“ডুবে দেখ দেখি মন” গানের ব্যাখ্যা
“ডুবে দেখ দেখি মন” গানের ব্যাখ্যা
ডুবে দেখ দেখি মন
কিরূপ লীলা ময়,
যারে আকাশ পাতাল খুঁজি
এই দেহে সে রয়।
শুনতে পাই চার কারের আগে
সাঁই আশ্রয় করে ছিল রাগে
এ বেশে অটল রূপ ঢাকে
মানুষ রূপ লীলে জগতে দেখায়।
লামে আলেফ লুকায় যেমন
মানুষে সাঁই আছে তেমন
তা নইলে কি সব নূরীতন
আদম তনে সেজদা জানায়।
আহাদে আহম্মদ হলো
আদমে সে জনম নিলো
নালন মহা ঘোরে পলো
লীলের অন্ত না পাওয়ায়।।
লালন সাঁইয়ের গীতিময় দর্শন আমাদের শেখায়, সত্য খুঁজে পাওয়া বাহ্যিক অনুসন্ধান নয়, অন্তর্মুখী সাধনার মধ্য দিয়ে সম্ভব। এই গানটি সেই শিক্ষার এক অসাধারণ নিদর্শন। গানের প্রতিটি স্তবক আমাদের মনে করায়, আকাশ-পাতাল খোঁজার বদলে, নিজের দেহ ও মনকে খুঁজে দেখো। যেখানে আমরা ভাবি ঈশ্বর দূরে, সেখানে লালন জানায়, মানুষের দেহই ঈশ্বরের আসল মঞ্চ, এবং সত্য উপলব্ধি করা মানে সেই লীলার সঙ্গে একাত্ম হওয়া।
ডুবে দেখ দেখি মন
কিরূপ লীলা ময়,
যারে আকাশ পাতাল খুঁজি
এই দেহে সে রয়।
এখানে চারটি পংক্তি—চারটি তত্ত্ব।
আমি নিচে পংক্তি-ধরে বিশদ ব্যাখ্যা দিচ্ছি।
“ডুবে দেখ দেখি মন”
লালন সাঁইয়ের ভাষায় “ডুবে দেখা” মানে, বাইরে তাকানো বন্ধ করা, ভিতরে নেমে যাওয়া, নিজের মন-প্রকৃতির গভীর স্তর দেখার সাধনা, দেহের গোপন চক্র, শ্বাসের পথ, নাড়ি এসবের রহস্য অনুভব করা। এখানে “মন”-কে ডাকছেন।
মনকে বলছেন “তোকে বাইরে ছুটতে হবে না, তুই অন্তরে ডুবে দেখ।” এই ‘ডুবে দেখা’ই লালনসাধনার মূল সূত্র। বাহিরে নয়, অন্তরে ডুবে দেখো। লালন দেহকে ক্ষুদ্র ব্রহ্মাণ্ড মনে করেন। এই ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য না দেখলে সত্য সাঁইকে দেখা যায় না।
“কিরূপ লীলা ময়,”
লালন বলছেন, যদি মন অন্তরে ডুবে যায়, তবে সে দেখবে, দেহের ভিতরে অদৃশ্য এক লীলা চলছে, শ্বাস ওঠানামা করছে, রক্তবিন্দু দৌড়াচ্ছে,চক্রগুলো ঘুরছে, প্রাণশক্তি নীরবে দেহে দেহে কাজ করছে। এই সমস্তই সাঁইয়ের লীলা। এগুলো অদ্ভুত, কিন্তু প্রতিদিন ঘটছে। সাধকের চোখ খুললে সে দেখে,
দেহ এমন একটি রহস্যময় আস্তরণ যার ভিতরে শক্তি–চৈতন্যের লীলা চলছে।
“যারে আকাশ পাতাল খুঁজি”
