হোম পেজ আত্ম সচেতনতা দেহ ও আত্মার সমন্বয়ে একজন মানুষ।

দেহ ও আত্মার সমন্বয়ে একজন মানুষ।

দেহ ও আত্মার সমন্বয়ে একজন মানুষ।

আত্মা ছাড়া দেহ সম্পূর্ণ অচল। তবে দেহ ছাড়াও আত্মা সচল। যে কোন মানুষই তাহার দেহ রোগ হইতে সুস্থ থাকিতে নানান চিকিৎসা গ্রহণ করিয়া থাকে, আর রোগমুক্ত না হওয়া অবধি নানান দুশ্চিন্তায় থাকে জর্জরিত। কিন্তু বড়ই আফসোস যে, অধিকাংশ মানুষই নিজের নানান জটিল ও ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত আত্মার চিকিৎসা করাইবার প্রয়োজন বোধ করে না। অথচ রোগাক্রান্ত আত্মার সুচিকিৎসা করানো প্রতিটি মানুষের জন্যেই আদর্শ ফরজ। কেননা প্রতিটি আত্মাকেই তাহার আপন স্রষ্টার সম্মূখে দাঁড়াইতে হইবে কঠিন বিচারের কাঠগড়ায়। আর কেবলমাত্র সুস্থ আত্মা তথা পরিশুদ্ধ আত্মাই পাইবে নাযাতের ফয়সালা। ইহাই স্রষ্টার বিধান।

মানবাত্মার জটিল ও ভয়াবহ রোগগুলি হইলো- মিথ্যাচার, অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্ষোভ-ক্রোধ, প্রতিশোধ পরয়ণতা, অন্যের ক্ষতি সাধন, লোভ-লালসা, প্রতারণা, শঠতা, পরনিন্দা-পরচর্চা, কৃপণতা, রীয়া বা লোক দেখানো ইবাদত ও দান খয়রাত, রিজিক ও জান্নাতের বাসনায় ইবাদত, আমানতের খেয়ানত, আচার-আচরণে অনম্রতা বা অভদ্র ব্যবহার, ইবাদতে অলসতা, নিজের জ্ঞানকে সেরা মনে করা ইত্যাদি। ইহারাই কু-রিপু নামক মহা শয়তান এবং ইহাদের জননী মহাশক্তিধর আমিত্ব শয়তান।

দয়াময় আল্লাহ পাক মানবাত্মার সুচিকিৎসার মাধ্যমে নাযাতের জন্যে তাঁহার মনোনীত প্রতিনিধি নবী-রসূল-অবতারগণকে উপযুক্ত চিকিৎসক ও পথপ্রদর্শক অভিভাবক স্বরূপ প্রেরণ করিয়াছেন যুগে যুগে।

দয়াময় আল্লাহ পাক তাঁহার সর্বাধিক প্রিয় হাবিব নবীজি হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর মাধ্যমে নবুয়তের যুগ শেষে রেসালতের ধারা অব্যাহত রাখিয়া তাঁহার পবিত্র আহলে বাইয়েত আঃগণের মাধ্যমে শুরু করিয়াছেন বেলায়েতের যুগ। আর বেলায়েতের যুগে রসূল হইলেন দয়াময় আল্লাহ পাক এর মনোনীত প্রতিনিধি কামেল অলীগণ তথা যামানার ইমামগন। তাঁহারাই সিরাতল মুস্তাকিমের চিরসত্য আলোকিত পথের সন্ধান দানকারী আলোক বর্তিকা তথা পথহারা মানবকূলের মুক্তির দিশারী।

জ্ঞানহীন মূর্খতার পরিচয় দিয়া বিতর্ক করা ছাড়া উহা অস্বীকার ও অবজ্ঞা করিবার কোনই সুযোগ নাই।
কেননা প্রতিটি মানুষেরই বিচার দিবসে সেই যামানার ইমামসহ তাহাকে ডাকা হইবে। আর নাযাতপ্রাপ্ত হইবে কেবল পরিপূর্ণ সুস্থ আত্মা তথা পরিশুদ্ধ আত্মাগণ যাহারা সেই যুগের ইমামের অনুগামী। পবিত্র কুরআন এর মাধ্যমে ইহাই মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ পাক এর ফয়সালা।

আর যেই আত্মাকে দাঁড়াইতে হইবে বিচারের কাঠগড়ায়, সেই আত্মাকে পরিপূর্ণ সুস্থ রাখা তথা পরিশুদ্ধ অবস্থায় রাখিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের জন্যই সর্বাপেক্ষা প্রধান দায়িত্ব। ইহাই আদর্শ ফরজ।

সর্বাপেক্ষা বোকা ব্যক্তিও নিজের ভালোটি বুঝিয়া চলে। সুতরাং যে কেহ নিজের ভালোটি চিন্তা করিলে, নিজের নাযাতের ফয়সালা কামনা করিলে, বিচার দিবসে লজ্জা ও ভয়ে জর্জরিত হইতে না চাহিলে, সম্মানের সহিত জান্নাতী সুখ ভোগ করিতে চাহিলে তাহাকে স্বীয় আত্মার সুচিকিৎসা করাইবার জন্যে অবশ্যই দয়াময় আল্লাহ পাক এর মনোনীত প্রতিনিধি কোন কামেল অলী-মুর্শিদের শরণাপন্ন হইতে হইবে। ইহাই পবিত্র কুরআন মোতাবেক মানবকূলের জন্যে মহা মহিমাময় আল্লাহ পাক এর চূড়ান্ত ফয়সালা।

– ফখরুল চন্দ্রপুরী

Donationdonate
পূর্ববর্তী পোস্টশ্রী রমেশশীল আল-মাইজভান্ডারীর বাণী।
পরবর্তী পোস্টখাজাবাবা ফরিদপুরীর জবান থেকে শুনা একটি শিক্ষনীয় কাহিনী
হে মানব! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত যে কঠোর সাধনা করে থাকো, তা তুমি দেখতে পাবে। - (সূরাঃ আল ইনশিকাক-৬)