হোম ওলীদের জীবনী সাধক কবি হযরত শাহজাহান শাহ্ (রহ:) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

সাধক কবি হযরত শাহজাহান শাহ্ (রহ:) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী



Web Design

সাধক কবি হযরত শাহ্জাহান শাহ্ (রহ:) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

  • লেখকঃ- সংযমের সংবিধান (শাহ্জাহানগীতি- আত্মতত্ত্ব মূলক গানের বই)
  • আবির্ভাবঃ- ১৩৫৭ বঙ্গাব্দ ২৮শে পৌষ, ইংরেজি ১৯৫১ সাল জানুয়ারির ১২ তারিখ
  • ওফাতঃ- ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ২১শে পৌষ, ইংরেজি ২০১৯ সাল জানুয়ারির ৪ তারিখ

“পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করিলাম”

একজন মুসলিম পরিবারের ব্যাক্তি নায়েব আলী মুন্সীর ছেলে। মায়ের নাম বেগম মজলিসে নেছা। জন্ম বাংলা ১৩৫৭ সনের পৌষ মাসের শেষ শুক্রবার বেলা ১ টার সময়, ইংরেজি ১৯৫১ সালের জানুয়ারি মাস। গ্রাম ও ডকঘর- রূপসদী (দক্ষিণ পাড়া), থানা- বাঞ্ছারামপুর, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া। জন্ম গ্রহনের পূর্বেই (সাধকের মা) নানান অলৌকিক ঘটনা স্বপ্ন যোগে ও বাস্তবে দেখেছিলেন। আধ্যাতিক সাধনার ও আত্মশুদ্ধি ব্যাক্তি ছিলেন উনার শশুর সলিম উদ্দিন ফকির। বিস্তারিত সব কিছু গর্ভের কথা এবং স্বপ্নের কথা ব্যাক্ত করলেন শশুরের কাছে। শশুর বললেন তোমার গর্ভে একজন পুরুষ সুসন্তান আসিতেছে। কিছুদিন পর অলৌকিক ভাবে নিজ কৌশলে দায়িমা ছাড়া এবং পরশ ব্যাথার কষ্ট না পাইয়া সন্তান প্রসব করিলেন। শারীরিক আশ্চর্য রোগ দেখিয়া শশুর সলিম উদ্দিন ফকিরকে কাছে ডেকে আনলেন তারপর সব ঘটনা খোলাখুলি ভাবে বলিয়া সন্তান কে কোলে দিয়া কইলেন দেন থু থু দিয়া। দাদীজী বলিলেন আসিয়াছে আউলিয়া করিওনা ভয় ধীরে ধীরে সন্তান শারীরিকভাবে গেলেন বাড়িয়া এবং বিশেষ শক্তিশালী ভবে গেলেন হইয়া। নাম রাখলেন মোহাম্মদ শাহ্জাহান। ধর্ম হইল ইসলাম।

ধর্মীয় কোরআন ও কিতাব শিখিয়া বাংলা স্কুলে ভর্তি হয় গিয়া। প্রথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হইয়া ব্যবসায় গেলেন লাগিয়া। ছয় ভাই দুই বোন। ১ম ভাইয়ের নাম মোঃ শোধন মিয়া, ২য় ভাইয়ের নাম মিধন মিয়া, ৩য় ভাইয়ের নাম মোঃ দাধন মিয়া, ৪র্থ অর্থাৎ নিজের নাম মোঃ শাহ্জাহান মিয়া, ৫ম ভাইয়ের নাম মোঃ হোসেন মিয়া, ৬ষ্ঠ ভাইয়ের নাম মোঃ মোহসিন মিয়া ১ম বোন বেগম রোকেয়া, ২য় বোন বেগম সুফিয়া। ভাইদের মধ্যে ব্যবসায়ে রোজগার করার বিশেষ ব্যাক্তি ছিলেন শাহ্জাহান। ব্যবসা করিতে সিলেট যাইয়া সরঙ্গী নৌকায় চাউল লইয়া নদী পথে আদমপুর বাজারে আসিয়া নৌকা দিলেন কিনারায় রাখিয়া। নৌকার সকলে রইলেন ঘুমাইয়া। শাহ্জাহান নৌকার ছাউনির উপরে থাকিয়া একতারা বাজাইয়া গান গাইয়া কাদিলেন মুরিদ হইবো কোথায় যাইয়া।

ঐ মুহুর্তে নদী হইতে এক ব্যক্তি হযরত খোয়াজ খিজির (আঃ) পাশে আসিয়া মাথায় হাত বুলাইয়া সান্ত্বনা দিয়া কিছু উপদেশ পড়াইয়া হঠাৎ গেলেন চলিয়া। ঐ উপদেশ লইয়া সর্বক্ষণ কাঁদে ও বাস করে নির্জনে থাকিয়া। না জানি কোন সময় আবার দেখা দেয় আসিয়া এই ভাবে অনেক দিন গেল চলিয়া। বয়স গেল আঠারো হইয়া। বিরহ ভাব দেখিয়া বড় ভাই প্রস্তব করেন আব্বা আম্মার কাছে বিবাহ করাইবার লাগিয়া। সাথের দাদু ভাইও গেলেন ইন্তেকাল হইয়া। এই মুহুর্তে গেলেন বিশেষ ভাবে উদাসীন হইয়া। তারপরে কুমিল্লায় যাইয়া ইপি আর এ সৈনিক পদে ভর্তি হইয়া বাড়িতে আসিলেন চলিয়া। আব্বা আম্মা কান্না করিয়া সৈনিক পদে চাকরি কারার বাঁধা দিলেন শক্ত করিয়া। তাদের পাশে থাকার জন্য অনুরোধ করলেন মাথায় ও শরীরে হাত দিয়া মুছিয়া। শাহ্জাহান বললেন বিয়ের প্রস্তাব দাও বাদ দিয়া। বাড়িতে থাকবো চাকরিতে যাবনা চলিয়া।

ব্যবসা করিতে গিয়া সংগ্রাম লাগিল শক্ত করিয়া। আশুগঞ্জে পাঞ্জাবীরা ( পাকিস্তানী বাহিনী) ধরিল মুক্তিযোদ্ধা বলিয়া। সাথে আরো ৭০/৮০ জন বাঙালি লইয়া নদীর পারে গেলেন চলিয়া। সোজা দাঁড় করাইয়া এক বাঙালি রাজাকার শাহ্জাহানের জন্য সুপারিশ করিলেন মেজরের কাছে যাইয়া। মেজর বললেন আমার কাছে নিয়ে আসো তোমার কোন লোক শাহ্জাহান চিনিয়া। শাহ্জাহান দাদার কথা ও অলিগনের এবং হযরত খিজির (আঃ) এর নাম লইয়া শেষ বারের মতো কালেমা পাঠ করিলেন মরিবার লাগিয়া। রাজাকার অতিসত্বর গিয়া শাহ্জাহানকে আনিলেন মেজরের কাছে ধরিয়া। শাহ্জাহান বাদে ঐ বাকি সব লোক মারিল এক কাতারে গুলি করিয়া। শাহ্জাহান কে নির্দেশ দেন বেশি বেশি গান লিখিবার জন্য। বহুদেশ ঘুরিয়া শাহ্জাহানপুর (পূর্ব নাম- লোনপুর জঙ্গল) আসলেন একবারে চলিয়া। বিশ্ব অলির মিলন মেলা করেন এই জায়গায় আসিয়া। আশে পাশের সব গ্রামের তারা জানেন ময়মুরুব্বি আছেন যারা।

আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) অশিক অলৌকিক সর্ব কিছু শাহ্জাহানকে দান করিয়া মিলন মেলায় দিয়ে গেছেন থাকিবার লাগিয়া। নির্দেশ মতে সূক্ষ্ম ও নিগূঢ় তত্ত্ব মূলক গান লিখিয়া লিখিয়া অখণ্ড নিষ্কামী থাকিয়া বিশ্বে জ্ঞান পাওয়ার লাগিয়া “সংযমের সংবিধান (শাহ্জাহানগীতি)” গানের বই দিয়া গেলাম লিখিয়া। জ্ঞান পাওয়ার লাগিয়া। বিশ্ব জাগ্রত হইবে এই বই পড়িয়া আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) গেছেন বলিয়া। যা লিখেছি অলিগনের নির্দেশ পাইয়া, শাহ্জাহান ক্ষুদ্র বোকা অলিআল্লা দান করিয়াছেন জ্ঞানের বোঝা। তাই অনেকে সমালোচনা করেন বসিয়া বসিয়া। সাধারণ ব্যাক্তি কেমনে গেল এই বই লিখিয়া। ভূল ত্রুটি থাকলে পরে ক্ষমা করবেন দয়া করে। এই বই নিয়া পড়বেন সবার ঘরে ঘরে। আত্মশুদ্ধি হইবে মোরে। আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) আদেশ নিষেধ যারে যা কিছু করিয়াছে সবই এখন সঠিক হইতেছে। ইন্তেকালের পরেও অনেকে দর্শন পাইতেছে। বহু প্রমান রহিয়াছে। মুখে বলে সব কেরামতির কথা শেষ করা না যাইতেছে।

গ্রন্থ পড়ে যা না পাওয়া যায় আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) এর আদেশ পালন করলে তার চাইতে অধিক পাওয়া যায়। অলিআল্লার দান পৃথিবীর কোন কিছু দিয়ে উজন করা না যায়। শাহ্জাহান বললো দিন তারিখ আপনার মুখে দেওয়ার সময় হইল। তাই আমার শেষ কথা রহিলো কালেমা পড়িয়া আপনার মুর্শিদ শাহেন শাহ্ হযরত মাওলানা রাহাত আলী শাহ্ (রহঃ) বাবাকে সাথে লইয়া যাইবেন হাসি দিয়া। শাহ্জাহানকে বলিলেন তুমিও কালেমা পড়িয়া এক দৃষ্টিতে থাক তাকাইয়া দেখ আমি যাই কেমন করিয়া। তারপর আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) গেলেন হাসি দিয়া দুনিয়া হইতে লুকাইয়া। শাহ্জাহান চার তরিকার দায়িত্ব পাইয়া আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) এর নির্দেশে গান লিখার জন্য বসলেন খাতা কলম লইয়া। এই লিখা বিশ্বে কার্যকারী হবে আমার নির্দেশ। লিখ বেশি বেশি করে।

তাই পীরের নির্দেশে যা কিছু জাগে লিখে ঘুরে দেশ বিদেশে। মাজারে থাকিয়া আত্মতত্ত্ব মূলক গান লিখিয়া নিজেই সংগীতের উস্তাদ ঐ গান সুর করে গায় প্রতি বৃহস্পতিবার ধরে। দেশ বিদেশ হইতে ভক্ত মুরিদান আসেন দলে দলে। আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) ইন্তেকালের ডেট ফাল্গুনের ১ তারিখ। উরশ ফাল্গুনের ১, ২, ৩ তারিখ (ফেব্রুয়ারি-১৩, ১৪, ১৫, ১৬)। মিলাদের পর তিন দিন উরশ করে। নিজ রচিত গান গায় ভক্তরা আস্তানা করে। কবি শাহ্জাহান সব ভক্ত লইয়া ইসলাম মতে তাদের কে পরিচালিত করিয়া ইহজগতের মানুষেরে জ্ঞান দান করিয়া অপরের কল্যানে থাকেন সর্বক্ষণ নিজ স্বার্থ ছাড়িয়া। তাই কত লোক আসেন অলিগনের টানে চলিয়া। আব্বা আম্মা গেলেন দুনিয়া হইতে চলিয়া। এতিমের মত শিশুর স্বভাব ধরিয়া ভবে চলে কবি শাহ্জাহান সাম্যবাদী মত নিয়া।

ধর্মীয় মতে নামাজ রোজা পিতা মাতার খেদমত করিয়া দোয়া পাইয়াছেন প্রাণ ভরিয়া। তাই অনেক কিছু লিখিয়া দিয়া গেলাম “সংযমের সংবিধান” (শাহ্জাহানগীতি) বই ছাপাইয়া। জ্ঞানী ও গুনী বলে প্রশংসা করে এই ভ্র-মন্ডলে। নিজেকে নিজে ছোট বলে, চলে শিশুর স্বভাব ধরে। হিংসা গৌরব করে না এই সংসারে। বহু লোকে ভালোবেসে সম্মান দেয় দেশে বিদেশে যা কিছু লিখছে অলিগনের সঙ্গ পেয়ে। আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) যারে যা কিছু বলিয়া গেছে এই সংসারে সবই সঠিক হইয়াছে, তাই কাঁদে সবাই মাজারের ধারে। অলৌকিক এবং কেরামতির আর কত বলবো কথা, সবার প্রাণে আছে গাঁথা। শাহ্জাহান কাপতে লাগলো তাদের হাহাকার মরণ দেখিয়া। রাজাকার ব্যাক্তি মেজরকে বুঝাইয়া শাহ্জাহানকে আনিয়া দিয়া গেলেন সরঙ্গী নৌকায় শুয়াইয়া। নৌকার সবাই মিলিয়া নৌকা দিল তোড়ে জোরে ছাড়িয়া। বাড়িতে আসিল চলিয়া। কিছুদিন পরে পাঞ্জাবী আসিল রূপসদী গ্রামের ভিতরে। আপন চাচাতো ভাই মোঃ ফোরকান মিয়া ও মোঃ শাহ্জাহান মিয়া দুই ভাই চলাফেরা করিত প্রাণে প্রাণ মিশাইয়া। ফোরকান যাইতে চাইলো পাঞ্জাবী ধরিবার লাগিয়া। ঐ আশুগঞ্জের ব্যাথা গেল মনে পড়িয়া। শাহ্জাহান বার বার নিষেধ করলো যাইয়ো না আগাইয়া। নিষেধ মানিল না। তবুও গেল চলিয়া।

শাহ্জাহান রহিল বাড়ি পাহাড়া দিবার লাগিয়া ছেলে মেয়ে কোথায় যাইবো চলিয়া। ফোরকান গেল পাঞ্জাবীর গুলি খাইয়া। শুনিয়া মোঃ শাহ্জাহান গিয়া ধরিলো জড়াইয়া। ভাই মারা গেল গুলি খাইয়া। এই পৃথিবী অস্থায়ী সেই দিন গেল বুঝিয়া, তাই সংসার ছাড়িয়া প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ইন্ডিয়া গিয়া মুক্তিযোদ্ধের ট্রেনিং এ গেলেন ভর্তি হইয়া। দীর্ঘদিন অফিসার ও মেজরের ট্রেনিং প্রাপ্ত হইয়া তত্ত্ব গান গাইতেন ক্যাম্পে সবাইকে নিয়া। ইন্ডিয়া হইতে নিজ থানায় আসিয়া যুদ্ধে অংশ গ্রহন করিলেন মোখলেছ কমান্ডারের সাথে গিয়া। পাঞ্জাবী ঘাঘুটিয়া গ্রাম হইতে আনিলেন ধরিয়া। তারপর গেল দেশ স্বাধীন হইয়া।

আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) আসিলেন চলিয়া। রুহানি জগৎ হইতে বর্তমান কোন কোন অলিগনের সাথে আমার সাক্ষাৎ হইলো সব কিছুর আগাম খবর দিলেন বলিয়া। বলিলাম, আমি একজনের বিশ্বাসী আর কারো কাছে যাইবো না। উনি বলিলেন, হযরত খিজির (আঃ) এবং শাহেন শাহ্ হযরত মাওলানা বাবা রাহাত আলী শাহ্ (রহঃ) আমাকে পাঠাইয়াছেন তোমাকে অলিত্ত্ব দান করিবার লাগিয়া। আমি বলিলাম ঐ সব অলিগনকে আপনি কোন সময় উপস্থিত করাইবেন আমি স্বয়ং অলিগনদের সাথে সাক্ষাৎ পাইয়া সর্ব বিষয়ে পরামর্শ করিয়া আপনার সাথে সাক্ষাৎ করিব এবং মুরিদ হইবো। আব্বা আম্মার আদেশ লইয়া আসিলাম চলিয়া। তারপর সেই দিন ছিল অমাবস্যার গভীর রাত্রি মোহনজংগল, লোনপুর (বর্তমান নাম- শাহ্জাহানপুর দরবার শরীফ, শাহ্জাহানপুর) গভীর ভয়ের স্থান সেই বাঘ ও সর্পের জংগলে যাইয়া মরণ শিকার করিয়া গেলাম সেখানে অলিগনের সাক্ষাৎ পাইবার লাগিয়া। স্ব-সাক্ষাৎ পাইয়া আলোচনা করিয়া আসিলাম চলিয়া।

আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) আল্লাহর অলি হৃদয় চক্ষু খোলা পায় এলহামের বাণী। তাই বিশ্বাস করিয়া আল্লাহর অলি সবকিছু জানেওয়ালা মজ্জুম আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) এর কাছে জানিয়া বুঝিয়া মুরিদ হইলাম হাত ধরিয়া। সর্বস্ব অর্পণ করিয়া আমলে লাগিলাম দিন রাত ভরিয়া। ৮ মাস রইলাম না ঘুমাইয়া। শাহেন শাহ্ হযরত মাওলানা বাবা রাহাত আলী শাহ্ (রহঃ) এর মাজার ও তিন গোরস্থান শ্বশানে রাত যাইতো কাটিয়া। তারপর আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) আসিয়া আব্বা আম্মা ময়মুরুব্বি বন্ধু বান্ধব সবাইকে নিয়া লোনপুর জংগলে যাইয়া গাছের তলে বসাইয়া জবান বন্ধ করিয়া বাড়িতে চলে গেলেন সবাই আমাকে একলা সাপের মুখে রাখিয়া। ঝড় শিলা বৃষ্টি তুফান আসিল ঐ দিন রাত্রে গভীর গর্জন করিয়া।

সবাই বাড়িতে থাকিয়া বলাবলি করতে লাগলেন বোধ হয় শাহ্জাহান গেছে আজ মরিয়া। শাহ্জাহান অলির সাহায্য পাইয়া বাঁচিয়া রহিল গাছের তলে বসিয়া। লোকজন পরে যাইয়া অনেক ভাবে সমালোচনা করিয়া বলিলেন বেঁচে আছি কি করিয়া। সারে চার বছর একলা জংগলে জবান থাকিয়া এবাদত করলাম রাত দিন বাতি না লাগাইয়া। মাঝে মাঝে আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) আসিয়া আরও বিভিন্ন অলিগন লইয়া অগ্রিম বাণী যাইতেন শুনাইয়া। জগতের বিভিন্ন সমস্যায় আসতেন মানুষ বিভিন্ন গ্রাম হইতে এখানে চলিয়া। বিভিন্ন ভাবে শারীরিক আর্থিক উপকার পাইয়া শ্রদ্ধা করতেন অন্তর দিয়া।

সারে চার বছর পর অলৌকিক ভাবে অলিগনের সাক্ষাৎ পাইতেন রাত্র গভীরে যাইয়া। আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) ইন্তেকালের ৭ মাস আগে আসিয়া নিজের ইন্তেকালের নির্দিষ্ট সময় বলিয়া পাশে জমিওয়ালা একব্যাক্তি আসিলেন চলিয়া। উভয়েরে মাজারের জায়গা দেখাইয়া কাফিলা গাছ কুপিয়া জমিওয়ালা ব্যাক্তিগনকে বলিলেন জমি মাজারের জন্য দিবার লাগিয়া। উভয়ে ওয়াদা বদ্ধ গেলেন করিয়া বিভিন্ন জায়গায়ও আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) এর মাজার করার লাগিয়া রাইখা ছিল বিল্ডিং তৈরি করিয়া। ওয়াদা রক্ষা করার জন্য ইন্তেকালের সাত দিন আগে আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) আসলেন অরণ্যে।

শাহ্জাহানের আব্বা আম্মাকে এনে ডাকিয়া বলিলেন শাহ্জাহানের ভক্ত হইয়া আছে যেই জনে। সবাইকে বলিলেন শোন কানে আমার প্রাণে ও শাহ্জাহানের প্রাণে গেছে এক হইয়া। তাই আমি যাইবো চলিয়া সকল বাহ্যিক, আধ্যাতিক, অশীক, অলৌকিক সম্পূর্ণ অলির ক্ষমতা শাহ্জাহানকে গেলাম দিয়া। দুধ ও পানি দিয়া নিজ হাতে গোসল করাইয়া খালি গায়ে ছিল সারে চার বছর গোসল না করিল এক জায়গায় সবসময় রহিল, তাই গোসল করাইয়া নিজ হাতে শরীর মোড়াইয়া নিজ স্থানে আনিয়া শরিয়তের লেবাস পড়াইয়া জবান খুলিলেন আজান দিয়া। বলিলেন আমি ও শাহ্জাহান গেছি এক হইয়া।

আমার মুরিদের খিলাফত গেলাম দিয়া। ভক্ত যারা শাহ্জাহানের হাত ধরে মুরিদ হও যাইয়া। আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) সামনে থাকিয়া ভক্ত কিছু লোক গেলেন মুরিদ করাইয়া। নিজ জবানে উপাধি গেলেন রাখিয়া। ফকির সাধক কবি ও খাদেম মুহাম্মদ শাহ্জাহান শাহ্ হুজুর উপাধি দিয়া সব কিছুর দায়িত্ত্ব গেলেন বুঝাইয়া দিয়া। বলিলেন সবাই মিলিয়া শাহ্জাহান হুজুরের নির্দেশ মতে কর্ম করিবেন গেলাম উপদেশ দিয়া। শাহ্জাহানের আব্বা আম্মার সাথে গেলেন বলিয়া শাহ্জাহানে বিবাহ করিবে না। আসছেন দুনিয়াতে অলিত্ত্ব নিয়া জগতের কল্যানের লাগিয়া। এই কথা আব্বা আম্মা শুনিয়া সন্তুষ্ট হইলেন মজ্জুম অলি জানিয়া। দীর্ঘ দিন আব্বা আম্মার হালাল উপার্জন খাইয়া আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) বললেন সম্পূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ মুখ বানাইয়া দিয়া গেলাম পবিত্র করিয়া। যা বলেন তা আল্লাহ্ কথা রাখবেন। এই চুড়ান্ত বিশ্বাস শাহ্জাহানের প্রতি আমার প্রাণে তাই সর্বস্ব মাজার ও সর্ব বিষয়ের দায়িত্ব দিয়া গেলাম এই ভূবনে। আমি বিদায় নেওয়ার সময় হইল। রাহাত শাহেন শাহ্ আমার সম্মুখে আসলো আর কিছু বলার থাকলে বলো।

বিঃদ্রঃ

উপরোক্ত নফসে ওয়াহেদ ফকির সাধক কবি হযরত শাহ্জাহান শাহ্ হুজুরের যেই আত্মজীবনীটি দেওয়া হয়েছে তার সবকিছুই তিনি “সংযমের সংবিধান” (শাহ্জাহানগীতি) আত্ম তত্ত্ব মূলক গানের বইয়ে তিনি জীবদ্দশা থাকা অবস্থায়ই লিখেছিলেন সুতরাং তার আলোকেই এখানে বই থেকে হুবাহুব সব কিছু লেখা হয়েছে। নফসে ওয়াহেদ ফকির সাধক কবি হযরত শাহ্জাহান শাহ্ হুজুর ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ২১শে পৌষ, ইংরেজি ২০১৯ সাল জানুয়ারির ৪ তারিখ শুক্রবার ইন্তেকাল করেন এবং উনার পীর আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) এর রওজার পাশে উনাকে সমাহিত করা হয়।

বর্তমানে শাহ্জাহানপুর দরবার শরীফে নফসে ওয়াহেদ ফকির সাধক কবি হযরত শাহ্জাহান শাহ্ হুজুরের ওফাত দিবস উপলক্ষে জানুয়ারির- ৪, ৫, ৬, ৭ এবং উনার পীর আরেফিন হযরত বাবা জৈইন উদ্দিন শাহ্ (রহঃ) এর ওফাত দিবস উপলক্ষে ফেব্রুয়ারির- ১৩, ১৪, ১৫, ১৬ এবং চল্লিশা দিবস উপলক্ষে মার্চ- ২৪, ২৫, ২৬ তারিখ সহ বছরে তিনটি মহা উরশ মোবারক ভক্ত আশেকানদের মিলন মেলার আয়োজন করা হয়। উক্ত উরশদ্বয়ে মিলাদ মাহফিল ধর্মীয় তরিকতের আলোচনা এবং নফসে ওয়াহেদ ফকির সাধক কবি হযরত শাহ্জাহান শাহ্ হুজুরের “সংযমের সংবিধান” (শাহ্জাহানগীতি) আত্ম তত্ত্ব মূলক গানের বই থেকে সংগীত পরিবেশন করা হয়।

ঠিকানাঃ- জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া, থানা- বাঞ্ছারামপুর, গ্রাম- রূপসদী (দক্ষিণ পাড়া- শাহ্জাহানপুর দরবার শরীফ, শাহ্জাহানপুর)। এই দরবার শরীফে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকল স্থরের মানুষের সমাগম হয় এবং দরবারের কমিটির পক্ষ হইতে আগত সকল মেহমান ভক্ত আশেকানদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি নীতি অনুযায়ী অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ সহ উনাদের থাকা, খাওয়া এবং কাফেলা দেওয়ার সু- ব্যবস্থা করা হয়)।

তথ্য সূত্রঃ- সংযমের সংবিধান (শাহ্জাহানগীতি)
লেখকঃ- নফসে ওয়াহেদ ফকির সাধক কবি হযরত শাহ্জাহান শাহ্ হুজুর।

পূর্ববর্তী পোস্টপরকালের সহায়ক পার্থিব বস্তু অমঙ্গলজনক নহে!
পরবর্তী পোস্টবছরের শুরুতেই নিজের একটি ওয়েবসাইট তৈরী করিয়ে নিন (বিস্তারিত)
"গুরুর জিহ্বা শিষ্যের কর্ণ বীজ মন্ত্র লাগাতে হয়, যেই ফল খাইলে অমর হইবে আমল করে খাইতে হয়"

এই পোস্টে একটি মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন