হোমপেজ জীবনী ও পরিচিতি হযরত মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (রহ:) এর জীবনী

হযরত মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (রহ:) এর জীবনী

হযরত মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (রহ:) এর মাজার শরিফ:

হযরত মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (রহ:) এর জীবনী

ভূমিকা:

স্রষ্টা প্রদত্ত অনন্য বৈশিষ্ট্যবলী প্রাপ্ত হয়ে যে সমস্ত ওলিয়ে কেরামগণ ভ্রমান্ধ মানবকে মহান প্রেমাস্পদ আল্লাহর পরিচিতির দিকে ধাবিত করেছেন তন্মধ্যে হজরত মাওলানা শাহসুফি মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (রঃ) অন্যতম। তিনি ইবাদত বান্দেগী ও পীরের তাওয়াজ্জু মাধ্যমে বেলায়তপ্রাপ্ত হয়ে অলি আল্লাহর পদমর্যাদায় অভিষিক্ত হন।

পরিচিতি:

চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলাধীন চিকনদন্ডি ইউনিয়ন বড়দীঘির পাড়স্থ এলাকায় মা বাবার কোল আলোকিত করে পৃথিবীতে আগমন করেন হজরত মাওলানা শাহসুফি মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (রঃ) ।

লেখাপড়া:

হজরত শাহসুফি মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (রঃ) প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে স্বীয় গ্রামে। উচ্চ শিক্ষা অর্জন করনার্থে তিনি চট্টগ্রাম শহরস্থ মোহসেনিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা সমাপন করেন।

কর্মজীবন:

চট্টগ্রামস্থ মোহসেনিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া সমাপ্ত করে স্বীয় গ্রামে ধর্মীয় জ্ঞান প্রদানে মনোযোগী হন। পরবর্তীতে তিনি ঐ এলাকায় কাজী হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

মাইজভান্ডার শরীফ গমন:

হজরত মাওলানা শাহসুফি মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (কঃ) কর্মজীবনের এক পর্যায়ে নিজের রুহানিয়ত তথা অাধ্যাত্নিকতা উন্নয়নে মনোযোগী হন। এতদউদ্দেশ্য মারেফতের স্টেশন মাইজভান্ডার দরবারে শরীফে হুজুর গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী (ক) হতে ফয়ুজাত লাভে ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু হুজুর গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী (ক) ১৯০৬ইং ওফাত প্রাপ্ত হওয়ায়, তিনি রাওজায়ে আকদস থেকে ফয়ুজাত লাভের প্রত্যাশায় রাওজা শরীফ অবস্থায় করতে থাকেন।

এ প্রসঙ্গে উনার মুরিদ হাটহাজারী উপজেলার খন্দকিয়া গ্রাম নিবাসী আলহাজ্ব মৌলভী ছৈয়দ আহমদ ছাহেব বলেন- ‘আমার পীর মৌলানা মোস্তাফিজুর রহমান (র.) ছাহেব একজন তওয়াক্কুলধারী কামেল বুজুর্গ ছিলেন। তিনি বলিয়াছেন যে, একদা মাইজভাণ্ডার শরীফ হযরত গাউসুলআজম (ক.) কেবলার রওজা শরীফে গিয়া তাঁহার রূহানী ফয়েজ নেয়ামতের প্রার্থী হইয়া তিনি শয়ন করিয়াছেন। নিদ্রিত অবস্থায় তিনি স্বপ্নে দেখিলেন, মৌলানা আকদছ শাহ চরণদ্বীপি (ক.) একখানা অতি মনোরম কিস্তিতে আরোহন করিয়া তাহার নিকট আসিয়া বলেন-‘ইহা নুহ নবী (আ.) এর কিস্তি, তুমি আল্লাহর নাম লইয়া আমার এই কিস্তিতে উঠিয়া বস।’ এই আদেশ শ্রবণে তিনি কিস্তিতে উঠিয়া বসিলেন, কিস্তি উজানে চলিতে লাগিল। নিদ্রাভঙ্গের পর তিনি স্পষ্ট বুঝিতে পারিলেন যে, তাঁহার পূর্ণতা লাভের জন্য মৌলানা আকদছ (ক.) এর খেদমতে যাইতে হইবে।

সূত্র: (কুতুবুল আকতাব হজতর মাওলানা শাহসুফি শেখ অছিয়র রহমান আল ফারুকী: জীবনী ও কেরামত, নোটমূলে লিখিত – ১৯২৮, প্রকাশিত – ১৯৭৪)

চরণদ্বীপ দরবারে আগমন, বায়াত ও খেলাফত লাভ:

গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) ‘র রাওজা শরীফে দৃষ্ট স্বপ্নের নির্দেশনা অনুযায়ী মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (রঃ) চরণদ্বীপে রওনা হয়ে হজরত শাহসুফী শেখ অছিয়র রহমান ফারুকী ( ক) ‘ কদমে হাজির হন।

এ প্রসঙ্গে উনার মুরিদ হাটহাজারী উপজেলার খন্দকিয়া গ্রাম নিবাসী আলহাজ্ব মৌলভী ছৈয়দ আহমদ ছাহেব (রঃ)’র বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য – “‘আমার পীর মৌলানা মোস্তাফিজুর রহমান (র.) ছাহেব একজন তওয়াক্কুলধারী কামেল বুজুর্গ ছিলেন। তিনি বলিয়াছেন যে, একদা মাইজভাণ্ডার শরীফ হযরত গাউসুলআজম (ক.) কেবলার রওজা শরীফে গিয়া তাঁহার রূহানী ফয়েজ নেয়ামতের প্রার্থী হইয়া তিনি শয়ন করিয়াছেন। নিদ্রিত অবস্থায় তিনি স্বপ্নে দেখিলেন, মৌলানা আকদছ শাহ চরণদ্বীপি (ক.) একখানা অতি মনোরম কিস্তিতে আরোহন করিয়া তাহার নিকট আসিয়া বলেন-‘ইহা নুহ নবী (আ.) এর কিস্তি, তুমি আল্লাহর নাম লইয়া আমার এই কিস্তিতে উঠিয়া বস।’ এই আদেশ শ্রবণে তিনি কিস্তিতে উঠিয়া বসিলেন, কিস্তি উজানে চলিতে লাগিল। নিদ্রাভঙ্গের পর তিনি স্পষ্ট বুঝিতে পারিলেন যে, তাঁহার পূর্ণতা লাভের জন্য মৌলানা আকদছ (ক.) এর খেদমতে যাইতে হইবে।

অতঃপর তিনি একদা মৌলানা আকদছ শাহ চরণদ্বীপি (ক.) এর খেদমতে উপস্থিত হইলেন। মৌলানা আকদছ (ক.) তাঁহাকে তাওয়াজ্জো প্রদান করত: সরবত পান করাইলেন। ইহাতে তাঁহার জজবা গালেব হয় তিনি প্রকৃতিস্থ হইলে মৌলানা আকদছ (ক.) তাঁহাকে বলেন- ‘মিঞা তুমি বড় দীঘিতে নামিয়া অজু গোছল করিয়া দীঘির পাড়ে বসিয়া থাক।’

তিনি মৌলানা আকদছ (ক.) এর আদেশানুযায়ী অজু গোছল করত: দীঘির পাড়ে গোশানশীন হইয়া বসিয়া রহিলেন। তৎপর তাঁহার খেদমতে প্রত্যহ শত শত হাজতী মকছুদী আসিয়া দীন দুনিয়ার মকছুদ হাছেল করিতে থাকেন।”

সূত্র: (কুতুবুল আকতাব হজতর মাওলানা শাহসুফি শেখ অছিয়র রহমান আল ফারুকী: জীবনী ও কেরামত, নোটমূলে লিখিত – ১৯২৮, প্রকাশিত – ১৯৭৪)

ইতোমধ্যে আপন পীর ও মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী অছিয়র রহমান ফারুকী (কঃ) নিকট আরো ফয়ুজাত প্রত্যাশায় আবারো আসলে তাকে ফয়ুজাত ও খেলাফত প্রদান করেন।

রিয়াজত:

শাহে চরণদ্বীপি (ক)’র তাওয়াজ্জু প্রদানের ফলে মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান শাহের মজজুবিয়ত হাল গালেব হয়। এবং মাওলানা চরণদ্বীপি আদেশ অনুযায়ী বড়দীঘি পাড়স্থ এলাকায় তিনি গোশানশীন হয়ে নামাজ, রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, মোরাকাবা, মোশাহেদার মাধ্যমে কঠোর রিয়াজতে ব্রতী হন। এবং তাসাওউরে শায়েখ (পিরের ধ্যান) এর মাধ্যমে স্বীয় মুর্শিদ শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) ‘র তাওয়াজ্জোর বদৌলতে বেলায়ত লাভে ধন্য হন। মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (রঃ) স্বীয় মূর্শিদ মাওলানা চরণদ্বীপি (কঃ) কর্তৃক গোশানশীনের আদিষ্ট হয়ে ওফাত পর্যন্ত উক্ত স্থান ত্যাগ করে বাইরে কোথাও যান নি, যেভাবে মাওলানা চরণদ্বীপি (কঃ) স্বীয় মুর্শিদ গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) কর্তৃক গোশানশীন হওয়ার আদেশ প্রাপ্ত হওয়ার পর কোথাও যান নি।

