ধর্ম সমূহ মানুষের চিন্তার উপর ডিপেন্ড করে সৃজন হয়েছে

ধর্ম সমূহ মানুষের চিন্তার উপর ডিপেন্ড করে সৃজন হয়েছে

ধর্ম সমূহ মানুষের চিন্তার উপর ডিপেন্ড করে সৃজন হয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ তুমি যদি চিন্তার সর্বোচ্চ স্তরে যেতে পারো তবে দেখতে পাবে চিন্তার চূড়ান্ত স্থানে’ই ধর্ম অবস্থান করতেছে। এযাবৎকালে মানুষেরা যতরকম পাওয়ার আশা করেছে এবং ভরসা পেয়েছে তার প্রায় কিছু’ই ধর্মের উপর দাঁড়িয়ে পেয়েছে।

এমনকি আমি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি যে প্রেমের উড়ন্ত সূচনাটিও ধর্মের উপরে দাঁড়িয়ে হয়েছে। আবার আমি এক’ই ভাবে স্বীকার করছি যে, সমস্ত রকমের ঘৃণা বিদ্বেষ অরাজকতাও এই ধর্ম থেকে’ই প্রকাশিত হয়েছে, সকল কিছুর ভালো এবং মন্দ সমূহের মূল খুঁজে দেখতে গেলে তোমরা সর্বপ্রথম এই ধর্মকে’ই পাবে, এমনকি নাস্তিকতার সূচনাটিও এই ধর্ম থেকে হয়েছে। মূল ব্যাপার হলো মানুষ যখন ভাবনার চুড়ান্ত অবস্থানে পৌঁছে যায় তখন তার বিশুদ্ধ ভাবনা’ই হয়ে যায় ধর্ম বা মতাদর্শ।

কিন্তু এখানে আশ্চর্য বিষয় হলো লোকেরা যখন কোনো মতাদর্শ বা ধর্মকে অনুসরণ করেন তখন কিন্তু তাঁরা ভাবনার চুড়ান্ত অবস্থানে যেতে চান না। অনুসারীরা শুধু মাত্র আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে পরে থাকে আর তা দিয়ে’ই শুরু হয়ে যায় রক্তবন্যা, ধর্ম অনুসরণ আর আচার অনুষ্ঠান নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টির করে জমিনের উপর যত রক্তবন্যা হয়েছে ইতিহাস বলে দুনিয়াতে আর কোনো কিছু নিয়ে’ই এরকম রক্তবন্যা হয় নি। ধর্মপ্রভাবে ধর্মান্ধতায় মানুষ যতটা নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছে, এমন নিষ্ঠুরতা আর কিছুতে’ই দেয়া সম্ভব হয়নি, তদ্রুপ ধর্মপ্রভাবে ধার্মিক হয়ে মানুষ যতটা কোমলতা অর্জন করেছে, তেমন কোমলতা আর কোনো কিছুতে’ই পাওয়া সম্ভব হয় না।

প্রতিটি ধর্মের’ই প্রকাশ পেয়েছে পূর্বের ধর্ম এবং ধর্ম মত থেকে বিভাজন হয়ে। প্রতিটি ধর্মযাজকরাই ছিলেন কাফের-নাস্তিক পূর্বের ধর্ম নিয়ম অনুযায়ী। প্রতিটি ধর্মযাজক যখন নতুন ধর্ম নিয়ে লোকেদের সামনে আসতেন তখন’ই লোকেরা সেই পয়গাম্বরকে ঈশ্বরের শত্রু হিসাবে গণ্য করতেন, এবং উহা চলমান নিয়ম।

লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