“পড় গে নামাজ জেনে শুনে” গানের ব্যাখ্যা

“পড় গে নামাজ জেনে শুনে” গানের ব্যাখ্যা

পড় গে নামাজ জেনে শুনে।
নিয়েত বাঁধ গা মানুষ-মক্কা পানে।।

মানুষে মনস্কামনা
সিদ্ধ কর বর্তমানে
খেলছে খেলা বিনোদ কালা
এই মানুষের তিন ভুবনে।।

শতদল কমলে কালার
আসন স্বর্ণ সিংহাসনে
চৌদ্দ ভুবন ফিরায়ে নিশান
ঝলক দিচ্ছে নয়ন কোনে।।

মুরশিদের মেহেরে মোহর
যার খুলেছে সেই তা জানে
বলছে লালন ঘর ছেরে ধন
খুঁজিস কেন বনে বনে।।

“দায়েমী নামাজ” শীর্ষক প্রবন্ধে আমরা কোরানে বর্ণিত প্রকৃত সালাত নিয়ে আলোকপাত করেছিলাম। উক্ত প্রবন্ধে আমরা সালাতের প্রকৃত রুপরেখা তুলে ধরেছিলাম।সেই অনুপাতে” পড়গা নামাজ জেনে শুনে” শীর্ষক প্রবন্ধে আরও একটি আলোচনা উপস্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। আলোচনার প্রারম্ভে আমরা মহা তাত্বিক ও আত্মবিশ্লেষক মহাধীমান মহাত্মা ফকির লালন সাঁইজির বিরচিত একটি কালাম উপস্থাপন করেছি। সেই কালামটিই আজকের আলোচ‍্য বিষয়।

“পড় গে নামাজ জেনে শুনে,
নিয়েত বাঁধ গা মানুষ-মক্কা পানে।”

আমরা জানি নামাজ বা সালাত হল অবিরাম স্বরণের মাধ্যমে মাশুক তথা প্রেমাস্পদের সাথে সংযোগ স্থাপন করা। এবং সেটা সঠিক নিয়ম পালনের মাধ্যমে। কেননা আন্দাজে অনুমানে সালাত প্রতিষ্টা হয় না। বাহ‍্যিক আচার অনুষ্ঠানে কেবল সাংগঠনিক ঐক্য প্রতিষ্টা হয় কিন্তু আত্মশুদ্ধি বা আত্মমুক্তি হয় না। ওয়াক্তিয়া সালাতে কখনও প্রেমাস্পদের সাথে সংযোগ স্থাপন হয় না। এবং তা সম্ভব না। তার কারণ ও সাঁইজি তার পদে উপস্থাপন করেছেন।

পড় গে নামাজ ভেদ বুঝে সুঝে।
বরজখ নিরিখ
না হলে ঠিক
নামাজ আরও মিছে৷।
সুন্নত করণ নফল সকল,
রেকাত গোনা নামাজে৷।
থাকলে এসব
হিসাব কিতাব
বরজখ ঠিক বয় কিসে।।
আত্তাহিয়াত রুকু সালাম
তাহার প্রমাণ আছে।
আপনি কেনে
আপন পানে।
তাকাও নামাজে বসে৷।
দেখে তার ভজনের হুকুম
সাদের করেছে।
বলছে লালন,
আন্দলা এমাম
ইস্তিন্দা নাই তার পিছে৷।

অর্থাৎ ওয়াক্তিয়া সালাতের নিয়মানুযায়ী সূরা কেরাত পাঠ সুন্নত নফল চিহ্নিত রাখা এবং রাকাত গননার ভিতরে পরম মাশুকের সাথে অবিরাম সংযোগ সম্ভব না। তাই রাকাত গননা বাদ দিয়ে সার্বক্ষণিক ধ‍্যানে নিবিষ্ট থাকার জন্য ই সাঁইজি বলেছেন নামাজের প্রকৃত নিয়ম এবং ভেদ জানতে। এবং মক্কার দিকে মনকে নিবিষ্ট রাখতে।

নিয়ত হল মনের ইচ্ছা, সঙ্কল্প বা প্রতিজ্ঞা করা। এটা অন্তরের কাজ, মুখে উচ্চারণ করার বিষয় নয়। জিহবার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। যেকোন কাজের প্রারম্ভে মনের মধ্যে যে ইচ্ছা পোষণ করা হয় এটাকেই নিয়ত বলা হয়।
নিয়তের গুরুত্বের প্রসঙে মহানবী সাঃ এর একটা প্রসিদ্ধ হাদিস ও রয়েছে –

إنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى » . (متفق عليه).

“প্রত্যেক কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত; আর প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে।”

মক্কা হল সৌদি আরবের হেজাজের একটি শহর ও মক্কা প্রদেশের রাজধানী। সমুদ্রতল থেকে ২৭৭ মিটার (৯০৯ ফুট) উপরে একটি সংকীর্ণ উপত্যকায় শহরটি অবস্থিত, যা জেদ্দা শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার (৪৩ মাইল) দূরে। ২০১২ সালের হিসেব অনুযায়ী এখানে প্রায় ২ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু শহরটিতে এর প্রায় ৩ গুন মানুষ হিজরী জিলহজ্জ্ব মাসে হজ্জ্ব করতে আসেন। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের খিলাফতের রাজধানী ছিল মক্কা৷ (সুত্র-উইকিপিডিয়া)

পৃথিবীর সকল মুসলিম রা একযোগে মক্বাকে কাবা হিসেবে মানে। আর সকল মুসলিম রা মক্কার দিকে ফিরে ই সালাত আদায় করে।এ বিষয়ে কোরানের নির্দেশনা ও রয়েছে। যেমন –

قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ۗ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ

অনুবাদ: (হে নবী!) আমি তোমার চেহারাকে বারবার আকাশের দিকে উঠতে দেখছি। সুতরাং যে কিবলাকে তুমি পছন্দ কর আমি শীঘ্রই সে দিকে তোমাকে ফিরিয়ে দেব। সুতরাং এবার মসজিদুল হারামের দিকে নিজের চেহারা ফেরাও।  এবং (ভবিষ্যতে) তোমরা যেখানেই থাক (সালাত আদায়কালে) নিজের চেহারা সে দিকেই ফেরাবে। যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তারা জানে এটাই সত্য, যা তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এসেছে। আর তারা যা কিছু করছে আল্লাহ সে সম্বন্ধে উদাসীন নন। (সূরা বাকারা-১৪৪)

وَلَئِنْ أَتَيْتَ الَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ بِكُلِّ آيَةٍ مَّا تَبِعُواْ قِبْلَتَكَ وَمَا أَنتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ وَمَا بَعْضُهُم بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءهُم مِّن بَعْدِ مَا جَاءكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذَاً لَّمِنَ الظَّالِمِينَ

অনুবাদ: যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তুমি যদি তাদের কাছে সব রকমের নিদর্শনও নিয়ে আস, তবুও তারা তোমার কিবলা অনুসরণ করবে না। তুমিও তাদের কিবলা অনুসরণ করার নও, আর তাদের পরস্পরেও একে অন্যের কিবলা অনুসরণ করার নয়। তোমার নিকট জ্ঞান আসার পরও যদি তুমি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ কর, তবে তখন অবশ্যই জালিমদের মধ্যে গণ্য হবে। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৪৫)

الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءهُمْ وَإِنَّ فَرِيقاً مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ

অনুবাদ:আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চেনে, যেমন করে চেনে নিজেদের পুত্রদেরকে। আর নিশ্চয়ই তাদের একটি সম্প্রদায় জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে।(সুরা বাকারা, আয়াত-১৪৬)

الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلاَ تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ

অনুবাদ: বাস্তব সত্য সেটাই যা তোমার পালনকর্তা বলেন। কাজেই তুমি সন্দিহান হয়ো না। (সুরা বাকারা, আয়াত-১৪৭)

وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا فَاسْتَبِقُواْ الْخَيْرَاتِ أَيْنَ مَا تَكُونُواْ يَأْتِ بِكُمُ اللّهُ جَمِيعًا إِنَّ اللّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অনুবাদ: প্রত্যেক সম্প্রদায়েরই একটি কিবলা আছে, যে দিকে তারা মুখ করে। সুতরাং তোমরা সৎকর্মে একে অন্যের অগ্রগামী হওয়ার চেষ্টা কর। তোমরা যেখানেই থাক, আল্লাহ তোমাদের সকলকে (নিজের নিকট) নিয়ে আসবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৪৮)

وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِنَّهُ لَلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ

অনুবাদ: আর তোমরা যেখান থেকেই (সফরের জন্য) বের হওনা কেন, (সালাতের সময়) নিজেদের মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও। নিশ্চয়ই এটাই সত্য, যা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে এসেছে। আর তোমরা যা কিছু কর, সে সম্পর্কে আল্লাহ অনবহিত নন।

এবার মূল বিষয়ে আসা যাক মহাত্মা ফকির লালন সাঁইজির আলোচিত পদটিতে কি আরবে অবস্থিত মক্কার কথা বলা হয়েছে নাকি অন্য কোন কাবার কথা বলা হয়েছে?

ফকির লালন সাঁইজি ছিলেন মানুষ তত্বে বিশ্বাষী। উনার ভাবনা এবং আন্দোলন সবই ছিল মানুষ কেন্দ্রিক। উনি কখনও মানুষের বাইরে অলীক গল্প কিচ্ছা প্রচার করেননি। উনি সব সময় ই মানুষ, মানুষ তত্ব, এবং মানব দেহ নিয়ে গবেষণা করেছেন। এবং উনার আরাধ‍্য প্রেমাস্পদকেও মানব দেহেই খুজেছেন।কেবল তিনি ই নন উনার পূর্বে এবং পরে আবির্ভূত সকল মহা মানব ই মানব দেহে ই পরম প্রেমাস্পদের সন্ধান করেছেন। এ দেহ ভূবনেই খুজেছেন মক্কা এবং মদিনা। আর তা পেয়েছেন ও।

অধ‍্যাত্ব বিজ্ঞানের পরিভাষায় দেহের উপরিভাগের দুই ভ্রু যুগলের মধ‍্যস্থিত স্থান কে ই মক্কা বলে চিহ্নিত করা হয়। কেননা সেখানে রয়েছে দেহের প্রধান সাতটি চক্রের অন্য তম একটি চক্র। যাকে আজ্ঞা চক্র বা দ্বিদল পদ্ম নামে অভিহিত করা হয়। একে আয়না মহল ও বলা হয়। বিশুদ্ধ চক্রের উপরে এই চক্রের অবস্থান। এর রং সাদা। এই চক্রে পৌছাতে পারলে পরম গুরুর আজ্ঞা মেলে। এই চক্রের উর্ধে দুটি ক্ষুদ্র চক্র রয়েছে। যার জন্য একে দ্বিদল পদ্ম বলা হয়। প্রথমটি ষড়দল বিশিষ্ট পদ্ম। শব্দজ্ঞান, স্পর্শ জ্ঞান, রুপ জ্ঞান,ঘ্রাণ জ্ঞান, রসোপভোগের জ্ঞান এবং স্বপ্ন ভূবনের আজ্ঞা মেলে এখান থেকে।

অপর চক্রটিতে পদ্মকলা বা বৃত্তি রুপে ষোলটি পাপড়ি রয়েছে। যথা-কৃপা,ধৈর্য্য, ধৃতি, বৈরাগ‍্য, মৃদুতা, সম্পদ, হাস‍্য, রোমান্স, বিনয়, ধ‍্যান, সুস্থিরতা,  গাম্ভীর্য, উদ‍্যাম, অক্ষোভ, ঔদার্য ও একাগ্রতা।

স্থুল শরীরের যাবতীয় কার্যাদেশের ইতি এখান থেকেই হয়। সিনেমা হলে যেমন পর্দায় আলো ফেলে চিত্রাদি দর্শন করানো হয় তেমনি দেহেও জাগ্রত শক্তির সংস্কাররুপ ছবির সংগ্রহ শালা থেকে আলোর সাহায্যে শুন‍্যমার্গের পর্দায় ছবি ফেলে আজ্ঞা চক্র তা দর্শন করায়।

“মানুষে মনস্কামনা
সিদ্ধ কর বর্তমানে ,
খেলছে খেলা বিনোদ কালা
এই মানুষের তিন ভুবনে।”

