিম না।

লেখকঃ রুবেল হাবিব