বেলায়তে মকাম :

হজরত মাওলানা শাহসুফী মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (রঃ) মজজুবে সালেক শ্রেণীর অলি আল্লাহ ছিলেন। মাওলানা চরণদ্বীপি (কঃ) উনাকে সুলুকিয়ত ও মজজুবিয়ত উভয় প্রকারের ফয়েজ প্রদান করেন। সময় সময় উনার মাঝে হাল গালেব হত। আবার ইচ্ছা করলে সুলুকিয়তে চলে আসতে পারতেন।

ইমাম শেরে বাংলা (রঃ) কর্তৃক মানকাবাত :

در مدح مجذوب سالك, محبوب خالق, مقتدائے سالکاں, مشہور زماں, صاحب کشف و کرامات, معدان فیوضات و کمالات حضرت مستفییض الرحمن شاہ باشندہ فتح آباد قرب تالاب بادشہ نصرت الدین رحمہما اللہ تعالیٰ

‘মজজুবে সালিক’ বুজুর্গ, সৃষ্টিকর্তার প্রিয়, তরিকতপন্থীদের আদর্শ, যুগের প্রসিদ্ধ বুজুর্গ, কাশফ ও কারামতের ধারক, ফুয়ুজাত ও কামালাতের খনি, বাদশাহ নুসরাতুদ্দীন দীঘির নিকটে ফতেহাবাদ নিবাসী হজরত মোস্তাফিজুর রহমান শাহ এর প্রশংসায়। তাদের উভয়কে আল্লাহ দয়া করুন।

مرحبا صد مرحبا صد مرحبا صد مرحبا
از برائے مستفیض رحمن شاہ صد مرحبا

শত স্বাগতম, শত মোবারকবাদ, শত ধন্যবাদ, স্বাগতম
হজরত মোস্তাফিজুর রহমান শাহকে শত মোবারকবাদ।

معدن کشف و کرامت بود مشہور زماں
نام پاکش تا قیامت زندہ ماند در جہاں

তিনি কাশফ ও কারামতের খনি ও যুগখ্যাত বুজুর্গ ছিলেন,
তার পবিত্র নাম পৃথিবীতে কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী হোক।

روضہ او متصل تالاب شاہ نصرۃ بداں
مردماں پر فیض باشند دائماً از ذات او

জেনে রেখো, তার মাজার শরীফ নুসরাত শাহ দীঘির পাড়েই অবস্থিত
অসংখ্য মানুষ তার বরকতময় সত্তা থেকে সর্বদা ফয়জপ্রাপ্ত হয়।

تربتش را باغ جنت سازی رب جہاں
استجب یا رب طفیل سرور پیغمبراں

হে বিশ্বপ্রতিপালক, তার মাজার শরীফকে জান্নাতের বাগানে পরিণত করে দিন,
হে মহান রব! নবীকুল সরদারের ওসিলায় এ দোয়া কবুল করুন।

نام ناظم گر تو خواہی شیر بنگالہ بداں
منکران اولیاء را سیف براں بیگماں

তুমি যদি এর রচয়িতার নাম জানতে চাও, তবে জেনে রেখো, তিনি হলেন ‘শেরে বাংলা’। নিঃসন্দেহে ওলিগণের অস্বীকারকারীদের জন্য তিনি শানিত তরবারি ।

হযরত মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (রহ:) এর মাজার শরিফ:

ওফাত শরীফ:

খলিফায়ে শাহে চরণদ্বীপি, হজরত মাওলানা শাহসুফি মোস্তাফিজুর রহমান শাহ (কঃ) স্বীয় মুর্শিদ শাহে চরণদ্বীপি (কঃ)র ৭ মাঘ ওরশ শরীফকে সামনে রেখে ৬ মাঘ ওফাতপ্রাপ্ত হন। যার দ্বারা প্রমাণ হন তিনি ফানা ফিশ শাইখ ছিলেন যার বিনিময়ে তিনি ফানা ফির রাসুল, ফানা ফিল্লাহ ও বকা বিল্লাহর মকাম অর্জন করেন। ১৯২৬ ইং, ৬ মাঘ, ৫ রজব উনার ওফাতের সময়কাল ছিল।

ওরশ শরীফ:

উনার ওফাত শরীফকে স্মরণ করে প্রতি বছর ৬ মাঘ বার্ষিক ওরশ শরীফ উনার রওজা শরীফে অনুষ্ঠিত হয়।
পরিশেষে আমরা হজরত মাওলানা শাহসুফী মোস্তাফিজুর রহমান শাহ চরণদ্বীপি মাইজভান্ডারী (রঃ)’র নেগাহে করম ও ফয়ুজাত কামনা করি। আমিন।