হোম আত্ম সচেতনতা রবের নির্দেশ

রবের নির্দেশ

পরিচ্ছেদ সমূহ:

রবের নির্দেশ

আল্লাহ পাওয়ার ইচ্ছা থাকলে, সৎস্বভাব বানাও এবার, চিত্তশুদ্ধি হইলে পরে, ডেকে বলবে কি লাগবে তোমার। বিবেক বুদ্ধি ঠিক রাখিয়া, কর্ম কর ভুবনে,চিত্তশুদ্ধি হইলে পরে, ভয় পাবি না মরনে। কোরান মতে চরিত্র গঠন করিয়া, সংযমে সর্বক্ষণ থাকিয়া, সৎভাবে কর্ম করিয়া, সৎপথে চলতে রসুল কয়। সর্বশাস্ত্রে যাহা কয়, আত্মশুদ্ধি হইতে হয়, কামনা বাসনা ছেড়ে,তাওয়াকুতে থাকতে হয়।কথা কয় সে ধরা দেয় না, থাকে ঘরে দেখা হয় না, লোভি কামি তারে পায় না, সুস্থ্য মানুষ পায় তারে। অনিত্য সব ছাড়িয়া, নিষ্ককর্মে যাও চলিয়া , অরূপ ছেড়ে স্বরূপ ধরিয়া, সংযমে থাক এই সংসারে।বুদ্ধিজীবী চিলেন যারা, যৌনশক্তি ধরে রাখছে তারাঁ, আল্লাহ অলী হইছে তাঁরা, শাহজাহান কয় শ্রেষ্ঠ হয় তাঁদের জীবন। নিজেকে যখন হারিয়ে যাবি, স্বরূপের ছবি তখন দেখবি, মনিমুক্তা ত্যাগ কবরি, লোভ লালসা থাকবে না তোমার। ছাড়িয়া দুনিয়ার লোভ, মুর্শিদদের রূপে দিলে ডুব, ইন্দ্রিয় জয় হইলে খুব, সবর হয়ে থাকবে তখন। যে যেই ধর্মে জম্ম নিলে, ধর্মীয় নির্দেশ না মানিলে, মানুষ বলে কয় না তারে, পশু কয় শাহজাহান এখন।

মন্তব্য:

বেলায়েতের রসুল সাধক কবি শাহজাহান শাহ মস্তান আঃ তিনি তার সংযমের সংবিধান কিতাবে ব্যক্ত করেন যে, আল্লাহ পাওয়ার যদি কারোর ইচ্ছা তথা আকাঙ্ক্ষা থাকে, তাহলে শর্ত হলো সৎস্বভাব তথা পূর্ণচরিত্রবান হতে হবে, আর চরিত্রবান হতে গেলে শর্ত হলো চিত্তশুদ্ধি তথা অন্তরের পবিত্রতা অর্জন করা। তাহলে আল্লাহপাক নিজেই পুরষ্কার হিসাবে রবরূপে সাক্ষাৎ দিবেন। আল্লাহকে জয় করার মূখ্য শর্ত হলো চিত্তশুদ্ধি তথা আপন নফসকে পরিশুদ্ধকরণ করা। তাই বলা হয়ে থাকে, “চাইলে কেহ রবের দান নাহি নিতে পারে, উপযুক্ত হইলে পরে রব ডাইকা সাক্ষাৎ দিবে”। নফস সংস্কার তথা পরিশুদ্ধ করার জন্য আল্লাহপাক কোরানের ৬৪ নং সুরা তাগাবুনের ১৬ নং আয়াতে ইরশাদ করেন “সুতরাং আল্লাহর তাকওয়া কর। তোমরা যতটুকু সমর্থ হও, তোমরা তাহাকে শোন, তাহার আনুগত্য কর এবং ব্যয় কর এইসব তোমাদিগের নফসগুলির জন্য কল্যাণকর। এবং যে কেহ তাহার নফসের লোভ লালসা সংবরণ করিতে পারেন তবে উহারাই তাহারা যাহারা সফলকাম।”

কোরানের ৪৯ নং সুরা হুজরাতের ১৭ নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন: “এবং তোমার নিশ্চয়ই মালুম আছ যে, রাসুলুল্লাহ যদি অনেক কর্মকাণ্ড সম্বন্ধে তোমাদেরকে অনুসরণ করিতেন, (তাহা হইলেও) তোমরা লা’নত প্রাপ্ত হইতে। কিন্তু এতসত্ত্বেও আল্লাহ তোমাদিগের দিকে ঈমানের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করিয়াছেন। এবং তোমাদিগের দিকে কুফর, ইন্দ্রিয় পরয়াণতা এবং অবাধ্যতা অপ্রিয় করিয়াছেন। উহারাই তাহারা সুপথগামী।”

আল্লাহপাক সুরা শামসের ৯ -১০ নং আয়াতে ইরশাদ করেন “সে- ই সফলকাম হবে, যে আপন নফসকে পবিত্র করবে। এবং সে- ই ব্যর্থ হবে যে আপন নফসকে কলুষিত করবে।” যে আমানু তথা গুরুভক্ত নফস তথা সাধক আপন নফস তথা চিত্তকে পবিত্র করবে আল্লাহ তাঁর পুরস্কার ঘোষণা করেন সুরা ফাজরের ২৭-৩০ নং আয়াতে ও অন্যান্য সুরাতেও। “হে প্রশান্ত নফস, তুমি তোমার রবের দিকে ফিরে আসো (তুমি) পরিতৃপ্ত তোমার রবের সন্তুষ্টি হতে, তোমার রবও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট, সুতরাং প্রবেশ করো আমার দাসদের মধ্যে এবং জান্নাতে।”

সুতরাং এই পুরষ্কার জান্নাত লাভ করতে হলে আল্লাহকে কর্জে হাসানা তথা উত্তম ঋণ দিতে হবে। আল্লাহকে তো আর হিরা – জহরত – চুন্নি- পান্না – সোনা – রূপা, টাকা – কড়ি, আলু- পটল ঋণ হিসাবে দেওয়া যাবে না। কারণ তিনি অভাবমুক্ত গণি তথা ধনী। এই গুলো আমাদের নয়, এসব তাঁর দেওয়া নিয়ামত। সুতরাং আমাদের নফসের মালিকও আল্লাহ পাক।

তবে আমাদের নফসের উপর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সাময়িক ইচ্ছাশক্তি তথা সীমিত স্বাধীনতা দান করেছেন। যার উপর আল্লাহ কোনো দিন হস্তক্ষেপ করবেন না। হস্তক্ষেপ করলে আর জিন ইনসানের স্বাধীনতা থাকেন না, আর রবের মহানিরপেক্ষতার গুণ বজায় থাকে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শুধু মাত্র পরীক্ষা করার জন্য আমাদের নফসে সীমিত স্বাধীনতা তথা ইচ্ছা শক্তি দিয়েছেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে। তিনিই আবার এই সীমিত স্বাধীনতাটুকু বহুগুণ নিয়ামতের বিনিময়ে ঋণ হিসাবে চাচ্ছে। এই কর্জে হাসানাটুকু আল্লাহ বান্দার কাছ থেকে চান, তার বান্দা যেন তারঁ দেওয়া আপন ইচ্ছাশক্তিটুকু আল্লাহর ইচ্ছার কাছে উৎসর্গ করে দেয়। এই ঋণটুকু সবাই দিতে পারে না।

তাই আল্লাহপাক তাকে উত্তম ঋণ হিসাবে অভিহিত করেছেন। এই সীমিত স্বাধীনতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শুধু মাত্র জীন আর ইনসানোর নফসের উপর দিয়েছেন। কর্জে হাসানা সম্পর্কে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন যে- “কে সে, যে আল্লাহকে কার্জে হাসানা প্রদান করিবে? তিনি তাহার জন্য ইহা বহুগুণ বৃদ্ধি করিবেন” (২:২৪৫)। সুরা তাগাবুনের ১৭ নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন- “আল্লাহকে প্রদান কর একটি সুন্দর কর্জ(তবে) আল্লাহ তোমাদের জন্য (ইহা) দ্বিগুণ করিবেন।”

কে আছে আল্লাহকে দিবে উত্তম ঋণ? তাহা হইলে তিনি বহুগুণ ইহাকে বৃদ্ধি করিবেন তাহার জন্য এবং তাহার জন্য রহিয়াছে সম্মানজনক পুরষ্কার। (৫৭:১১) “এতপর সালাত কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহকে দাও উত্তম ঋণ” (৭৩:২০)। “দানশীল পুরুষগণ এবং দানশীল নারীগণ এবং যাহারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে এবং তাহাদের দেওয়া হইবে বহুগুণ বেশি এবং তাহাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরুষ্কার” (৫৭:১৮)।

আল্লাহপাক সুরা শামসে এবং সুরা আ’লা তে নির্দেশ করেছেন যে, কে আছ পুরস্কার জান্নাত ও আমার দর্শনপ্রার্থী। যদি আমি আল্লাহকে পুরুষ্কার হিসাবে পাওয়ার অভিপ্রায় থাকে তাহলে শর্ত হলো কর্জে হাসানার মাধ্যমে চিত্তের পরিশুদ্ধ তথা পবিত্র নফসের অধীকারি হওয়া। এই নির্দেশ বানী দান করেন আল্লাহ সুরা শামসের ৯ নং আয়াতে এবং পুরষ্কার দান করেন সুরা ফাজরের ৩০ নং আয়াতে। যে মাত্র নফস কালিমামুক্ত হল, সেই মাত্র নফস পুরুষ্কার জান্নাত লাভ করলো। এখানে বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়েছে।ভবিষ্যতে জান্নাত পাবে কোরানিক দর্শন বলেন নাই। আর এখানে মুসল্লীদের উদ্দেশ্য করে বলে নাই, বলা হয়েছে সর্বজনীনভাবে সকল নফসকে উদ্দেশ্য করে। পবিত্র নফসের অধীকারিগণ জান্নাতে অবস্থান করেন, করবেন না, বরং নগদ পাওয়ার কথা কোরানিক দর্শন জানান দিচ্ছে।

আরো খেয়াল করার বিষয় পরিশুদ্ধ নফসকে রব তার দাস বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন, এবং অন্যকোনো নফসকে দেন নাই। সুতরাং আল্লাহর দাস হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, বিশুদ্ধচিত্তের অধীকারিকে আল্লাহ তার দলের সদস্য বলে অভিহিত করেছেন। অপবিত্র নফস নিয়ে ইবাদত করলে সেই ইবাদত আল্লাহর না হয়ে হবে শয়তানের। আমাদের ইবাদত তথা কর্মে নিরিখ করা উচিত তা কি আল্লাহর রাস্তায় নাকি শয়তানের রাস্তায় হচ্ছে? আল্লাহ পবিত্র তার সম্পর্ক পবিত্র জনদের সাথে। সুফি সাহিত্যিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী সংস্কৃতের কথা প্রবন্ধের অন্তর্গত জীবন ও বৃক্ষ প্রবন্ধে উল্লেখ করেন যে, মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও বটে। মানুষকে আত্মা তৈরী করে নিতে হয় (এটা তৈরী বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না) সুখ দুঃখ, বেদনা উপলব্ধির ফলে অন্তরে যে পরিপক্বতা তাই তো আত্মা।এই আত্মারূপ ফল শ্রষ্টার উপভোগ্য। তাই মহাকবি ব্রাটান্ড রাসেলের মুখে শুনতে পাই “Ripeness is all” তথা পরিপক্বতাই সব।

আত্মাকে মধুর ও পুষ্ট করে গড়ে তুলতে হবে। নইলে তা শ্রষ্টার উপভোগের উপযুক্ত হবে না। বিচিত্র অভিজ্ঞতা, প্রচুর প্রেম ও গভীর অনুভূতির দ্বারা আত্মার পরিপুষ্ট ও মার্ধুর্য সম্পাদন সম্ভব। তাঁর সাধনাই মানুষের শিক্ষার প্রধান বিষয়বস্তু। আর জীবন ও মূল্যবোধের অন্তর পরিপূর্ণ হয় সাহিত্যে ও শিল্পকলার দ্বারা। সুতরাং বলা যায় সাধক কবি শাহজাহান শাহর গান আল কোরানের জান।

সুতরাং উপসংহারে বলা যায় যে, মুর্শিদের নির্দেশ মোতাবেক চিত্ত তথা নফসকে পরিশুদ্ধ করার জন্য সাহিত্যে ও শিল্পকলা, প্রচুরপ্রেম, গভীর অনুভুতি ও বিচিত্র অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। এই পরিপক্ব চিত্তই সফলকাম ও পুরুষ্কার প্রাপ্ত।

– আর এফ রাসেল আহমেদ

পূর্ববর্তী পোস্টআত্মার জাগরণ
পরবর্তী পোস্টরোজাদারের বৈশিষ্ট সমূহ:
আমি বিজাত নই, তোমারই জাত! আজ গুন হারিয়ে গুরুত্বহীন-তুমি স্বাধীন আমি পরাধীন-অবশ্যই একসাথে ছিলাম একদিন।

এই পোস্টে একটি মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন