হোম আধ্যাত্মিক প্রশ্ন ও উত্তর দুনিয়া এবং হাশরের পার্থক্য

দুনিয়া এবং হাশরের পার্থক্য

দুনিয়া এবং হাশরের মধ্যে পার্থক্য

প্রথমে আমাদের কোরানভিত্তিক দুনিয়া এবং হাশরের পার্থক্যটুকু জেনে নিতে হবে।

দুনিয়া:

মানবীয় নফসের বৈষয়িক চিন্তাভাবনা গতি প্রবাহ ও আমিত্ববোধকে বলা হয় দুনিয়া। মানুষ পৃথিবীতে বাস করে, পৃথিবী আল্লাহর দ্বীন তথা তাওহীদে অবস্থান করে, আর দুনিয়া ইনসানের নফসে অবস্থান করে।  এককথায় মানুষ পৃথিবীতে বাস করে, আর দুনিয়া মানুষের ভিতরে অবস্থান করে।তাই কোরানিক দর্শন জানান দিচ্ছে “আত তালেবুদ দুনিয়া মরদুত” যে দুনিয়াদার সে মরদুত নামক শয়তান। আল্লাহর হুকম আমানু যাতে দুনিয়া ত্যাগ করে আদদ্বীনে অবস্থান করে। পৃথিবী ত্যাগ করতে বলেন নাই কোরানিক দর্শন। পৃথিবী আখিরাতে অবস্থান করে। শুধু মাত্র জিন এবং ইনসানের অন্তরটি দুনিয়াতে অস্থান করে। কোরানিক দর্শন জানান দিচ্ছে আমানুকে সে যাতে দুনিয়া ত্যাগ করে তাওহীদে তথা লামোকায় অবস্থান করে।

হাশর:

হাশর হল সমাবেশ। সমগোত্রীয় সমমনা, সমচরিত্রের মানুষের সাথে গড়ে উঠে মানুষের মিত্রতা তথা হাশর। নফস মুক্তির আগ পর্যন্ত তকদীর তথা কর্মফল নিয়ে হাশরে দাড়ায় কর্মফল ভোগ করার জন্য। কর্মের মাত্রনুসারে নফস দেহধারন করে পৃথিবীতে বিচরন করে। মুক্তির আগপর্যন্ত নফস দেহনামক পোশাক ফেলে কর্মফলের ভোগটি করার জন্য দেহনামক পোশাক পড়ে পৃথিবীতে আসেন আর আসবেন। আল্লাহপাক কোরানের ৪৫ নং সুরা জাসিয়ার ২২ নং আয়াতে ইরশাদ করেন: “আল্লাহ আকাশমন্ডী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন যথাযথভাবে এবং যাহাতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহার কর্মানুযায়ী ফল দেওয়া যাইতে পারে আর তাহাদের প্রতি জুলুম করা হইবে না।” (অনুবাদ ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

সুতরাং কর্মফল ভোগ করার জন্য আল্লাহপাক আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করছেন। মৃত্যু ব্যক্তিকেন্দ্রিক, কর্মফল ভোগ ব্যক্তিকেন্দ্রিক, হাশরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক হবে।

কোরানিকদর্শন ঘোষনা করেছেন শুধুমাত্র কিছু জিন এবং ইনসানের নফস দুনিয়াতে থাকে। এই কিছুসংখ্যক জিন আর ইনসানের নফস ছাড়া সবকিছুই আল্লাহর দ্বীন তথা তাওহীদে তথা আখিরাতে তথা ইসলামে অবস্থান করে।

কোন নফসের বিচার হবে?

কোরানিক দর্শনে নফস বহুবচন। নফসে আম্মারা (১২:৫৩); নফসে লাউয়ামাহ (৭৫:০২); নফসে মোৎমায়েন্নাহ (৮৯:২৭).

কিয়ামত হবে তথা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে, পরীক্ষা দিবে নফসে লাউয়ামা। বিচার হবে আমানু নফসের তথা সাধক নফসের তথা সংগ্রামরত নফসের, মুজাহেদ নফসের, জিহাদি নফসের তথা নফসে লাউয়ামার। তাই আল্লাহ সুরা কিয়ামার ২ নং আয়াতে আল্লাহ নফসের লাউয়ামার কসম খেয়েছেন। আম্মারা নফস মানুসিক বিকারগ্রস্ত নফস, এটা ভালো মন্দ পার্থক্য করতে জানে না, এই আম্মারা নফস বিচারের উপযুক্ত নহে, তথা মৃত্যুর স্বাদ নেওয়ার উপযুক্ত নহে। আর মোৎমায়েন্নাহ নফস জান্নাতি নফস, সে পরীক্ষায় পাস, সফলকাম নফস, বিজয়ী নফস, আল্লাহর দ্বীনে অবস্থান করে, দুনিয়া মুক্ত নফস।সুতরাং বিচারের কাঠগড়ায় দাড়িয়ে আছে লাউয়ামা নফস।

আর এফ রাসেল আহমেদ

পূর্ববর্তী পোস্টসূফি দর্শনে আল্লাহর পরিচয়।
পরবর্তী পোস্টবস্তুবিজ্ঞান এবং কোরানিক বিজ্ঞান
Quranik philosophy and sufism.

এই পোস্টে একটি মন্তব্য করুন:

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন