হোম আত্ম সচেতনতা আত্মার জাগরণ

আত্মার জাগরণ

আত্মার জাগরণ

আপন আত্মানে চিনে জ্ঞান, পরমআত্মা নে চিনে, মুক্তি পাবি যে ধন নিলে, পাই ঠিকানা পাক কোরানে। ভক্তির মূলে পরশ পাবি, যার স্পর্শতে সরশ হবি, স্বরূপ আত্মা জয় করিবি, পাইছ মানব জীবন। শাহজাহানের জীবন গেল, পরমআত্মার সন্ধানে রইল , অলির সঙ্গ ধন্য হইল, থাকবে সর্বক্ষণ মুর্শিদ ধ্যানে। শুদ্ধ পরশ নিজে হইলে, ছবি আসে ইথার বলে, সাউন্ডশক্তির স্বরূপ দেখিলে, অলৌকিক পাবি কৃপা হলে। আমিত্ব ত্যাগ করিয়া, তুমি মূল তাতে স্বনির্ভর হইয়া, তাঁর স্বভাবে স্বভাব বানাইয়া, তাকিয়ে থাক আত্মদর্শনে। পাঠ্যশিক্ষা সাধারণ জ্ঞান, তাসাউফ শিক্ষা শুদ্ধ জ্ঞান, লাধুনিক শিক্ষা আধ্যাত্মিক জ্ঞান , ইলহাম দিবে প্রাণে প্রাণে।  সাধক শাহজাহানের ভাগ্য ভালো, পরশের স্পর্শে শরস হইল, অলির স্বভাব জাগ্রত হইল, এই ভবে সঞ্চয় করে। অহংকার গৌরব ছেড়ে, সৎস্বভাব ধরে, আত্মশুদ্ধি হইলে পরে, সূক্ষ্মজ্ঞান পায় সর্বখানে।

অরূপ ছেড়ে স্বরূপ ধরে, মেরাজ কর এ সংসারে, অরূপের রূপ দেখলে পরে, গোপন কিছু রবে না। প্রাণগুরু নেহার করে, আলো দেখ দর্পন ধরে, আমিত্ব সব ত্যাগ করে, অপরূপ দর্শন কর না। কিবা রূপ দেখিলাম সংগোপনে, অরূপে আমারে টানে, দেখিয়াছি স্বরূপের রূপ, আদ্যশক্তি আছে প্রাণে। যার কোনো তুলনা হয় না, ব্যক্ত করে বুঝানো যায় না, দেখা দেয় সে ধরা দেয় না, তাকাইয়া থাকি নির্জনে।

মুখের কথায় সব বিষয় সমাধান হয় না, প্যাক্টিক্যাল ছাড়া হাত বাড়ালেই চাঁদ ধরা যায় না, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জ্ঞানে, চাঁদে যাব কেমনে, প্রাণেতে জিন আছে মিশিয়া, ভাগ করো অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়া, পরাগায়ণ শক্তি লও জাগাইয়া, দেখ তারে নয়নে। শাহজাহানে পরশ পাইয়া, মুক্তির শহরে গেছে চলিয়া, অমর আত্মা অর্জন করিয়া, আছে দেহ ত্যাগ করিয়া। সূক্ষ্ম আত্মতত্ত্ব কথা, আমি বলিব কারে, আত্মশুদ্ধি এমন ব্যক্তি, আমি পাই কোন কৌশলে। আগম নিগম মূল আলোচনা, প্রকাশ্যে যায় না জানা, ভেদ বিধান শাস্ত্র কানা, জানতে হয় কৌশলে, ইঙ্গিতে সংকেতে জানতে হয়, সূক্ষ্ম চিত্তে , অজপা নাম জপতে জপতে, সব বিষয় জানা হইলে, ধর্মীয় গ্রন্থের ঊর্ধ্বে যাইয়া, চিনদেশ পার হইয়া, আদ্যশক্তি দর্শন করিবে, অণুশক্তি জগ্রত হইলে। শাহজাহান কয় মঙ্গল মিয়া, বিজ্ঞানী বই প্রাক্টিক্যাল করিয়া, আদ্যশক্তি ধর যাইয়া, কন্টকে রাখিয়াছে গিরি। ষড়রিপু দমন করিয়া, বিন্দু নূর মুর্শিদ দেখিয়া, জীব ছেড়ে পরম আত্মশুদ্ধি হইয়া, অরূপ ছেড়ে স্বরূপ মিশিলে।

আমার স্বরূপ ধরাত আর শাস্ত্র শিক্ষা কিতাব পড়িলে নাহি হয়, আমি আমারে চিনতে হলে, আরেফ সঙ্গ করতে হয়। তাসাউফের আমল করে, এলমে লাধুনি হাছিল হইলে পরে, শাস্ত্রীয় শিক্ষা লাগবে না রে, যদি কারও মেরাজ হয়। শাহজাহানের সঙ্গ হইল, ভাগ্যগুণে দেখা দিলো, অমর আত্মা অর্জন হইলো, নিষ্কামেতে সদায় রয়।চরিত্র সাধনার মূল,সুচরিত্র গঠন হইলে ফুটে ফুল, তখন পায় সে, অকুলের কুল। ভেতরের বিষয় বাসনার ত্যাগ না হলে, কি হবে গায়ের উপর সেন্ট মাখিলে, বেশ ভূষনা যত কিছু গায়ে পড়িলে, স্রষ্ঠা মিলে না, আত্মশুদ্ধি না হইলে।

