শির দিয়েছেন, কিন্তু ইয়াজিদের হাতে হাত রাখেননি।
বিখ্যাত উর্দু কবি আল্লামা ইকবালের ভাষায়:-
“ঝুকা থা যো সারবার, গাহে খোদা মে
ওয়াহি ছের কালাম হো, গায়া কারবালা মে”
অর্থাৎ, “যে মাথা আল্লাহর দরবারে ছিল নত,
সেই মাথা আজ কারবালায় কাটা গেল”
এদিকে সুলতান-উল-হিন্দ বললেন:-
“দ্বীন আস্ত হুসাইন, দ্বীন পানাহ আস্ত হুসাইন”
অর্থাৎ, “ধর্ম হচ্ছেন হুসাইন, ধর্মের আশ্রয় হচ্ছেন হুসাইন”
“সারদ্বাদ নাদ্বাদ, দাস্ত দারে দাস্ত ইয়াজিদ”
অর্থাৎ, “শির দিয়েছেন, কিন্তু ইয়াজিদের হাতে হাত রাখেননি”
শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয় বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য যুগের নূহের কিশতির চেয়েও নিরাপদ নবী মুহাম্মদ সাঃ এর আহলে বায়াত, সেই আহলে বায়াতের অন্যতম নির্ভরশীল ও শেষ খুঁটি ইমাম হুসাইন। মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্রান্তিলগ্নে ইমাম হুসাইনের পঞ্চমুখ, ইমাম হুসাইনকে বারবার ইয়াজিদ কর্তৃক প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল আপনি ইয়াজিদের আনুগত্য শপথ গ্রহণ করুন, ইমাম হুসাইন প্রতিবার’ই তাদের প্রস্তাব নাখোশ করে দিয়েছিলেন।
তাঁরা এও বলেছিলেন যে, আপনি যদি ইয়াজিদের আনুগত্য শপথ গ্রহণ করেন তবে তাহা আপনার ইহকাল ও পরকালের জন্য মঙ্গলময় হবে৷ এর জবাবে ইমাম হুসাইন বলেছিলেন মঙ্গলময় তো দূরের কথা বরং প্রকৃত ইসলামও লাপাত্তা হয়ে যাবে যদি মুসলিম সম্প্রদায় ইয়াজিদের ফাঁদে পড়ে।
কিন্তু ইয়াজিদের টার্গেট তার পিতা মুয়াবিয়ার চিহ্নিত ব্যাক্তি নবী মুহাম্মদের নাতি ইমাম হুসাইনকে যে কোনো উপায়ে’ই হোক তার আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করাতে’ই হবে, আর যদি ইমাম হুসাইন তার আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতে না চায়, তবে ইমাম হুসাইনকে অবশ্য’ই হ*ত্যা করে তার মস্তক দামেস্কে নিয়া আসা হবে৷ এখানে আরও ইয়াজিদ কর্তৃক অনেক নাশকতার ঘটনা বাকি রয়েছে যার বিস্তারিত উল্লেখ করার মতন অবস্থা আমার নেই।
ইমাম হুসাইন ইয়াজিদের বিক্রিত ইসলাম এবং তাদের শাসন আইন লেবাসের প্রতি আনুগত্য স্বীকার না করার ফলে ১০ ই মুহাররম কুফার সুপ্রাচীনতম নদী ফোরাত কূলে কারবালার প্রান্তরে যে মর্মান্তিক ঘটনা ইয়াজিদরা ঘটিয়েছিলেন তা অবর্ণনীয়।
সে বড় হৃদয়বিদারক ঘটনা, হায়’রে দুগ্ধপোষ্য শিশু আলী আসগর এক ফোঁটা পানির জন্য সীমার বাহিনী দ্বারা তীরের আঘাতে র*ক্তস্রোতের মুখে শহীদ হয়েছিলেন, যখন আলী আসগর শহীদ হলেন তখন ফোরাত কূলে ‘পানি পানি’ বলে উচ্চস্বরে বিলাপ শুনতে পাওয়া যায়।
এ দিনে মুসলিম সম্প্রদায়ের, দায়-দরদের নেতা ইমাম হুসাইন সহ ৭২ জন শহিদ হন। আমি আবারও বলছি, এত অন্যায় অবিচার ইমাম হুসাইনদের উপর ইয়াজিদরা করেছিলেন তার সম্পূর্ণ বর্ণনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নহে৷ মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে ইয়াজিদের নিয়ম ও আইন লেবাসধারণ করার দল এখনো অনেক ভারী, তাঁরা এখনো ইয়াজিদকে মুমিন পর্যন্ত বানিয়ে রেখেছে।
তুমি লজ্জাহীন বেশরম মুসলিম,তোমার কী চোখ নেই? তুমি কী অন্ধ? তোমার কী মস্তিষ্ক নেই? বেহায়ার মতন তুমি এখনো কারবালার ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চাও! তুমি এখনো বুঝাতে চাও ইয়াজিদের দোষ থাকলে ইমাম হুসাইনেরও দোষ রয়েছে! ইমাম হুসাইন মুমিন হলে ইয়াজিদও মুমিন! তোমার লজ্জা করেনা তুমি এখনো নিজেকে মুসলিম দাবি করো?
