জমের ঘরে সবাই সমান

জমের ঘরে সবাই সমান

জমের ঘরে সবাই সমান—এই যেন সময়কে থামিয়ে দিলো। সেই ঘর সময়ের বাইরে, ধর্মের বাইরে, জাতের বাইরে। মানুষ এখানে আসে খালি হাতে, সমস্ত অর্জন আর পরিচয়ের বোঝা ফেলে রেখে। এখানে কেউ বাদশাহ নয়, কেউ ভিখারি নয়—সকলেই কেবল একটি অস্তিত্ব।

আমরা জন্ম থেকে যে পরিচয় নির্মাণ করি—আমি পুরুষ, আমি নারী, আমি মুসলমান, আমি হিন্দু, আমি পণ্ডিত, আমি পাপী—এই সবই ‘আমি’ নামক এক কৃত্রিম কেন্দ্রের চারপাশে গড়ে ওঠা মায়ার দেয়াল। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে সে দেয়াল চূর্ণ হয়। আত্মা নগ্ন হয়, উন্মোচিত হয়, আর তখনই প্রথম দেখা দেয় ‘আমি কে?’

মৃত্যু মানে – ‘আমি’ কে হত্যা করে ‘সত্য’ কে প্রকাশ করা।
যে মৃত্যুকে ভয় পায়, সে নিজেকেই ভয় পায়।
যে মৃত্যুকে গ্রহণ করে, সে জীবনের গভীরে প্রবেশ করে।

জীবন ও মৃত্যু এই দুই মুখ এক মুদ্রার। জীবন যেমন প্রত্যাশা ও ভয় নির্মাণ করে, মৃত্যু সেই সকল পর্দা ছিঁড়ে দেয়। জমের ঘরে কেউ সাধু নয় কারণ তার নামের পাশে লেখা থাকে না সে কতবার উপবাস করেছে, কত ওয়াক্ত নামাজ পড়েছে, কতবার হজ করেছে, কিংবা কত ওয়াজ শুনেছে। জমের ঘরে কেউ শয়তানও নয় কারণ তার গোপন কান্নাগুলো পৃথিবীর আদালতে ওঠেনি, কিন্তু আকাশ জানে।

এই মুহূর্তে, জীবনের মাঝেও জমের ঘর আছে।
প্রতিদিনই আমরা ‘মরছি’—একেকটি অহং ভাঙছে, একেকটি মায়া ছুটছে,
প্রতিদিনই আমরা একেকটি ‘জন্ম’ নিচ্ছি—সত্যের দিকে এক কদম এগিয়ে।
যে মানুষ প্রতিদিন মরে, প্রতিদিন ভাঙে,
সে-ই মৃত্যুর দিন মুক্ত।

কারণ তার কিছুই আর হারানোর নেই। সে তার সত্যর সঙ্গে এতটাই এক হয়ে গেছে,
যেখানে আর জমেরও কিছু বলার নেই। তখন মৃত্যু নয়, মুক্তি ঘটে।

– ফরহাদ ইবনে রেহান

আরো পড়ুনঃ