মুসা নবী কিতাব পড়ে, চলে যায় তুর পাহাড়ে, নিজেকে নিজে চিনল নারে, তাই খিজিরের কাছে যাইতে হয়। অশিক দান যে পাইয়াছে, তার তুলনা হয় না। অলৌকিক দান যে পাইয়াছে , কারো কথায় সে চলে না। গ্রন্থকিতাবে আল্লাহ নাই, আদম সুরতে আল্লাহ কোরানে পাই, তাসাউফ ধরে দেখিতে পাই, আমল ছাড়া আল্লাহ পায় না। আগে জ্ঞানে বুঝে প্রাণে, কর আল্লাহর সাধনা, নিজেকে নিজে চিনতে পারলে, হবে তোমার আল্লাহ চিনা। ছের-খফি- নফি- এজবাত যিকির ধরে, আনফাসেতে গেলাম পরে, জীব পরম ভাগ করে, নূরের আলোতে শ্রীরূপ ধরিয়াছি।

মজ্জুমের রাস্তা সোজা, আত্মশুদ্ধি রূহ তাজা, শ্বাস – প্রশ্বাসের জিকির ধরে, করে না নামাজ রোজা। কুমারিয়া পোকা যেমন, অন্য পোকা আনে ধরে, কিছুদিন রাখে গোপন করে, আপন রূপ ধরলে ছাড়ে। আগে জেনে চিনে, কর আল্লাহর সাধনা, চার তরিকা শিক্ষা করে, নিজেকে নিজে দেখ না। এলমূল ইয়াকীন , আইনুল ইয়াকীন, হাক্কুল ইয়াকীন হাসিল করিয়া, পরমের স্বরূপ দেখ না। ধর্মীয়গ্রন্থে আল্লাহ নাই, মুমিনের কলবে দেখ তাই, মানুষ পরশ তার তুলনা নাই, ধরায় ধরে দেখ না। মন- জ্ঞান সঠিকভাবে, পরিচালনা কর না, সংবিধান মতে চরিত্র গঠন করিয়া, বিবেক দিয়া সঠিক পথে চলো না।

সংযমেতে চলে যারা, আত্মশুদ্ধি ভবে তাঁরা, রিপু দমন করছে তাঁরা , নিষেধ পথে তাঁরা যায় না। পরহিতে সম্পদ বিলািয়া, স্বার্থ শূন্য মানুষ হইয়া, ধর্মনিরপেক্ষ থাকিয়া, আত্মশুদ্ধি রাখছ নি। চীনদেশে যারা গেছে, আকিয়া মুছিয়া ছবি তুলছে,কর্মহীন পড়ছে পাছে, সম্পূর্ণ পার্স নতুন করছ নি। মক্কায় নাই, মদিনায় নাই, বিশ্বের কোথাও খুঁজিয়া না পাই, মসজিদ মন্দিরে নাই, আদম সুরতে কোরান মাননি। লাকুম দীনুকুম বলছে আল্লাহ, ধর্ম নিয়া কেন ঝগড়া করলা, মানুষের কলবে আল্লাহ, কলব পবিত্র করছ নি। অখন্ড প্রেম করছে যারা, পার্কে সাক্ষাৎ করে না তাঁরা, স্পর্শ ছাড়া প্রেমিক হয় যারা, তারা বেশি কথা কয় না। দুধে মাখন আছে যেমন, ধরায় অধরায় আছে তেমন, ফুলে গন্ধ আছে যেমন, গন্ধ দেখলে পাবি মূল।

কন্টকে রাইখাছে ঘিরে, মিলন হবে কেমন করে, আঁধারে আলো রাখাইছ ধরে, যাব সেথায় কেমন করে, বাধল নফসে আমায় ছাড়ে না, স্বরূপের আলো তাই দেখি না, মহামায়া আমায় ছাড়ে না, পরিয়াছি বিষম ফেরে। কামরাজ্যের কারাগারে ছয় চোরায় নিল ধরে, মন চোরায় কথায় পড়ে, বিবেক জ্ঞান হারাইলাম মোরে। বীজের গুণে ফল হয় না, দেখ না কারফোন গাছ রোপন করে, শাস্ত্র বিদ্যা শিক্ষা হয় না, উস্তাদ তুমি না ধরিলে।

(সংযমের সংবিধান কিতাব: সাধক শাহজাহান শাহ)
– আর এফ রাসেল আহমেদ

পূর্ববর্তী পোস্টআটরশি পীরের জীবনী
পরবর্তী পোস্টরবের নির্দেশ
Quranik philosophy and sufism.

এই পোস্টে একটি মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন