Tuesday, 9 Mar 2021

মৃত্যু কি আসলে ভয়ের নাকি পরম আনন্দলাভের!

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी العربية العربية

মৃত্যু কি আসলে ভয়ের নাকি পরম আনন্দলাভের!

আল্লাহ তায়ালা বলেন “প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাধ গ্রহণ করতে হবে।”

আমাদের সমাজের কতিপয় মোল্লা সমাজ বলে বেড়ায়, মৃত্যুর অনেক যন্ত্রণা। ওয়াজের মাধ্যমে এমনভাবে কেঁদে কেঁদে বলে, যা আমাদের মুসলিম সমাজে ভয়ভীতি সঞ্চার করে দিয়েছে। মৃত্যু নিয়ে তারা এক বিভীষিকাময় অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে ফেলছে। আর আমরা অবুঝ মুসলিম জাতি তাদের কথা বিশ্বাস করে সম্পূর্ণ আল্লাহ বিরোধী আকিদায় মনকে বিশ্বাসী করে ফেলছি। যেখানে আল্লাহ নিজে বলছে মৃত্যু হল স্বাধ, সেখানে মোল্লা সমাজ সম্পূর্ণ আল্লাহ বিরোধী শিক্ষা আমাদের দিয়ে যাচ্ছে। আচ্ছা দাদা ভাই স্বাধ কি কখনো তিতা হতে পারে অথবা যন্ত্রণাময়? আমরা কিন্তু প্রায় বলে থাকি, বাহ রান্নাটা খুব স্বাধ হয়েছে অথবা আমটি খেতে খুব স্বাধ লেগেছে। স্বাধের নাম যদি তিতা অথবা যন্ত্রণাময় হয়, তাহলে আমার কিছু বলার নাই। শুধু বলতে চাই আমরা অন্ধ, বধির এবং বিবেকহীন জাতি। নচেৎ স্বাধকে কখনো তিতা বলা যায় না।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে বলেন,

“হে প্রশান্ত আত্মা, তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে এসো এমনভাবে যে তুমি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট এবং তিনি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট।” (সূরা আল ফজর, আয়াত নং ২৭ ও ২৮)।

সৃষ্টির শুরুতে আল্লাহ তায়ালা সমস্ত রুহকে একদিনে সৃষ্টি করলেন। তারপর আমরা ধারাবাহিকভাবে একে একে সবাই পৃথিবীর বুকে আগমন করছি। মূলত আমরা সবাই আল্লাহর জাত পাকের সাথে একাকার মিশে ছিলাম এবং পরম আনন্দ ও সুখে ছিলাম। যখন আমরা মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হই, তখনই প্রতিটি শিশু চিৎকার দিয়ে উঠে। কারণ তখন সে আল্লাহর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরম শান্তি থেকে অশান্তিময় জগতে প্রবেশ করে। শিশুটি বিচ্ছেদ যন্ত্রণায় কাতর হয়ে চিৎকার দিয়ে বলে, আমি আবার কোথায় আসলাম? তারপর শিশুটি যখন আস্তে আস্তে বড় হয়, তখন সে ষড়রিপু অর্থাৎ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য রিপুতে যুক্ত হয়ে আল্লাহকে ভুলে যায়। তখন আমাদের খেলার সাথী, মা-বাবা, স্বামী -স্ত্রী, সন্তান ইত্যাদি জগৎ সংসারের মোহে আল্লাহকে প্রায় পরিপূর্ণভাবে ভুলে যাই। আর তখনই নেমে আসে আমাদের জীবনে দুর্বিশয় যন্ত্রণাময় জীবন ব্যবস্হা। কোন অবস্থায়ই আমরা ষড়রিপুর ফাঁদ কেটে বের হতে পারি না।

কিন্তু মানুষ যখনই আল্লাহর মনোনীত অলী আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যায়, তখন অলী আল্লাহগণ তাকে প্রথমে আত্মশুদ্ধি অর্থাৎ ষড়রিপু থেকে মুক্ত হতে শিক্ষা দান করে। অলী আল্লাহর প্রেমের অফরন্ত ফায়েজে ঐ মানুষটি আস্তে আস্তে ষড়রিপু থেকে মুক্ত হয়। তখন সে সারাক্ষণ আল্লাহ এবং পাক পান্জাতনের গভীর প্রেমে নিমগ্ন হয়ে যায়।

