সৃষ্টিকর্তা কখনো পুনর্জন্মের চক্রে তোমাকে বাঁধতে চান না।

সৃষ্টিকর্তা কখনো পুনর্জন্মের চক্রে তোমাকে বাঁধতে চান না।

মন হলো দেহের সূক্ষ্ম সত্তা, যা আত্মার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আত্মা বিনা দেহ নিষ্প্রাণ, আর মন বিনা আত্মা অস্থির। এই মনই জগতের সমস্ত চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু জাগতিক লোভ, মোহ, আর আকাঙ্ক্ষার বন্ধনে মন যখন আবদ্ধ, তখন তাকে মুক্ত করা সহজ নয়। মুক্তি কেবল তখনই সম্ভব, যখন মন তার নিজস্ব শৃঙ্খল ভাঙতে শেখে।

সৃষ্টিকর্তা কখনো পুনর্জন্মের চক্রে তোমাকে বাঁধতে চান না। তবু, তুমি তাঁকে দোষারোপ করো, কারণ তোমার মন জ্ঞানের আলোয় আলোকিত নয়। যেখানে লোভ ও মোহ জ্ঞানকে গ্রাস করে, সেখানে অন্যকে দোষী সাজানো স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। কিন্তু জেনো, মুক্তি কেউ দিতে পারে না—না ঈশ্বর, না গুরু, না অন্য কোনো পরম শক্তি। মুক্তি তোমার মনের নিজস্ব অর্জন। তুমিই তোমার মুক্তিদাতা।

মনে করো, তুমি এক নদীর তীরে তোমার প্রিয় সম্পদ রেখে ওপারে গেছো। কিন্তু মনের অদৃশ্য ডোরে বাঁধা সেই সম্পদের প্রতি আকর্ষণ তোমাকে বারবার ফিরিয়ে আনে। এই ফিরে আসাই মোহের খেলা। মন যতক্ষণ জাগতিক বন্ধনে আবদ্ধ, ততক্ষণ মুক্তি অধরা। তুমি ভাবো, গুরু বা ঈশ্বর তোমাকে মুক্ত করে দেবেন, তুমি এই জগৎ ত্যাগ করে চিরতরে মুক্ত হবে। কিন্তু এই ভাবনা মিথ্যা। মৃত্যু দেহের, কিন্তু আত্মা অমর। আর সেই আত্মার সঙ্গে জড়িত মন যদি লোভ-মোহে আবদ্ধ থাকে, তবে তা বারবার জন্মচক্রে ফিরে আসে।

মনকে মুক্ত করতে হলে জাগতিক সকল বন্ধন ত্যাগ করতে হবে। ত্যাগ মানে কেবল দৈহিক বিচ্ছেদ নয়, মানে মনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা। তুমি যা কিছু জগতে রেখে যাও—স্থাবর, অস্থাবর, ধন-সম্পদ—তা যদি কল্যাণের পথে না লাগে, তবে তা তোমারই অপরাধ। এই অপরাধ তোমার মুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই নিজ হাতে কল্যাণ করো, নিজ নয়নে তার সুফল দেখো। ধন থাকতে পুণ্য করো, কারণ শূন্য হাতে ফিরে যাওয়াই শ্রেয়।

মনের মুক্তি তখনই, যখন তুমি জগতের সকল মায়া-মোহকে অতিক্রম করবে। মন যখন শান্ত, নির্লিপ্ত, আর জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত, তখনই তুমি পাবে চিরন্তন মুক্তি। এই মুক্তি কোনো বাহ্যিক শক্তির দান নয়—এ মুক্তি তোমার মনের অভ্যন্তরীণ বিজয়। তাই, মনকে মুক্ত করো, কারণ মনই তোমার চিরন্তন সঙ্গী, আর মনই তোমার মুক্তির একমাত্র পথ।

লেখা: ফরহাদ ইবনে রেহান

আরো পড়ুনঃ