হোমপেজ আমল ও ওজিফা সুফির দৃষ্টিতে রোজা বা সিয়ামের শুদ্ধতা।

সুফির দৃষ্টিতে রোজা বা সিয়ামের শুদ্ধতা।

সুফির দৃষ্টিতে রোজা বা সিয়ামের শুদ্ধতা।

সুফির দৃষ্টিতে রোজা বা সিয়ামের শুদ্ধতা।

সউম বা সিয়াম শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো- বিরত থাকা, বর্জন করা, আত্মসংবরণ করা ইত্যাদি। শরিয়তের পরিভাষায় নিয়তসহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাস এবং যাবতীয় নিষিদ্ধ অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকাকে সিয়াম বলে। কোথাও কোথাও ‘সউম’ শব্দটিকে কথা না বলে থাকাও নির্দেশ করে। আবার ফার্সি শব্দ অনুসারে সিয়ামকে রোজা, রমজান বলা হয়ে থাকে যা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারতে রোজা রমজান শব্দ অধিক প্রচলিত।

সিয়াম:

(এখানে রোজা শব্দটি ব্যাবহার করলাম) যদি একটু শুদ্ধ চেতনায় স্বচ্ছ ধারণ করি তাহলে রোজার মাহাত্ম্য বুঝতে আরেকটু পরিষ্কার হবে। কোরআন এবং হাদিসের আলোকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানাহার থাকার পর ইফতারের কথা বলা হয়েছে। ইফতার অর্থাৎ রোজা ত্যাগ করা,ভেঙ্গে ফেলা, ছিঁড়িয়া ফেলা, হালাল খাবার গ্রহণ করা। যাহা শরিয়তের প্রচলিত আইন কানুন অনুসারে চমৎকার একটি বিধান।

রোজার মাহাত্ম্য:

একজন সুফি সাধকের দৃষ্টিতে রোজাকে ভিন্ন রূপে রূপান্তর করেন। একজন সুফির দৃষ্টিতে রোজা মানে দেহ শুদ্ধতার মাধ্যমে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে মনকে স্থির রেখে দুনিয়ার সকল বিষয়-আশয় থেকে মুক্ত হওয়ার পদ্ধতি বা প্রচেষ্টাকে রোজা বলে থাকেন। যিনি দীর্ঘ কাল রোজা পদ্ধতি অনুসরণ করে দেহ ও মনকে দুনিয়ার মোহ মায়া থেকে বিরত রেখে অর্থাৎ হান্নাছ যুক্ত নফসকে পরিশুদ্ধ করেছেন তিনি ইফতার প্রাপ্ত হয়েছেন। ইফতার অর্থাৎ ত্যাগ করা (সকল মোহমায়া), ভেঙ্গে ফেলা (সকল কুসংস্কার), ছিঁড়িয়া ফেলা (হান্নাছ যুক্ত বা কলুষিত নফসকে), হালাল খাবার গ্রহণ(শুদ্ধ চিন্তা করা) অর্থাৎ সকল বিষয়আশয় থেকে মুক্ত হয়ে একজন রোজাদার ব্যক্তি ইফতার প্রাপ্ত হয়ে পবিত্রতা অর্জন করেন। ঠিক তখন  আল্লাহ রোজাদার ব্যক্তির প্রেমিক হয়ে আল্লাহর বন্ধু রূপে গ্রহণ করেণ। যার চলন বলন সকল কিছুতে আল্লাহর গুন, শুদ্ধতার রূপ এবং আল্লাহর প্রেমের বাণী উপলব্ধি করা যায়।

-সাদিকুল ইসলাম।