“আল্লাহ তুই দেহিছ” — কারো ওপর বিশ্বাস, বেশ, আচার চাপিয়ে দেয়া ফৌজদারি অপরাধ।
জট, লম্বা চুল, গোঁফ, দাড়ি—এসব অনেক ব্যক্তির কাছে তার ধর্ম-দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারো ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া ইসলামী শরীয়ত পরিপন্থী। মানসিক ভারসাম্যহীন পাগল ও আল্লাহর পাগল এক বিষয় নয়; এই বিষয়টা তথাকথিত আলেম নামের জালেমদের বোঝা উচিত।
কার চুল, গোঁফ, জামা-কাপড় পরিবর্তন করা উত্তম আর কার বেলায় তা পাপ, এই পার্থক্য না বুঝলে নিজেদের ইসলাম রক্ষার ইজারাদার ভাবা বাদ দেওয়া উচিত। নিজ আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে কতজন না খেয়ে আছে, কতজনের জামা ছেঁড়া-ফাটা, তা খোঁজ নেওয়ার বেলাই নাই, কিন্তু কয়েকটা ভিউস (Views) পাওয়ার নেশায় এরা আসে রাস্তায় আল্লাহর পাগলদের চুল-জট কাটতে।
কিছু মানসিক ভারসাম্যহীন আছেন, তাদের বেলায় এসব করলে অবশ্যই তা প্রশংসাযোগ্য কাজ। কিন্তু এই জালেমদের মূল টার্গেট মরমীবাদকে ধ্বংস করা, সাধু-ফকির এদের পিছনে লেগে থাকা। এদেশের অধিকাংশ মানুষই যেহেতু ধর্মান্ধ ও জাহেল, সেক্ষেত্রে এই সামান্য বিষয়টা তাদের বোধগম্য হচ্ছে না। কোনো মুসলিম দাড়ি রাখতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া যেমন অপরাধ, তেমনি কেউ চুলে জট ও গোঁফ রাখতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়াও সমান অপরাধ।
এই আলেম নামের জালেমদের বলতে চাই—ইসলাম রক্ষার ইজারাদার হিসেবে আল্লাহ কোনো মোল্লাদের নিয়োগ করেননি, তাই ইসলামের নামে অনৈসলামিক কাজ আর মানবতা ধ্বংস করে মানবিক কাজের এই মিথ্যা নাটক বাদ দেওয়া উচিত। আর শুধু মোল্লা না, মোল্লাদের দর্শন ভর করা কিছু ধর্মজ্ঞানহীন যুবকদের বেলায়ও এই কথা প্রযোজ্য।
লেখাঃ DM Rahat