অতীত অন্ধকারে বিলীন ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত কেবল বতর্মান ই সত‍্য। তাই সাঁইজি মনের মানুষ কে অতীত বা ভবিষ্যতে না খোঁজে বর্তমানে খোজার জন্য বলেছেন। সেই মনের মানুষ প্রেমাস্পদ আপন দেহে ই বিরাজ করছে।

“শতদল কমলে কালার
আসন স্বর্ণ সিংহাসনে
চৌদ্দ ভুবন ফিরায়ে নিশান
ঝলক দিচ্ছে নয়ন কোনে।”

শতদল হচ্ছে- মূলাধারের- 4+স্বাধীষ্ঠানের -6+মণিপুরের -10+অনাহতের -12+বিশুদ্ধের -16+আজ্ঞার -2

এবং সহস্রারের প্রধান- 50 টি বর্ণ বা পত্রের সমষ্টি =100 টি বর্ণ বা পত্র।
কমল হচ্ছে পদ্মফুলের সমার্থক শব্দ।যোগতন্ত্রে দেহমধ‍্যস্থিত চক্র গুলোকে পদ্মের ন‍্যায় কল্পনা করা হয়।

চৌদ্দ ভূবন হচ্ছে মানবদেহের সাত আসমান এবং সাত জমিন। আলোচিত পদাংশের সারমর্ম দাড়ায় সমগ্র দেহ ভূবন সায়ীর তথা উপর নিচ ভ্রমণ করে কোথাও প্রেমাস্পদ কে দেখার কোন রাস্তা পাওয়া গেল না অথচ সেই রাস্তা নয়ন কোণে ই রয়েছে। অর্থাৎ আয়না মহল বা আজ্ঞাচক্রের সাহায্যে ই সেই অধর চাদ বা অদেখা মনের মানুষ কে দেখতে হয়।

“মুরশিদের মেহেরে মোহর
যার খুলেছে সেই তা জানে
বলছে লালন ঘর ছেরে ধন
খুঁজিস কেন বনে বনে ।”

মেহের নামের অর্থ প্রেম, প্রণয়, আনন্দ, সাদা, দয়া ইত্যাদি। আলোচ‍্য পদে দয়া অর্থে ব‍্যবহার হয়েছে। মোহর শব্দের সাধারণ অর্থ নামাংকিত সীল বা ছাপ বুঝালেও আত্মতাত্বিক বৈখ‍্যিক টৈকিকদের মতে মোহর দ্বারা নিদ্রিত কুলকুন্ডলীকে বোঝানো হয়েছে। মুর্শিদের দয়াতে যার নিদ্রিত কুন্ডলীনী শক্তি জাগ্রত হয়েছে সেই পরম প্রেমাস্পদকে আয়নামহলে দেখতে পারে।

পরিশেষে মহাত্মা ফকির লালন সাঁইজি বলতে চাচ্ছেন দেহ ঘরে ই রয়েছে অমূল্য সম্পদ তথা মনের মানুষ। আর সেই অধর মনের মানুষ কে বাইরে খোঁজা নিরর্থক। (লেখা এবং তথ‍্যে ভুল পরিলক্ষিত হলে অবশ‍্যই সংশোধনযোগ্য)।

পড়রে দায়েমী নামাজ এ দিন হল আখেরী।।
মাশুকরূপ হৃদ কমলে
দেখ আশেক বাতি জ্বলে
কিবা সকাল কিবা বৈকালে
দায়েমীর নাই অবধারী।।
সালেকের বাহ্যপনা
মুজ্জুবী আশেক দেওয়ানা
আশেক দেল করে ফানা
মাশুক বিনে অন্য জানে না
আশার ঝুলি লয়ে সেনা মাশুকের চরণ ভিখারী।।
কেফায়া আইনি জিন্নি
এহি ফরজ জাত নিশানী,
দায়েমী ফরজ আদায়
যে করে তার নাই জাতের ভয়,
জাত এলাহির ভাবে সদায়
মিশেছে সে জাতে নূরী।।
আইনি অদেখা তরিক
দায়েমী বরজখ নিরিখ,
সিরাজ সাঁইজীর হকের বচন
ভেবে কহে অবোধ লালন,
দায়েমী নামাজী পড়ে যে জন
সমন তাহার আজ্ঞাকারী।।

লেখা -মোহন
জয় হোক মানুষ এবং মানবতার।

আরো পড়ুনঃ