হোম মানবতা ও ধর্ম বকধার্মিক হিন্দু-মুসলিম

বকধার্মিক হিন্দু-মুসলিম



Web Design

বকধার্মিক হিন্দু-মুসলিম

হিন্দুদের কীর্তন শুরু হলেই আশে পাশের মুসলিমদের একটা অভিযোগ যে “হিন্দুরা কি সব চিল্লা পাল্লা করে, ঢোল তবলা বাজায়, হরি হরি করে, আর কি বলে সেটা না ওরা বুঝে, না আমরা বুঝি! আর কি একজনের নাম নেয় কৃষ্ণ কৃষ্ণ, কানটা ঝালা পালা হয়ে যায়। হিন্দু ধর্ম কোনো ধর্ম হইলো! নিজেরা মূর্তি বানিয়ে নিজেরা পূজা দেয় (মুসলিমরা আরো অনেক বাজে ভাষায় গালিও দেয়)।”

আবার মুসলিমদের ওয়াজ মাহফিল শুরু হলেই আশে পাশের হিন্দুরা বলে ‘মুসলিমদের কি আক্কেল জ্ঞান নাই! ১০০-১৫০ টাকার বই কিনলে ভাল ভাল কথা জানা যায় সেই বই পড়ে, অথচ আবালের মত লাখ লাখ টাকা খরচ করে মোল্লাদের এনে ওয়াজ শুনে। আর মাইকে কি চিল্লা পাল্লা করে যে আশে পাশে থাকাও যায় না। আর কি জিকির করে ‘আল্লাহ আল্লাহ'(বিকৃত করে বলে কিছুটা), আর কি এক নবী ছিল তাদের, যে কি না ১৩-১৪ টা বিয়ে করছে। কি চরিত্রের পুরুষ! সে আবার তাদের ধর্মাবতার, তার নামে নাকি আবার দুরুদও পড়ে সূর কইরা (হিন্দুরা গালিও দেয় অনেক কিছু বলে)।”

এই দুই ধরনের মানুষ গুলোই এক কথায় অমানুষ। তারা কেউই প্রকৃত ধার্মিক নয়। যার নিজের ধর্মে বিশ্বাস আছে সে কখনো অন্যের ধর্মকে গালি দিতে পারে না। কোনো ধর্মই অন্য ধর্মকে গালি দেওয়ার পারমিশন দেয় নাই। যারা নিজের ধর্ম সম্পর্ক অজ্ঞ, জন্ম সূত্রে ধর্ম অর্জন করে নিজেকে অনেক বড় ধার্মিক দাবি করে তারাই এরকম নোংরা মনমানসিকতার হয়ে থাকে।

আসেন এইবার দুইজনের কথার বিশ্লেষন করি:

প্রিয় হিন্দু ভাই-বোন! আপনাকেই বলছি। আপনার ধর্মের কিছু বিষয় আছে, তা অন্যের ধর্মে হুবুহু না থাকলে ভিন্ন ভাবে সেই সেক্টর ঠিকই আছে। নাম কীর্তন নিয়ে আপনাদের যেমন শত পূন্যের কথা শাস্ত্রে আছে, তেমনি মুসলিমদেরও নাম কীর্তনে পূন্য আছে, তবে সেটা হয়তো আপনাদের মত হুবুহু করে নয়।

আপনি হরি হরি নাম জপনা করে যেমন মনের আনন্দে গেয়ে উঠেন-

‘হরি নামে কি আনন্দ
ডুবলে জানা যায়
নামে যে ডুবেছে সে বুঝেছে,
অন্যের বুঝা বড় দায়।”

ঠিক তেমনি মুসলিমরাও তাদের মহান প্রভুর নাম জপতে জপতে ভাবে বিভুর হয়ে আনন্দে গেয়ে উঠে-

“রোজ বিহনে একটা পাখি
আল্লাহ আল্লাহ ডাকে,
সেই পাখিটির গানে গানে
হৃদয় দুলতে থাকে।”

প্রিয় মুসলিম ভাই-বোন! আপনাদের বলছি, প্রতিটি ধর্মেরই কিছু দিক থাকে, যা যুক্তি তর্ক দিয়ে বিচার করা যায় না, আপনার ধর্মেরও এমন অনেক কিছু আছে, যা জিজ্ঞাস করলে আপনি উত্তর দিতে না পারে বলতে বাধ্য হবেন যে ‘আল্লাহ ভাল জানেন”।

আপনি যেমন মনের আনন্দে গেয়ে উঠেন-

‘মুহাম্মদ নাম যতই জপি
ততই মধুর লাগে,
নামে এতো মধু আছে
কে জানিতো আগে।”

ঠিক তেমনি হিন্দুরাও গেয়ে ঊঠে-

“রাধা-কৃষ্ণ বল রে ওমন
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বল,
বাহু তুলে নেচে নঁচে
বৃন্দাবনে চল।”

একে অন্যের অভিযোগ অনুসারে হিন্দুরা মাটি দিয়ে মূর্তি পূজা করে, আর মুসলিমরা করে একটি ঘরের পূঁজা। কিন্তু হিন্দুদের জিজ্ঞাস করলেই তারা বলবে যে ‘আমরা মূর্তি পূজা করি না, বরং ভগবানের দিকে মনকে স্থীর করার জন্য মূর্তির দিকে মনোনিবেশ করে ভগবানের স্মরনে ভগবানের পূজা করি”। অনুরূপভাবে মুসলিমরাও বলে যে “আমরা কা’বাকে পূজা করি না, কা’বাকে লক্ষ করে আল্লাহর ইবাদত করি।” রাসূলের বিবাহ নিয়ে যেমন ফালতু অভিযোগ তুলে হিন্দুরা, ঠিক তেমনি মুসলিমরাও কৃষ্ণকে নিয়ে বাজে কথা বলতে দ্বিধা করে না।

প্রকৃত পক্ষে কোনো ধর্মেই মানুষকে অন্য ধর্মের প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ এর কথা বলে না। সব ধর্মের মর্ম কথাই হল মানবতা ও প্রেম। যারা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে তারা কেউই প্রকৃত ধার্মিক নয়।

আসুন আমরা প্রতিটি ধর্মকে ভালবাসি ও সম্মান করি এবং নিজ ধর্মের মাহাত্ম সবার মাঝে ছড়িয়ে দেই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে। তবেই আমাদের ধর্ম-কর্ম সার্থক হবে এবং আমরা হতে পারব প্রকৃত ধার্মিক।

লেখাঃ DM Rahat

পূর্ববর্তী পোস্টকুতুবউদ্দিন আহমদ আল হোসাইনী চিশতীর সংক্ষিপ্ত পরিচয়
পরবর্তী পোস্টকুতুবউদ্দিন আহমেদ আল হোসাইনী চিশতীর বাণী (পর্ব-১)
"আমি মানুষেরেই পূজি, মানুষের মাঝেই আমি আল্লাহ-গড-ভগবানকে খুঁজি।"

1 মন্তব্য

এই পোস্টে একটি মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন