পাপ ও পুণ্যের ধারণা কবে থেকে?
মানব সমাজের ইতিহাসে পাপ ও পুণ্যের ধারণা বহু প্রাচীন। আমরা প্রায়ই পাপকে নির্দিষ্ট লিঙ্গের সাথে যুক্ত করি, যেমন: পুরুষ শয়তান, নারী সতী, অথবা উভয় লিঙ্গের প্রতি ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু সত্য হলো, পাপের কোনো লিঙ্গ নেই; এটি চৈতন্যের অভাবের ফল।
ধর্মীয় বর্ণনায় দেখা যায়, শয়তান আদমকে প্রলোভনে ফেলেছিল, হাওয়াকে নয়। এটি একটি রূপক, যা বোঝায় যে পাপের প্রলোভন লিঙ্গভিত্তিক নয়, বরং চৈতন্যের দুর্বলতার ফল। আদম ও হাওয়া উভয়েই মানব, এবং উভয়েই চৈতন্যের অধিকারী।
সমাজে আমরা প্রায়ই দেখি, পুরুষ মসজিদে ইমামতি করছে, আবার সেই পুরুষই অন্য পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। নারী পর্দার আড়ালে থেকেও পাপে লিপ্ত হতে পারে। এগুলি প্রমাণ করে যে পাপ কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের নয়। পাপের মূল কারণ হলো চৈতন্যের অভাব।
চৈতন্য হলো সেই আলো, যা আমাদের সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। যে ব্যক্তি চৈতন্যবান, সে পাপ থেকে দূরে থাকে, লিঙ্গ নির্বিশেষে। অন্যদিকে, চৈতন্যহীন ব্যক্তি সহজেই পাপের পথে চলে যায়।
সমাজে লিঙ্গভিত্তিক পাপের ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। পাপকে চৈতন্যের অভাব হিসেবে দেখতে হবে। তবেই আমরা একটি ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব।
পাপের কোনো লিঙ্গ নেই। এটি চৈতন্যের অভাবের ফল। আমাদের উচিত, চৈতন্যের আলোয় নিজেদের আলোকিত করা এবং সমাজে লিঙ্গভিত্তিক পাপের ধারণা পরিবর্তন করা। তবেই আমরা একটি ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব।
– ফরহাদ ইবনে রেহান






