HOME পাঠকদের পাঠানো পোস্ট প্রতিটি নরনারীর উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ৷

প্রতিটি নরনারীর উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ৷

179

প্রতিটি নরনারীর উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ৷

মুসলিম দর্শন: “প্রতিটি নরনারীর উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।” প্রকৃতসত্তার অনুসন্ধান করাই দর্শনের লক্ষ্য৷ মুসলমানরা অনান্য জাতির মতো যুগ যুগ ধরে চিন্তা ও কর্মের সংমিশ্রণে জীবনদর্শন গড়ে তুলেছেন। এই জীবনদর্শনের মূল ভিত্তি হচ্ছে কুরআন ও হাদিস। কুরআন ও হাদিসে পূর্ণাঙ্গ জীবনীবিধান স্পষ্ট ভাবে রয়েছে। তবুও পরিবর্তিত সময়ে প্রেক্ষাপটে উৎপন্ন সমস্যাগুলো এবং কুরআন হাদিস ব্যাখ্যায় মতবিরোধ সমাধানে চিন্তা, যুক্তি ও মতৈক্য বিষয়গুলো নিয়ে উৎপত্তি হয়েছিল মুসলিম দর্শনের৷

উৎস: কুরআনের আয়াতগুলো তিন ভাগে বিভক্ত। যথা-অনুমান, নিরীক্ষণ ও অভিজ্ঞতা। এ সকল উৎসগুলোর ব্যাখ্যা দিতে বিভিন্ন চিন্তাগোষ্ঠীর আবির্ভাব হয়৷ এদের মধ্যে খারেজি, কাদারিয়া, জাবারিয়া, আশারিয়া ও সুফি সম্প্রদায় অন্যতম৷ তাদের দার্শনিক আলোচনার ভিত্তি ছিল কুরআন ও হাদিস। তাছাড়াও গ্রিক, পারস্যিক ও ভারতীয় দর্শনের কিছুটা প্রভাব মুসলিম দর্শনে লক্ষ্য করা যায়৷

অবদান: আল ফারাবি, আল কিন্দি, আল গাজ্জালি, ইবনে সিনা প্রমুখ মুসলিম দার্শনিকগণ দর্শন শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা যেমন জ্ঞান তত্ত্ব, অধিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যায় অভূতপূর্বক অবদান রেখেছেন৷ মধ্যযুগে পৃথিবীতে সবচেয়ে গৌরবময় স্থান ছিল পারস্য। এখানের লাইব্রেরিতে দর্শনের জটিল সব বিষয় আরবিতে লেখা ও ব্যাখ্যা করা হয়েছিল৷ পরবর্তীতে এই পান্ডুলিপিগুলো আরব থেকে পাশ্চাত্য দেশে যায়। আধুনিক পাশ্চাত্য দর্শন চিন্তায় মুসলিম দর্শনের প্রভাব রয়েছে।

শাকিল মিয়া,
শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Comments

Please enter your comment!
Please enter your name here