বিশ্বব্যাপী ওহাবীবাদের মূল সহযোগী ছিলো যারা।
যে ধর্মে শিক্ষা-আদর্শ ও নৈতিকতা হওয়ার কথা ছিলো ক্ষমা, বিনয়, মানবতা ও কল্যান। সে ধর্ম অনুসারীদের মধ্যে আজ সর্বাধিক উগ্রতা দৃশ্যমান। কোনো যুগে এদের পরিচয় মিলেছিলো খারেজি, কোনো যুগে এজিদি, কোনো যুগে ওহাবী, কোন যুগে জঙ্গি, আবার কোনো যুগে এসে নাম ধারন করেছে তা তৌহিদি জনতা। সৌদি আরব, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মতো বহুমুসলিম দেশে এই জঙ্গি ও তালেবানীরা ওহাবীজমের স্বৈরতন্ত্রের মাধ্যমে ওলি বা সুফিদের মাজার, মজলিশ ও স্থাপনার অস্তিত্বকে স্থায়ী ভাবে মাটির সাথে বিলিন করে দেয়। এবং তা কেবল নতুন ঘটনা নয়, শতশত বছর আগে থেকে তা বাস্তবায়ন করে এসেছে।
ওহাবীবাদের মূল সহযোগী ছিলো বৃটিশরা। আর যুগে যুগে ওহাবীদের বড় বড় শায়খদেরকে ব্রিটিশরা নিজেদের গোলাম বানিয়ে ওহাবীবাদ প্রচার করিয়েছে, যাতে ইসলামে মূল নীতি হারিয়ে এরা অমানবিক ও উগ্র হয়ে উঠে। যুগে যুগে সুফিপন্থিদের অবনতি ঘটার বিশেষ একটি কারন আছে, যেমন; ব্রিটিশরা সুফিপন্থিদের কখনও গোলাম করতে পারেনি, যার কারনে তাদের পথের বড় বাঁধা ছিলো একমাত্র সুফিপন্থিরাই।
আপনি দেখবেন সারা পৃথিবীতে ওহাবীবাদের আকিদা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, এবং এই ওহাবীবাদের আকিদা, আচরন ও কর্মকাণ্ড একদম হুবহু এক। কেননা এই ওহাবীবাদের ফ্লাগশিপ মালিকানা হচ্ছে ব্রিটিশরা। আমি ওহাবীবাদ নিয়ে যতটুকু লিখেছি তা কেবল শিরোনাম। ওহাবীবাদে উত্থান কিভাবে হলো, কিভাবে পুরো ইসলামের নীতিকে ওহাবীবাদের মাধ্যমে বদলে দিয়েছে তা অবশ্যই আপনার জানা উচিৎ, এ সম্পর্কে বলতে গেলে লেখা দীর্ঘ হয়ে যাবে। এবিষয়ে আপনার অজানা থাকলে খুব সহজে আপনি গুগল থেকে সঠিক ইতিহাস জেনে নিতে পারেন।
আগামীর বাংলাদেশে অশুভ শক্তির ঘনঘটা ইঙ্গিত দিচ্ছে। সুফিপন্থিদের উপর আরো জুলুম আসবেই—আসবে। তাই সময় থাকতে হিংসা-হিংসি বাদ দিয়ে সবাই একটি দলে একত্রিত হন। আর যেসব পীরের অনুসারী ও ভক্তদের হার্ট দুর্বল, সাহস কম ও প্রতিবাদ করার মতো মনমানসিকতা নেই সেসব অনুসারীদের গুরু বা পীরের মাজার ও দরবার থাকারও প্রয়োজন নেই।
আর যেসব পীরেরা মনে করেন দেশের মানুষ রসাতলে যাক আমার গদি আর আমার পীরালী ঠিক থাকলেই চলবে, তবে সেসব পীরদের বলছি; আপনাদের কামালিয়াত নাই, আছে কেবল গদিটুকু।
তাই অনুরোধ করছি— অতিরঞ্জিত সুফি ভাব ধরে বসে না থেকে একতার বলে বলিয়ান হয়ে নিজেদের অস্তিত্বতে বাঁচান।
— Nishat Wahid






