হোম ইলমে মারেফত প্রার্থনা এবং আরাধনা মূলক তত্ত্ব- সাধক কবি শাহজাহান শাহ্

প্রার্থনা এবং আরাধনা মূলক তত্ত্ব- সাধক কবি শাহজাহান শাহ্

প্রার্থনা এবং আরাধনা মূলক তত্ত্ব- সাধক কবি শাহজাহান শাহ্

সাধক কবি শাহজাহান শাহ্ হুজুরের লিখিত “সংযমের সংবিধান (শাহজাহানগীতি)” কিতাবের প্রার্থনা এবং আরাধনা মূলক তত্ত্ব।

নফসে ওয়াহেদ পরম আত্মার বিজ্ঞানী ফকির সাধক কবি শাহজাহান শাহ্ হুজুর উনার লিখিত “সংযমের সংবিধান” (শাহজাহানগীতি) সূফী আত্ম তত্ত্ব মূলক গানের বইয়ে প্রত্যেকটা কালামের নামকরণ করে গেছেন,কালাম গুলো কোন কোন তত্ত্বের উপর লিখিত হয়েছে ইহার আলোকে। যাতে করে পাঠকের সহজে বোধগম্য হয়। ইনশাআল্লাহ এখন যেই কালাম গুলো দেওয়া হবে সেসব কালাম গুলো প্রার্থনা এবং আরাধনা তত্ত্বের উপর লিখিত। এই অধমের কোন যোগ্যতা নেই যে এমন মহান মজ্জুম সাধকের বানীর ব্যাখ্যা করা। তবে সাধকের সাথে স্বল্প সময়ের সঙ্গ করে যা সামান্য কিছু অনুধাবন করতে পেরেছি ইহার উপর ভিত্তি করেই কিছু কথা বলার চেষ্টা করছি। প্রার্থনা শব্দের অর্থ হচ্ছে আরজি,মিনতি আর আরাধনা শব্দের অর্থ হচ্ছে পূজা করা, উপাসনা করা। অর্থাৎ শব্দ দুটি তত্ত্বের একত্রে বিশ্লেষণ দাঁড়ায় যে দয়াল মুর্শিদ মাওলার সামনে এই নশ্বর জগতের সকল কিছু পেছনে ফেলে রেখে দয়াল মুর্শিদের দরবারে প্রর্থনা করা এবং একগ্র চিত্তে উনার উপাসনা করা। সর্ব অবস্থায় গুরুর উপর তাওয়াককুল থাকা।

আমার গুরুজী ( সাধক কবি শাহজাহান শাহ্ হুজুর) একটি কথা প্রায়শই বলতেন যে “তুমি কতবার আল্লাহকে ডেকেছো ইহা মূখ্য বিষয় নয় বরং তুমি কতটুকু বিশ্বাস,ভক্তি,প্রেম,পবিত্রতা আর গুরুত্ব সহকারে আল্লাহকে ডেকেছো ইহাই হচ্ছে মূখ্য বিষয়”। সুতরাং এখানেও এই প্রার্থনা ও আরাধনা ভক্তি মূলক কালামে নিজের স্ব স্ব হৃদয়ের বিশ্বাস, ভক্তি, প্রেম, পবিত্রতা এবং গুরুত্ত্ব দিয়ে সম্যক গুরুর স্বরণ করা এবং উনার প্রতি নিজেকে নিবেদিত করা অর্থাৎ আত্ম সমর্পণ করার আহবান করা হয়েছে। তবে ইহা অবশ্যই যার যার ব্যাক্তিকেন্দ্রিক উপলব্ধি করার বিষয়। যার শিক্ষা কিনা কেউ কাউকে দিতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত না হৃদয়ে মুর্শিদ মাওলার প্রেম জাগ্রত হবে।

নিম্নে নফসে ওয়াহেদ পরম আত্মার বিজ্ঞানী ফকির সাধক কবি শাহজাহান শাহ্ হুজুরের প্রার্থনা তত্ত্ব এবং আরাধনা তত্ত্ব মূলক বাণী দেওয়া হলোঃ-

প্রার্থনা (নং-১)

আসো দয়াল, হৃদয় মন্দিরে-
যদি অপরাধী হয়ে থাকি,
ক্ষমা করেন দয়া করে।।

এই সৃষ্টির স্রষ্টা তুমি,
তুমি দয়াল অন্তর্যামী-
বিচারের দিন হইবেন স্বামী,
কোরআনে তা প্রমান করে।।

নামের তোমার অন্ত নাই,
কোন নামেতে ডাকি তোমায়-
জানি দয়াল তুমি আলেক সাঁই,
কর দয়া ভক্ত রে।।

যন্ত্র বাঁজে সুরে সুরে,
সুরের মাঝে পাই তোমারে-
তার বাঁধিলে শ্বাস প্রশ্বাসে,
তারের খবর হয় বিনা তারে।।

তোমার তত্ত্ব যে না বুঝে,
বাঁধা দেয় সে তোমার কাজে-
শাহজাহান কয় প্রেমিক সেজে,
যে জন তোমার গান গায় সুরে।।

প্রার্থনা (নং-২)

আমার আহ্বান, কবুল কর হে সুবাহান-
রাজ রাজ্যের দয়াবান,
কাঙ্গালেরে কর চরণ দান।।

এই আরজ তব দরবারে,
ক্ষমা কর অপরাধীরে-
ঘৃণা তুমি করো না মোরে,
আমার সব করিলাম অর্পণ।।

যার কাছে আমি যাই,
মিসকিন বলে আমায় কেউ দেয়না ঠাঁই-
এই দিক সেই দিক কোন দিকে যাই,
কে আমায় করবে গ্রহণ।।

যদি কারো কাছে কিছু বলিতে চাই,
সর সর বলে শুনবার সময় নাই-
প্রিয়জনের ঠিকানা জানা নাই,
তাই অনাহারে বস্ত্র হীন।।

ঘুরি আমি নানান দেশে,
আশ্রয় পাব বলে তোমারই আশে-
জীর্ণ শীর্ণ মলিন বেসে,
ব্যাথায় কাঁদে প্রাণ।।

পথ ভূলা পাখি,
সর্বদাই ঝরে দুই আঁখি-
যদি শাহজাহান তোমার হয়ে থাকি,
নিও করে অন্বেষণ।।

প্রার্থনা (নং-৩)

ক্ষমা কর অপরাধীরে,
এই আরজ তব দরবারে-
পাপী তাপী গোনা গারিরে,
ভুল করেছি ক্ষমা করো আমারে।।

ভক্তি বিশ্বাস নাই,
সাধন ভজন আমার নাই-
কি করে মুক্তি পাই,
ভেবে দেখলাম পরছি ফেরে।।

না বুঝিয়া না জানিয়া,
সব হারাইয়াছি কু- সঙ্গে গিয়া-
মাফ করে দাও দয়া করিয়া,
ঘোর সংকটে আছি পড়ে।।

অসীম তুমি ক্ষমতার বলে,
নিজাম খুনি মাফ করিলে-
আমায় তরাও কৃপা বলে,
আগুনে ইব্রাহিম নাহি পুড়ে।।

মোহ মায়ার আকর্ষণে,
ব্যস্ত ছিল মোখলেছ এই ভুবনে-
ভুল করেছি জেনে শুনে,
মাফ পাইতে চাই তবু নামের জোরে।।

শাহজাহান তোমার নিকৃষ্ট,
দান করিয়া কর উৎকৃষ্ট-
তুমি হইলা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ,
সব জানো যা আছে আমার অন্তরে।।

প্রার্থনা (নং-৪)

পার কর পারের কর্তা,
ওহে দয়াল আমারে-
বসে আছি পার হবো বলে, খেঁয়া পারে।।

অসহায়ের সহায় তুমি,
সবই দেখ অন্তর্যামী-
তরাইয়াছো নিজাম খুনি,
নিজ গুনে কৃপা করে।।

বিশ্বাস ভক্তি নাই আমল,
ভাঙা তরীতে উঠছে জল-
তরঙ্গ বাড়ছে গভীর জল,
ভয়ে কাঁদছি আঁখি বন্ধ করে।।

অ-সাধ্য কি নামের বলে,
কৃপা কর নিজ কৌশলে-
তোমার ছবি রাখছি দিলে,
ডুবে কি আমি যাইবো মরে।।

অকূল সাগরে,
কূল পাইবো শাহজাহান কেমন করে-
তুমি যারে নিছ পার করে,
অনায়াসে গেছে তরে।।

আরাধনা (নং-৫)

এই অনুরোধ মুর্শিদ,
তোমার রাজ দরবারে-
শ্রী-চরণে দিও ঠাঁই, আমি অধমেরে।।

কোথাও আমার নাই ঠাঁই,
তব আশ্রয়ে থাকতে চাই-
ভিখারি আমি কাঙ্গাল তাই,
সরাইও না ঘৃণা করে।।

নানান দেশ সফর করে,
আসলাম আমি তোমার ধারে-
ভব যাতনা আমার অন্তরে,
ভোগী রুগী কষ্ট করে।।

কারো কাছে দাঁড়াইলে,
ঠেলা দেয় তারা ঘার ধরে-
পাগল বলে ঘৃণা করে,
আশ্রয় দেয়না কেউ নীড়ে।।

তুমি বড় দয়াবান,
আমারে দেও স্থান-
কাছে থাকতে কাঁদে প্রাণ,
নইলে কোথায় যাই অন্ধকারে।।

কবি শাহজাহানের কেহ নাই,
তুমি আমার মুশকিল কোঁসাই-
ঝড় তুফানে কোথায় যাই,
তোমার নাম ভরসা সাঁই
কোথায় যাবো অন্ধকারে।।

আরাধনা (নং-৬)

বিপদে পরিয়া ডাকি মুর্শিদ তোমারে,
কৃপা করে তরাও আমারে-
তুমি বিনে কেহ নাই,
অকূলে কূল দিও আমারে।।

ঝড় তুফানে আমায় ধরে,
ডুবাইলো তরী ভব সাগরে-
ভাসিতেছি তরঙ্গের উপরে,
তোমারি ছবি রাখছি অন্তরে।।

সুদূর দিগন্ত হতে,
আসিতেছে ঢেউ অতি বেগে-
অনন্ত পাথারে,
জানিনা কোথায় টানিয়া নেয় আমারে।।

কত পাপী তাপী নাম লইয়া,
অকূলে গেছে পার হইয়া-
আমি ডুবে যাবো মরিয়া,
তরাইয়া নেও দয়া করে।।

বিপদের কান্ডারী তুমি,
তাইতো সাহস করি আমি-
যা ইচ্ছা তা কর তুমি,
আমি অধম কাঙ্গালেরে।।

সৈয়দের আর কেহ নাই,
নিদানে যেন তোমারে পাই-
শাহজাহান তরাও তাই,
ঘোর সংকটে আমারে।।

আরাধনা (নং-৭)

যার আশায় বসে আছি,
সে আর আসবে নারে-
সর্বক্ষণ তাকিয়ে থাকি,
আশা পূরণ হলো নারে।।

বক বিড়ালের খাপ ধরে,
বসে থাকি আপন ঘরে-
তার ছবি রাখছি অন্তরে,
কথা কয় সে ধরা দেয় নারে।।

বৌদ্ধ যেমন পাখি ধরে,
আঁখিতে পাখি দেখে উপরে-
লক্ষ্য দৃষ্টি এক না হইলে পরে,
পাখি কভু ধরা যায় নারে।।

শিকারী যখন হরিণ শিকারে যায়,
বিবেক বুদ্ধি ঠিক রাখিয়া জঙ্গলে তাকায়-
টার্গেট মিলাইয়া গুলি ছাড়লে পরে,
হরিণ ধরে আনতে পারে।।

বগায় যখন মাছ ধরিতে যায়,
দেহের খবর ছাইড়া দিয়া মাছের দিকে তাকায়-
অন্ন লোভে সব হারিয়ে যায়,
মাছ মারিয়ে আহার করে।।

শাহজাহান কয় শূন্য স্থান পূরণ করে,
একেতে স্বনির্ভর না হইলে পরে-
বাড়ে জ্বালা ডাইনে সংখ্যা দিলে পরে,
সংখ্যা ছেড়ে দেখ তারে।।

বিঃদ্রঃ- নফসে ওয়াহেদ পরম আত্মার বিজ্ঞানী ফকির সাধক কবি শাহজাহান শাহ্ হুজুরের “সংযমের সংবিধান (শাহজাহানগীতি)” সূফী আত্ম তত্ত্ব মূলক গানের বইটি বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস কর্তৃক রেজিস্ট্রারকৃত এবং গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দ্বারা স্বীকৃত। কেহ যদি এই বইয়ের বাণী নকল করে অথবা নিজের নামে উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচার করে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কপিরাইট আইন অনুযায়ী শাহজাহানপুর দরবার শরীফের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে উল্লেখ্য এই যে কেহ যদি এই কালাম গুলো নিজস্ব সুরে গায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অন লাইন বা অফ লাইনের মাধ্যমে প্রচার করে কিংবা কোন লেখকগন নিজের বইয়ে রেফারেন্স সহকারে বাণী গুলো উদ্ধৃতি করে ইহার অনুমতি দেওয়া হয়েছে যা অবশ্যই প্রসংসনীয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

তথ্য সূত্রঃ- “সংযমের সংবিধান (শাহজাহানগীতি)” সূফী আত্ম তত্ত্ব মূলক গানের বইয়ের প্রার্থনা এবং আরাধনা পর্ব থেকে সংকলিত হয়েছে।

পূর্ববর্তী পোস্টরাসূল (সাঃ) এর যুগে সাহাবিদের গানবাদ্য
পরবর্তী পোস্টমাওলানা জালালউদ্দিন রুমির ৭টি বিশেষ গুণাবলীঃ
"গুরুর জিহ্বা শিষ্যের কর্ণ বীজ মন্ত্র লাগাতে হয়, যেই ফল খাইলে অমর হইবে আমল করে খাইতে হয়"

এই পোস্টে একটি মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন