হোম পেজ আত্ম সচেতনতা তকদীরের ভেদতত্ত্ব

তকদীরের ভেদতত্ত্ব

তকদীরের ভেদতত্ত্ব

মানুষের আমল অনুসারে বা কর্মফল অনুসারে যথাযোগ্য তকদীর অর্থাৎ কর্মবৃত্ত তিনি দান করিয়া থাকেন। তিনি ভক্তগণকে তকদীর হইতে মুক্তি দান করিতে ইচ্ছুক। কিন্তু কর্মফল মুক্তির পর্যায় হইতে অর্থাৎ মুক্তি পাইবার যোগ্যতা হইতে নিম্নমানের হইলে যথাযোগ্য তকদীর তিনিই দান করেন।।

“তকদীর” অর্থ জন্মচক্রে বন্ধন। কর্মফল অনুসারে জন্ম-জন্মান্তরে মানুষের রূপান্তর ঘটে। ভাস্কর যেমন পাথর কাটিয়ে ছাঁটিয়া ইচ্ছানুযায়ী বিশিষ্ট আকার প্রকারের মূর্তি তৈরী করে, আল্লাহ্‌ ও তেমনই মানুষকে শিক্ষা দীক্ষা দান করিয়া তাহার কলুষ কালিমা ঘষিয়া মাজিয়া রূপান্তর ঘটাইয়া থাকেন। ইহাই বিশ্ব বিধান। সৎগুরুরূপে রূপান্তরের এই কর্ম সম্পাদন আল্লাহ্‌ নিজেই করিয়া থাকেন। তাঁহার সুশিক্ষা গ্রহণ করিলে সুন্দরের দিকে এবং শয়তান হইতে কুশিক্ষা গ্রহণ করিলে অসুন্দর ও অবনতির দিকে গতিশীল হয়।।

‘তকদীর’ অর্থ ভাগ্য নহে। জীবনবৃত্ত বা কর্মবৃত্তকে তকদীর বলে। একটি অস্তিত্বের জীবনে যে কর্মবৃত্ত সে রচনা করে তাহাই তাহার তকদীর।কর্মের দ্বারা অর্জিত এক একটি জীবনবৃত্তকে আমাদের তকদীর বলা হইয়াছে। কর্মের ভাল-মন্দের দ্বারা অর্জিত এই তকদীর বা কর্মবৃত্ত চির পরিবর্তনশীল। যেহেতু ইহা আমাদেরই অর্জিত পরিবেশ সেইহেতু তকদীরকে আমাদের কর্মফল বলা যাইতে পারে।।

‘কাদের’ অর্থ তকদীর দাতা শক্তি। আল্লাহ্‌ তকদীর দাতা শক্তি হিসাবে যুগে যুগে অস্তিত্বসমূহকে তাহাদের স্ব স্ব কর্মফল অনুযায়ী তকদীর দিয়াই আসিতেছেন। আল্লাহ্‌র পরিচয় সমূহের সর্বোৎকৃষ্ট পরিচয় মানুষ। মৃত্যু দ্বারা তিনি বার বার তাহার অর্জিত মন্দ পরিচয়গুলিকে বাতিল করেন অথবা ভুলাইয়া দেন এবং সমপর্যায়ের অথবা উন্নত তকদীর দানে ব্যস্ত থাকেন। তিনি সর্বদা জীবসমূহের কল্যাণকামী। মৃত্যুর পরে একটি মন্দ তকদীর দান আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করেন না, তবুও মানুষ ইহা আপন কর্মের দ্বারা অর্জন করে।

প্রতিটি সৃষ্টিকে তিনি বিবর্তনধর্মী বিধানের মধ্যে এক একটি তকদীরে সীমাবদ্ধ রাখিয়াছেন। মানুষ এবং জিনের ব্যাপারে [আল তাক্‌দীরু লা ইয়ারুদ্দু ইল্লা বিদ্‌ দোয়া] অর্থাৎ দোয়া ব্যতীত তকদীর অখণ্ডনীয়। এইরূপে জ্বিন এবং মানুষের আপন আপন তকদীর রচিয়তা তাহারা নিজেই।

দোয়া অর্থ আশীর্বাদ নহে। ইহার অর্থ ডাক দেওয়া বা আপন রবকে ডাকাডাকি করা বা প্রার্থনা জানান। মৌখিক চাহিদার নাম প্রার্থনা নয়। সৎ আমলের সাহায্য সমস্ত জীবন কাটাইয়া যাওয়ার চেষ্টা করাই প্রকৃত প্রার্থনা।

কাদিরুন: সুপরিমিতি দানকারী শক্তি। তক্বদীর দাতা শক্তি। ‘তক্বদীর’ অর্থ ভাগ্য নহে। বরং ‘কর্ম্মবৃত্ত’ দানকারী শক্তি। এই বৃত্ত (Circle of activities and capacities) সৃষ্টজীব নিজ ক্ষমতায় বদলাইয়া লইতে পারে না। মানুষ ভাল আমলের দ্বারা উহা ক্বাদির শক্তির নির্ধারিত স্বাভাবিক নিয়মেই পরবর্ত্তী উন্নত কর্ম্মবৃত্ত প্রাপ্ত হইয়া থাকে। বস্তুজগতের সীমা ডিঙ্গাইয়া আধ্যাত্মজগতে দয়া করিয়া কাহাকেও গ্রহণ করিলে সেখানেও তাহার জন্য নির্দিষ্ট একটি কর্ম্মবৃত্ত দান করা হয়। এইজন্য আধ্যাত্মিক জগতেও রসুলগণ একজন হইতে অন্যজন অধিক ফজল প্রাপ্ত হইয়া থাকেন।কাদিরু শক্তিশালী, সৃষ্টকে শক্তি দেওয়া হইল।

– সদর উদ্দিন আহ্‌মদ চিশতী (রহ:)

Donationdonate
পূর্ববর্তী পোস্টখাজাবাবা ফরিদপুরীর জবান থেকে শুনা একটি শিক্ষনীয় কাহিনী
পরবর্তী পোস্টসিজদাহের জন্য সমস্ত পৃথিবী আমার কাছে জায়নামাজ।
হে মানব! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত যে কঠোর সাধনা করে থাকো, তা তুমি দেখতে পাবে। - (সূরাঃ আল ইনশিকাক-৬)