তাই জালাল উদ্দীন রুমি (রঃ) বলেছেন, “এক মূহুর্ত অলী আল্লাহর সহবত থাকা শতবছর নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ এক সেকেন্ড শুদ্ধচিত্তে গুরুর প্রতি আদব, ভক্তি, বিশ্বাস ও প্রেমভাব নিয়ে অলী আল্লাহর সঙ্গ বা গোলামী করলে একশত বছর নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম।

এবার আপনি ভেবে নিন, অলী আল্লাহকে আল্লাহ কত মর্যাদাবান করে জগতে পাঠিয়েছেন।

আল্লাহকে পাওয়ার প্রেম যখন অধিক পরিমানে বৃদ্ধি হতে থাকে, তখন সে পুনরায় আল্লাহর সান্নিধ্যে পাবার আশায় এশকে দেওয়ানা ব্যাকুল হয়ে পড়ে। সে এমনভাবে নিমগ্ন হয়ে যায় যে, তখন জগৎ সংসার তার নিকট তুচ্ছ হয়ে যায়। তাই তো মনছুর হাল্লাজ আল্লাহর প্রেমে এশকে দেওয়ানা হয়ে বলেছিল, আনাল হক। কারণ মনছুর হাল্লাজ নিজের আমিত্ববোধ বিলীন করে নিজের অস্তিত্বকে ভুলে গিয়ে আল্লাহতে মিশে গিয়েছিল।

সাধক তখন আল্লাহর সাথে চিরস্থায়ী বিলীন হওয়ার জন্য গলা কাটা মুরগীর ন্যায় ছটফট করতে থাকে। কারণ পরম প্রভুর সান্নিধ্য লাভ তাকে পাগল করে তুলে। মৃত্যু ছাড়া কখনো আল্লাহর সাথে চিরস্থায়ীভাবে মিশা যায় না। তাই সাধক তখন মৃত্যুকে তুচ্ছজ্ঞান মনে করে, মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুনতে থাকে। তখন সে সারাক্ষণ মৃত্যুকে প্রেমা আলিঙ্গন করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে। কারণ একমাত্র মৃত্যুর স্বাধই তাঁকে পরম বন্ধুর সাথে চিরস্থায়ী রুপে মিশাতে পারে। এমন সাধককে উদ্দেশ্য করেই আল্লাহ বলেছেন, তুমি ফিরে এসো আমার নিকট, যেমনটি তুমি আগে আমার সাথে ছিলে। সাধকের যখন পরম কাঙ্ক্ষিত অর্থাৎ মৃত্যুর সময় আসে, তখন স্বয়ং আল্লাহ এসে বলে, হে আমার পাগল প্রেমিক তুমি আসো আমার সাথে মিশে যাও। তখন সাধক হাসতে হাসতে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে চিরস্থায়ীভাবে মিশে যায়। তখন তার আর কোন জন্ম বা মৃত্যু নেই। সে হয়ে যায় চির অমর।

আচ্ছা এবার বলুন, মৃত্যু কি স্বাধের নাকি যন্ত্রণাময় তিতা বস্তু। আল্লাহ যেখানে নিজে বলছে মৃত্যুর স্বাধ, সেখানে আমরা বলছি মৃত্যু যন্ত্রণাময়। তাহলে আমরা কার কথা বিশ্বাস করব। এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি আপনার নেওয়ার পালা। আপনি আল্লাহর বিধান মানবেন নাকি মোল্লাদের বানানো কথা মানবেন। বিদায়বেলা বলে যাচ্ছি, মনের কথা সব নাহি বলতে পারছি। ভুলক্রটি হয়েছে অজস্র, ক্ষমা চাই নতশিরে। মোজাম্মেল পাগলার নিছক হেয়ালি, ক্ষমা করো প্রভু আমারে। অনেক হয়েছে আর নয়, চরণ ভিক্ষা দিয়ে কর পাগলার মন স্বান্তনা।

(তবে মোনাফেক ও কাফেরদের মৃত্যু অবশ্যই কষ্টের এবং কঠিন যন্ত্রণাদায়ক)।

বিঃদ্রঃ কথা গুলো মানা বা নামানা একান্তই আপনার বিবেক। মানতে হবে এমন কোন বিধান নাই। মানলে চলে যান অলী আল্লাহর কাছে। আর না মানলে পড়ে থাকুন আপনমনে।

নিবেদক: অধম পাপী মোজাম্মেল পাগলা।

1 thought on “মৃত্যু কি আসলে ভয়ের নাকি পরম আনন্দলাভের!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: অনুমতিহীন কপিকরা দণ্ডনীয় অপরাধ!
Copy link
Powered by Social Snap