মানুষ ঈশ্বরকে খোঁজে আকাশে,পাতালে,পাহাড়ে, তীর্থে, মসজিদ-মন্দিরে, পুরাণে-গ্রন্থে। কিন্তু সেখানে সত্য সত্তা ধরা দেয় না। এগুলো বদলে বাহ্যিক জায়গা, বাহ্য উপাসনা, কেবল রীতি, যা লালনের দৃষ্টিতে গন্তব্য নয়। এই লাইনটি আধ্যাত্মিক তীর্থভ্রমণের সমালোচনা। ঈশ্বরকে বাহিরে খুঁজলে তাকে পাওয়া যাবে, এই বিশ্বাস ভুল।
তাই লালন বলেছেন-
“মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবে”
“এই দেহে সে রয়।”
এই লাইনটাই মূল কথা। সব পূর্বের লাইন এর দিকে এসে দাঁড়ায়। লালন বলছেন-যাকে মানুষ আকাশ-পাতালে খুঁজে বেড়ায়, সে আসলে “এই দেহেই” রয়েছে। এই দেহই, ঈশ্বরের ঘর, চৈতন্যের আসন, শক্তির ক্ষেত্র, নূরের প্রদীপ, আধ্যাত্মিক দ্বার।
এর ভিতরে নাভির আগুন, হৃৎকমল, কুণ্ডলিনী, সুষুম্না, নাড়ি-তন্ত্র সবই সক্রিয়। এগুলো বুঝতে পারলেই “সে” দেখা যায়। লালনের চোখে আধ্যাত্মিকতার উৎপত্তি দেহচেতনায়।
তিনি মন, দেহ, প্রাণকে আলাদা করেন না। এই দেহে তিনি “সাঁই” দেখতে পান মানুষের রূপে, মানুষের ভিতরে, মানুষের শ্বাসে।
শুনতে পাই চার কারের আগে
সাঁই আশ্রয় করে ছিল রাগে,
এ বেশে অটল রূপ ঢাকে
মানুষ রূপ লীলে জগতে দেখায়।
এই চার লাইনে লালন সৃষ্টির পূর্বাবস্থা, নিরাকার পরমতত্ত্ব, তার রূপগ্রহণ, এবং মানুষের মধ্যে সেই লীলার প্রকাশ সবটাই একসাথে বলছেন।
“শুনতে পাই চার কারের আগে”
এখানে “চার কার” একটি সাংকেতিক শব্দ। আমরা সাধু গুরুদের সঙে কথা বলে কয়েকটি মত জানতে পারি। সেগুলো হলো –
(ক)
১. সূক্ষ্ম
২. স্থূল
৩. কারণ
৪. মহাকারণ
(খ)
চারভূত/চার অবস্থান/চার সৃষ্টি ধাপ।
১.আগুন,
২.পানি,
৩.মাটি,
৪.বাতাস।
এই চার সৃষ্টি-অবস্থার আগেও সাঁই ছিলেন।
অর্থাৎ—সকল আকার-রূপের আগের নিরাকার পরম সত্তা।
(গ)
সর্বাধিক গ্ৰহন যোগ্য মত,
১. অন্ধকার,
এটা হলো সৃষ্টির আগের আদ্য-অবস্থা।
যেখানে, কিছু নেই, রূপ নেই, শব্দ নেই, আলো নেই,
নাম নেই, ধারণা নেই। এ হল পরম শূন্য। এ অবস্থায় সাঁই আছেন, কিন্তু প্রকাশ নেই। এক প্রকার অতল সম্ভাবনার শূন্যতা।
২.ধন্দকার,
অন্ধকারের মধ্যে প্রথম যে “কাঁপুনি”, “কম্পন”,অথবা “স্পন্দন” জন্মায়, সেই স্পন্দনই ধন্দ।
আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন,“ধন্দ” শব্দের অর্থ হলো,দ্বৈততার আরম্ভ, আলো–অন্ধকারের প্রথম টানাপোড়েন, সৃষ্টি–অসৃষ্টির কোলাহল, আদিম নাড়াচাড়া। এটাকে বলা যায়, Chaos বা Primordial Stirring.যেখান থেকে সৃষ্টির ইঙ্গিত তৈরি হয়। এ পর্যায়ে এখনো রূপ তৈরি হয়নি,কিন্তু সম্ভাবনার দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। এ কারণেই—”ধন্দ–কার”।
