আত্মসংলাপ (গুরু ও শিষ্য)
আত্মসংলাপ (গুরু ও শিষ্য)
-ফকির জুয়েল সাধু।
শিষ্য: গুরু, মানুষ কেন এত অস্থির?
আমি দেখি, আমার মন সারাক্ষণ কথা বলে,
কখনো আশা দেয়, কখনো ভেঙে দেয়।
আমি বুঝতে পারি না আমি কে, আর মন কে?
গুরু: তুমি ভাবছো মন তোমার বন্ধু,
কিন্তু সত্য হলো মন তোমার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ।
যাকে তুমি বাইরে সহ্য করতে পারো না,
তাকেই তুমি ভেতরে লালন করছো।
শিষ্য: তাহলে আমি কি নিজের শত্রুর সঙ্গেই বাস করছি?
গুরু: হ্যাঁ।
যদি তোমার মন কোনো মানুষ হতো,
তুমি একদিনও তার সঙ্গে থাকতে পারতে না।
সে তোমাকে সারাদিন অপমান করত,
অমূলক ভয় দেখাত,
মিথ্যা স্বপ্নে মাতাল করত।
শিষ্য: কিন্তু গুরু, আমি তো সেই মনকে থামাতে পারি না।
সে কথা বলেই যায়।
গুরু: মন থামে না,
কারণ তুমি তাকে থামাতে চাও না।
তুমি তার কথা শুনে আনন্দ পাও,
তার স্বপ্নে নিজেকে বড় মনে করো,
তার ভয়কে সত্য ভেবে কাঁপো।
শিষ্য: তাহলে আমি কী করবো?
গুরু: প্রথমে বুঝো
তুমি মন নও।
মন তোমার নয়,
তুমি মনের সাক্ষী।
শিষ্য: সাক্ষী?
আমি কীভাবে সাক্ষী হবো?
গুরু: যখন তুমি তোমার ভাবনাকে দূর থেকে দেখবে,
যেমন করে নদীর স্রোত দেখা হয়
স্পর্শ না করে, বিচার না করে।
যেদিন তুমি ভাবনাকে “আমি” বলবে না,
সেদিনই তুমি মুক্তির পথে হাঁটবে।
শিষ্য: গুরু, মানুষ কেন এত স্বপ্ন দেখে?
গুরু: কারণ মানুষ বাস্তবের চেয়ে কল্পনাকে বেশি ভালোবাসে।
বাস্তব তাকে ছোট করে,
কল্পনা তাকে রাজা বানায়।
শিষ্য: তাহলে স্বপ্ন কি ভুল?
গুরু: স্বপ্ন ভুল নয়,
কিন্তু স্বপ্নে বাস করা ভুল।
যে মানুষ স্বপ্নকে সত্য ভাবতে শুরু করে,
সে নিজের জীবন হারায়।
শিষ্য: গুরু, আমি বুঝতে পারছি
আমি নিজেই আমার সবচেয়ে ভয়ংকর সঙ্গী।
গুরু: ঠিক তাই।
যেদিন তুমি তোমার মনকে আলাদা করে দেখতে পারবে,
সেদিনই তুমি সত্যিকার মানুষ হবে।
আর যেদিন তুমি তোমার মনকে জয় করতে পারবে,
সেদিনই তুমি নিজেকে চিনবে।
শিষ্য: গুরু, তাহলে আত্মজ্ঞান কী?
গুরু: আত্মজ্ঞান মানে নিজেকে নয়,
নিজের মিথ্যা সত্তাকে চিনে ফেলা।
যেদিন তুমি বুঝবে
“আমি মন নই”,
সেদিনই তোমার জন্ম হবে নতুন করে।
শিষ্য: গুরু, আমি কি কখনো শান্তি পাবো?
গুরু: শান্তি বাইরে নেই,
শান্তি তোমার মনের ওপারে।
মনকে ছাড়িয়ে যেতে পারলেই
তুমি শান্তির মুখ দেখবে।