তুমি ইয়াজিদের অনুসারী হয়ে ইমাম হুসাইনের মানবতার ধর্মকে কী বুঝবে?আরে তুমি তো ইয়াজিদের শপথ নেয়া মুসলিম! তুমি হুসাইনের প্রেম কী বুঝবে? তুমি হুসাইন প্রেমিদের পাগলামি দেখে ফতোয়া দিচ্ছো বেয়াদব! হুসাইন প্রেমে পাগলামি দেখে শিয়া-সুন্নি বলে তুমি কীসের ট্যাগ লাগাতে চাচ্ছো? প্রেমিকের আবার শিয়া সুন্নি কী!
১০ই মুহররম হুসাইন প্রেমিরা হুসাইন শোকে কাতর হয়ে নিজেদের উপর আঘাত করলে তুমি ইয়াজিদ অনুসারীর সমস্যা কোথায়? এ দিন তো তোমার আনন্দের দিন? তুমি তো এই দিনে গান গাইবে? কারণ ইয়াজিদরা তো হুসাইনের কাটা শির দেখে গান গেয়েছিলেন!
এখন হুসাইন প্রেমিরা শোকে নিজেদেরকে আঘাত করলে তুমি ফতোয়া দিচ্ছো! তুমি কী জানো? তোমার নেতা ইয়াজিদ ইসলামের সাথে কত বড় গাদ্দারী করেছে? আজ ইসলাম হতে পারতো প্রকৃত শান্তির এক ধর্ম, ইসলাম হতে পারতো সর্বজনীন মানুষের ধর্ম, যদি দ্বীনে মুহাম্মাদী ইসলামের মাঝে উমাইয়া আব্বাসীয়ারা না আসতো৷
ইসলামের মাঝে বর্বরতা,কঠোরতা, হিংসার আইন লেবাস এ সকল কিছু’ই ঐ দুই বংশের খামখেয়ালিতে হয়েছে, ঐ বংশের অনুসারীরা এখনো ইমাম হুসাইনকে দোষ দিতে লজ্জা পায় না, ইয়াজিদকে মুমিন বানাতেও তাদের বুক কাপেনা, ওরা কত নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছে তা প্রকাশ করার মতন ভাষা খুঁজে পাওয়া যায় না৷
ইমাম হুসাইনের বুক চাপা বেদনা আল্লামা ইকবালের ভাষায় ইকবাল বলেন:-
“খোদা জানে কেসি, হে ইয়ে মেজবানি
বাহাত্তর পি-আসু, কাহে বান্দ্ পানি,
মুকাদ্দার মে হ্যায় হাউজে কাউছার কা পিনা
মে পিয়াসা নেহি হু পিলায়া গায়া হু”
অর্থাৎ, “খোদা–ই জানেন এ কেমন আতিথেয়তা,
যেখানে ৭২ জন তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য পানি বন্ধ।
কাউসারের পানিই পান করা নিয়তিতে ছিল,
আমি পিপাসিত নই বরং আমাকে পিপাসার্ত বানানো হয়েছে।”
এই নিষ্ঠুর ইয়াজিদের অনুসারীরা’ই ইমাম হুসাইন প্রেমিদের উপর জায়েজ না জায়েজের ফতোয়া দেয়ার জন্য বসে থাকে, শিয়া সুন্নি বলে হুসাইন প্রেমিদের একটু বিভাজন করার চেষ্টা করে, ইয়াজিদের অসমাপ্ত কাজ এরাই সমাপ্ত করার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে, ইমাম হুসাইনকে মাঝে মাঝে দোষী সাব্যস্ত করে দেখতে চায় এতে সমর্থন কতটুকু আসে৷
ইয়াজিদ অনুসারীরা যেমন ফতোয়া দিতে থাকবে, ঠিক তেমন’ই ইমাম হুসাইনের দেখানো পথে যুগে যুগে হুসাইন প্রেমিরাও নতুন করে কারবালাকে স্বরণ করিয়ে দিবে৷
লেখা- বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






