হোমপেজ মাজার দর্শন শেখ শাহ ফরিদ আল মক্কী (রহঃ) এর মাজার দর্শন

শেখ শাহ ফরিদ আল মক্কী (রহঃ) এর মাজার দর্শন

শেখ শাহ ফরিদ আল মক্কী (রহঃ) এর মাজার

শেখ শাহ ফরিদ আল মক্কী (রহঃ) এর মাজার দর্শন

বড়পীরের নাতি শাহ মখদুম রুপোশ (রঃ) তার ভাব শিষ্য শেখ শাহ ফরিদ আল মক্কী (রহঃ) এর মাজার দর্শন:-

জেলাঃ পাবনা, থানাঃ ফরিদপুর, গ্রামঃ পার-ফরিদপুর। বিশ্ব বরেণ্য আউলিয়া হযরত বাবা শেখ শাহ ফরিদ গঞ্জে গাফ্ফার আল মক্কী (রহঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী সেই মহান আউলিয়া যার নামে পাবনার ফরিদপুর থানা ও উপজেলা। প্রিয় সুধী, আপনারা হযরত শেখ শাহ ফরিদ (রহঃ) এর গায়েবি মসজিদ ও দরগাহ নাম শুনে থাকবেন যা বাংলাদেশ ইতিহাসে বিখ্যাত। কিন্তু এই বিশ্ব বরেণ্য আউলিয়া হযরত শেখ শাহ ফরিদ (রহঃ) সম্পর্কে হয় তো অনেক কিছুই অজানা? জন্ম মক্কা শরীফে তার পুরো নাম হযরত শেখ শাহ ফরিদ গঞ্জে গাফ্ফার আল মক্কী (রহঃ) মক্কা তে বাড়ি হওয়ায় তার নামে শেষে আল মক্কী বলা হয়। একদিন আল্লাহর রাসূল হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) সপনে নির্দেশ দেন শেখ শাহ ফরিদ কে তার পরে শেখ শাহ ফরিদ আল মক্কী (রাহঃ) রাসূল (সাঃ) এর নির্দেশ পেয়ে পবিত্র মক্কা থেকে ইরাকে আছেন।

সেখানে বড়পীর হযরত শেখ আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর নাতি সন্তান হযরত শেখ আব্দুল কুদ্দুস ওরফে শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর শিষ্য তো গ্রহন করে তার থেকে আধ্যাত্মিকতার শিক্ষা লাভ করেন। এবং তার সাথে ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষের বাংলাদেশে আছেন। হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) রাজশাহী ইসলাম প্রচার করে, রাজশাহী দরগাপাড়া তার মাজার। এবং পাবনা জেলার এই হিন্দু অধ্যুষিত স্থানে ফরিদপুর উপজেলায় তাশরিফ আনেন হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর ভাবশিষ্য হযরত শেখ শাহ ফরিদ (রহঃ)। যা ছিল গভীর জঙ্গলে ভরা ও হুংস্র জানোয়ার বাঘ ভালুকের আখরা৷ তিনি এখানে প্রথম একটি মসজিদ নির্মান করেন, যেটি আটশত বছরের ও অধিক প্রাচিন, যা দেখার জন্য দেশের দূর দূরান্ত থেকে পর্যটক ও সাংবাদিকগন এখানে আছেন। মসজিদের ছবি তোলেন ও মাজার শরীফ জিয়ারত করে ধন্য হয়।

এই মসজিদটিই ছিলো তার হুজরা শরীফ। যেখানে বসে তিনি মানুষকে ইসলামের আলোতে আলেকিত করেছেন। এবং মসজিদের পাশেই দু-জন সফর সঙ্গী সহ তিনি শায়িত আছেন। মসজিদ ও মাজার শরীফের দক্ষিণ পাশে দিয়ে বিখ্যাত বড়াল নদী প্রবাহীত। প্রমান আছে এই নদীতে অসংখ্য কুমিড় মাজার শরীফের সামনে এসে বিশ্ব বরেণ্য আউলিয়া হযরত শেখ শাহ ফরিদ গঞ্জে গাফ্ফার আল মক্কী (রহঃ) কে সম্মান করত। কিন্তু কখনো কোন মানুষকে আক্রমণ করতনা।

এক ব্যক্তি শিকারে এসে ভুল করে কুমিড়কে গুলি ছোরে, এরপর থেকে এখানে আর কুমিড় চোখে পড়না। এলাকার বয়স্ক মানুষ এস,পি ইব্রাহিম হোসেন খান ও ডাঃ আব্দুল কাশেম সরকার সহ অনেকই নিজ চোখে তা দেখেছেন।

জনশ্রুতি মতে, বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর নাতি সন্তান হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর ভাবশিষ্য হযরত শেখ শাহ্ ফরিদ (রহঃ) ৬৮৭ হিজরি, ১২৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রথম দিকে পদ্মানদী থেকে কুমিরের পীঠে চড়ে চারঘাট হয়ে বড়াল নদী বেয়ে সারকেল সারি ঘাটে (বর্তমান পারফরিদপুর) এসে থামেন। জায়গাটি তখন গভীর জঙ্গলে পরিপূর্ণছিল। বিশ্ব বরেণ্য আউলিয়া হযরত শেখ শাহ ফরিদ গঞ্জে গাফ্ফার আল মক্কী (রহঃ) সেখানে আস্তানা গাঁড়েন তাঁর আল্লাহ ভক্তি এবং বিভিন্ন কেরামতি দেখে এলাকায় তাঁর অনেক শিষ্য এবং ভক্তবৃন্দ হয়।

শেখ শাহ ফরিদ আল মক্কী (রহঃ) এর মাজার

এই শাহ্ ফরিদ (রহঃ) এর নামানুসারের এ এলাকার নামকরণ হয়েছে ফরিদপুর। বর্তমান ফরিদপুর থানা সোজা বড়াল নদীর উত্তর পাড়ে পারফরিদপুর গ্রামে বিশ্ব বরেণ্য আউলিয়া হযরত শেখ শাহ ফরিদ আল মক্কী (রহঃ) এর মাজার শরীফ ও একটি প্রাচীণ মসজিদ রয়েছে। হযরত শেখ শাহ ফরিদ আল মক্কী (রাহঃ) এর ওফাতের পর অনেক বছর পর্যন্ত কিমিরটি বছরে ২/৩ বার বর্তমান মাজার সোজা বড়াল নদীর ঘাটে ভেসে উঠে কিছুক্ষণ থেকে চলে যেত। কিন্তু একদিন এক দুষ্টু শিকারি কুমিরটি লক্ষ্য করে গুলি ছুঁরলে সেই থেকে কুমিরটিকে আর দেখা যায় না।

কথিত আছে, শাহ মখদুম কুমিরের পিঠে চড়ে নদী পার হতেন। তার অতিপ্রাকৃত শক্তিতে শুধু কুমির নয়, বনের বাঘও বশ্যতা স্বীকার করতো বলে জনশ্রুতি আছে। বর্তমানে শাহ মখদুমের মাজারের বাহিরে বারান্দায় সেই কুমিরকে সমাহিত করা হয়। কুমিরটির মাজার এখনো আছে এবং হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর ভাবশিষ্য হযরত শেখ শাহ ফরিদ আল মক্কী (রহঃ) ও পদ্মানদী থেকে কুমিরের পীঠে চড়ে চারঘাট হয়ে বড়াল নদী বেয়ে সারকেল সারি ঘাটে (বর্তমান পারফরিদপুর) এসে থামেন।

তার আল্লাহ প্রদত্ত অতিপ্রাকৃত শক্তিতে শুধু কুমির নয়, বনের বাঘ ভাল্লুক ও তার আদেশ পালন করতো। ভারতের ফুরফুরা শরীফের দাদু হুজুর মোজাদ্দেদে জামান হযরত আবু বকর সিদ্দিকী পীর সাহেব (রহঃ) ও তার খলিফা হযরত শাহ সূফী হাজী নবাব আলী পীর সাহেব (রাহঃ), দাদু হুজুরের আরেক জন খলিফা অএ এলাকার বিখ্যাত মাওলানা হযরত শাহ সূফী হাজী আলীম উদ্দিন পীর সাহেব (রহঃ)। এবং নূরী বাবা হযরত আলাউদ্দিন বীন নূরী আল কাদেরী (রহঃ)।

হযরত মাওলানা ইয়াকুব আলী সাহেব গনও এই মাজার শরীফ জিয়ারতে আসতেন এবং বিশ্ব বরেণ্য আউলিয়া হযরত শেখ শাহ ফরিদ গঞ্জে গাফ্ফার আল মক্কী (রহঃ) এখানে আছেন, তা সাবাইকে বলেছেন। এখনো বিভিন্ন পান্তে থেকে সাধু গুরু পীর ফকির দরবেশ মাওলানা এবং সাধারণ লোকজন মাজার শরীফ জিয়ারতে আছেন। বিশেষ করে নূরী বাবার ছেলে সন্তান গন এবং নূরী বাবার খলিফা হযরত বাবা ইসমাইল আল কাদেরী পীর সাহেব তিনিও প্রতি বছর এখানে আছেন।

এছাড়াও মুন্সী মোঃ আফছার আলী খাঁন ও পরবর্তীতে প্রভাষক মাওলানা মোঃ আসাদুজ্জামান আল কাদেরী সাহেব স্বপ্ন যোগে হযরত শেখ শাহ ফরিদ মক্কী (রহঃ) কতৃক তাহার ও দু-জন সফর সঙ্গীগণের মাজারের স্থান সনাক্তকরণ, সংরক্ষণ, ওরশ শরীফ উদযাপন ও উক্ত স্থানে নিয়মিত জিকির আজগর, মিলাদ মাহফিল, কোরআন ও হাদিসের সঠিক আলোচনা দ্বারা মানুষকে আল্লাহ ও রাসূলের পথে আনয়নে সচেষ্ট হওয়ার জন্য আদিষ্ট হন এবং মোঃ আফছার আলী প্রাং সহ গ্রামের মুরুব্বিআন অত্র এলাকার সর্বসাধারনকে নিয়ে ২০১১ ইং সাল হতে প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের ৩য় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিশ্ব বরেণ্য আউলিয়া হযরত শেখ শাহ ফরিদ গঞ্জে গাফ্ফার আল মক্কী (রহঃ) এর সরণে বাৎসরিক ওরশ শরীফ উদযাপন করা হয়। আপনারা উক্ত ওরশ শরীফ মাহফিলে তার মাজার শরীফ জিয়ারতে জিকিরের সাথে শরীক হয়ে ওলি আউলিয়াদের রোহানী ফায়েজ হাসিল করুন। মাজার শরীফের স্থানঃ পার-ফরিদপুর, উপজেলা ফরিদপুর, জেলা পাবনা।