৩.নিরাকার,
এখন সাঁই প্রথম ‘স্বভাব’ প্রকাশ করলেন,
কিন্তু রূপ ছাড়া। এ পর্যায়- চৈতন্য আছে, শক্তি আছে,
“আমি”–বোধ আছে, কিন্তু কোন শরীর নেই, কোন সীমা নেই। এ হলো Pure Consciousness।
এটা একই সঙ্গে তত্ত্ব–ভিত্তিক এবং অভিজ্ঞতামূলক।
লালন এখানে সেই সত্তাকে বোঝাচ্ছেন, যাকে তিনি কখনও বলেন, নিরঞ্জন,আলেফ, আহাদ, অটল রূপ
জ্যোতি। এটি “সত্তার অস্তিত্ব”,কিন্তু আকার ছাড়া।
৪.কুয়াকার,
এটি সবচেয়ে রহস্যময় শব্দ।
“কুয়া” + “কার”
কুয়া = কূপ / গভীরতা / উৎস
কার = স্তর / অবস্থা / রূপ
এটা বোঝায়, রূপ গ্রহণের প্রাথমিক স্তর
অর্থাৎ, নিরাকার চৈতন্য এখন প্রথমবার রূপের দিকে এগোল, শক্তির আশ্রয় গ্রহণ করল, দেহের বীজ সৃষ্টি হলো, সৃষ্টি এখন প্রকাশ পেতে চলেছে, মানুষ রূপে বা জগতে অবতরণ করার প্রস্তুতি। ভিন্ন ব্যাখ্যায় “কুয়াকার” হলো দেহ-রূপের বীজ-অবস্থা।
এ কারণেই লালন গানটিতে বলছেন –
“সাঁই আশ্রয় করে ছিল রাগে”
যেন নিরাকার কুয়াকার অবস্থায় রূপ নিতে শক্তির দরকার হলো। সৃষ্টির আগে, রূপের আগে, নামের আগে শুধু এক চৈতন্য ছিল। গানটির মাধ্যমে লালন সেই “আদি অবস্থা”র দিকেই ইঙ্গিত করেন।
“সাঁই আশ্রয় করে ছিল রাগে”
এখানে “রাগ” শব্দটি রাগ–দ্বেষ বা আবেগ নয়।
এটা একটি তান্ত্রিক প্রতীক।
“রাগ” = শক্তি / প্রকৃতি / মায়া / সৃষ্টি-শক্তি
রাগকে আরেকভাবে বলা যায়,প্রাণশক্তি, কুণ্ডলিনী,
আদ্যাশক্তি, সৃষ্টির উৎস।
অর্থাৎ সৃষ্টির আগে নিরাকার সাঁই শক্তির (রাগের) আশ্রয় নিলেন। সেই শক্তির মধ্যেই তিনি প্রকাশ পেলেন।
“এ বেশে অটল রূপ ঢাকে”
যখন সেই নিরাকার শক্তির আশ্রয় নিয়ে রূপ নিল, তখন সাঁই নিজেকে একটি “বেশের” আড়ালে রাখলেন। এই “বেশ” কী? মানুষের শরীর, নাড়ি-প্রাণ-রক্তের গড়ন, জন্ম-মরণময় দেহ, চামড়ার আবরন, রূপের পর্দা। মানুষের দেহ হলো ছদ্মবেশ, এই দেহে সাঁই নিজের সত্য রূপ ঢেকে রেখেছেন।
“অটল রূপ” বলতে- চিরস্থায়ী, অবিনশ্বর, নিরাকারজ্যোতির্ময়, চৈতন্যরূপ, তাকে বোঝানো হয়েছে। দেহ হলো ক্ষণস্থায়ী,কিন্তু দেহের আড়ালে যে চৈতন্য, তা চিরস্থায়ী। লালনের লক্ষ্য সেই চৈতন্যকে চিনে নেওয়া।
“মানুষ রূপ লীলে জগতে দেখায়।”
এই লাইনটি পুরো তত্ত্বের নির্যাস। সাঁই কেন দেহ নিলেন? কেন রূপ নিলেন? কেন ছদ্মবেশ? কারণ, মানুষ রূপে তিনি জগতে লীলা দেখান।
লামে আলেফ লুকায় যেমন
মানুষে সাঁই আছে তেমন
তা নইলে কি সব নূরীতন
আদম তনে সেজদা জানায়।
“লামে আলেফ লুকায় যেমন”
এটা গানটির সবচেয়ে সাংকেতিক লাইন।
“লামে–আলেফ” (لا) আরবি বর্ণমালার একটি সমন্বিত অক্ষর। এখানে আলেফ (ا) লুকিয়ে থাকে লামের (ل) ভিতরে।চোখে দেখা যায় শুধু “লা” (لا),
কিন্তু তার ভেতরে এক অদৃশ্য আলেফ রহিয়াছে।
এটি সুফি দর্শনে একটি বিশেষ প্রতীক –
আলেফ = একত্ব, নিরাকার, চৈতন্য
লাম = আকার, রূপ, প্রকাশ
অর্থাৎ, নিরাকার আলেফ রূপী লামের ভিতরে লুকিয়ে থাকে। লালন এই অক্ষর থেকে দেহতত্ত্বের একটি বিশাল উপমা এনেছেন।
“মানুষে সাঁই আছে তেমন”
এখানেই লালনের সিদ্ধান্ত। যেমন, “আলেফ” লামের ভিতরে, তেমনি সাঁই মানুষের ভিতরে। মানুষের দেহ হলো “লাম” তার ভিতরে যে চৈতন্য, যে নূর, যে ঈশ্বর-সত্তা সেটাই “আলেফ”।
অর্থাৎ, দেহের আড়ালে সাঁই লুকানো আছে।
মানুষকে ছাড়া সাঁইকে পাওয়া যায় না। এটি লালনের সর্বশ্রেষ্ঠ বার্তা।
“তা নইলে কি সব নূরীতন”
এখানে “নূরীতন” শব্দটি অত্যন্ত অর্থবহ।
নূর = ঈশ্বরীয় আলো / জ্যোতি / চৈতন্য
নূরীতন = নূর থেকে উৎপন্ন সৃষ্টি
সুফি মতে “নূর” হলো আদিম আলো। যেখান থেকে সমগ্র সৃষ্টি উৎপন্ন হয়েছে। লালন এই অর্থে বলছেন,
যদি সাঁই মানুষের ভিতরে না থাকত, যদি দেহে নূর না থাকত, তবে আমরা কেমন করে নূরী সৃষ্টির অংশ হতাম? মানুষের দেহই নূরের প্রদীপ।
“আদম তনে সেজদা জানায়।”
এখানে ধর্মীয় ইতিহাসকে লালন আধ্যাত্মিক প্রতীকে ব্যবহার করছেন। ইসলামী কাহিনী অনুযায়ী আদম সৃষ্টির পর আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেছিলেন আদমকে সেজদা করতে, কারণ আদমের মধ্যে নূর ও জ্ঞান ছিল। লালন এই গল্পকে আক্ষরিক অর্থে নয়,
তাত্ত্বিক অর্থে ব্যবহার করছেন। তিনি বলতে চাইছেন,
আদমের দেহে যে নূর ছিল, সেই নূরই তাকে সন্মানিত করেছে। মানুবদেহে ঈশ্বরীয় চৈতন্য না থাকলে সেজদা করার অর্থ থাকত না। অর্থাৎ,
দেহ = নূরের আসন
মানুষ = ঈশ্বরীয় মর্যাদার অধিকারী
এখান থেকে লালন মানুষের মহত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করছেন,
মানুষকে চিনতে পারাই আধ্যাত্মিকতার আসল পথ।
“আহাদে আহম্মদ হলো
আদমে সে জনম নিলো
নালন মহা ঘোরে পলো
লীলের অন্ত না পাওয়ায়।”
“আহাদে আহম্মদ হলো”
“আহাদ” (أحد)—এক, অদ্বিতীয়, নিরাকার পরমসত্তা।
“আহম্মদ/মুহাম্মদ”—নিরাকার সত্তার প্রকাশমান রূপ, নূর, চৈতন্যের প্রথম প্রতিফলন। সুফি তত্ত্বে বলা হয় –
আহাদ → আহম্মদ → সৃষ্টি
অর্থাৎ— নিরাকার (আহাদ)
নিজেকে প্রকাশ করলেন
রূপ/নূর (আহম্মদ) আকারে।
লালন এখানে বলছেন, “আহাদের” সেই অদৃশ্য, অপ্রকাশ সত্তা প্রকাশের জগতে “আহম্মদ” হয়ে উদ্ভাসিত হল। এটি সৃষ্টির প্রথম লীলার শুরু।
“আদমে সে জনম নিলো”
এ লাইনটিতে লালনের দেহতত্ত্ব সবচেয়ে উজ্জ্বল।
সুফি ও বাউল মত একত্রে বলছে, নূর-এ-মুহাম্মদ আদমের দেহে আত্মপ্রকাশ করেছে। অর্থাৎ
মানবদেহই সেই প্রথম ঘর, যেখানে চৈতন্য নিজের রূপ নিয়ে অবতীর্ণ হয়। এখানে লালন গভীরভাবে ইঙ্গিত করছেন, মানুষকে চিনলে সাঁইকে চেনা যায়
কারণ সাঁই মানুষের মধ্যেই জনম নেন। এটি মনুষ্যত্বই দিবার প্রয়োজনীয় দরজা এর ঘোষণা।
“নালন মহা ঘোরে পলো”
এখানে “নালন” বলতে তিনি নিজেকেই বোঝাচ্ছেন লালন। তিনি বলছেন, এই সৃষ্টি-রহস্য, আহাদ থেকে আহম্মদ, আহম্মদ থেকে আদম, আদমে চৈতন্যের অবতরণ এই গভীর লীলা এত জটিল যে এতে তাঁকে প্রায় ঘোরে ফেলে। অর্থাৎ এই রহস্য মানববুদ্ধিতে সম্পূর্ণ ধরা পড়ে না।
“লীলের অন্ত না পাওয়ায়।”
এখানে গানটির পরমসার। সাঁইয়ের লীলার কোনও শেষ নেই। জগতের সৃষ্টি, মানুষের জন্ম, চৈতন্যের প্রকাশ সবই লীলার অশেষ ধারা। মানুষ যতই অনুসন্ধান করুক, তত্ত্বের শেষ প্রান্ত ধরা পড়ে না।
লালন যেন বলছেন, আমি যত বুঝতে যাই, ততই দেখি রহস্য আরও গভীরে, আরও অন্তহীন।
এটি জ্ঞানীর বিনয়, সন্ধানের অবিরাম যাত্রা।
পরিশেষে “ডুবে দেখ দেখি মন” শেষ পর্যন্ত আমাদের শেখায়, সত্য কোনো দূর আকাশের দেবতা নন; তিনি আমাদের দেহে, রক্তে, নিশ্বাসে, চৈতন্যে লুকানো।
আহাদ থেকে আহম্মদ, এবং আহম্মদ থেকে আদম,
এই যে সৃষ্টির পরমধারা, এটিই লালন দেহতত্ত্বে পরম রহস্যরূপে প্রকাশ করেন।
মানুষকে বুঝতে পারলেই সাঁইকে বোঝা যায়; দেহের ভিতরের আলোকে চিনলে নূরকে চেনা যায়; আর নূরকে চেনা মানেই লীলার এক কণা উপলব্ধি।
তবু লালন শেষ পর্যন্ত বলেন, এই লীলার পূর্ণ রহস্য কোনো মনুষ্যবুদ্ধি ধরতে পারে না। সন্ধান শুধু চলবে, ডুব দেওয়া চলবে, আর এই ডুব দেওয়ার পথেই সাঁইকে পাওয়া যায়।
লেখা- মোহন






