তোমরা নিজ নিজ ইন্দ্রিয়াদিকে বশে রেখো।
তোমরা নিজ নিজ ইন্দ্রিয়াদিকে বশে রেখো, এঁরা তোমারদের আপন সত্তাকে ঢেকে রেখেছে৷ তোমাদের মধ্যে থেকে যারা ঈশ্বরকে জীবিত দেখতে চায় এবং যারা ঈশ্বরের মূর্তমান হতে চায়, তাঁরা যেন তাদের ইন্দ্রিয়সমূহের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে। তোমরা সবাই সেই পবিত্র সত্তা, তোমরা সবাই-ই সর্বব্যাপী, তোমরা সবাই অখণ্ড।
যে সত্তাটি সর্বব্যাপী সেই সত্তাটিকে’ই তোমরা তোমাদের দেহ খাঁচায় লুকিয়ে রেখেছো ইন্দ্রিয়াদির প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে৷ মনে রেখো, অনিয়ন্ত্রিত ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে বীরত্ব আর কিছু’ই নেই, প্রবল অনিয়ন্ত্রিত ইন্দ্রিয়াকে যারা এক ঘন্টা নিয়ন্ত্রণ করে রাখে তাঁরা যেনো এক- একটি জান্নাতের জন্ম দিয়া থাকে, আর যারা ইন্দ্রিয়াদিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে নেয়, তাঁরা জান্নাতের লোভও ছেড়ে দেয়৷
যারা ইন্দ্রিয়াদির উর্ধ্বে চলে যায় তাঁরা বর্তমান মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম (আঃ) হয়ে ওঠে। মহাপুরুষ ইবরাহীম নিজ ইন্দ্রিয়ের প্রভাবমুক্ত ছিলেন, তিনি ছিলেন ইন্দ্রিয়াদির চাহিদা উর্ধ্বে। মহাপুরুষ ইবরাহীম (আঃ) ছিলেন প্রশান্ত আত্মার অধিকারী।
বলা হয়ে থাকে, ইবরাহীমের আত্মা এতটা’ই প্রশান্ত ছিলো যে তাকে নমরূদের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত করার পরেও তিনি অগ্নিদাহ্য তো হলেন’ই না বরং আরও আদেশ করা হলো, হে আগুন, ইবরাহীমের জন্য শীতল হয়ে যাও, এবং শান্তিদায়ক হয়ে যাও, তার যন্ত্রণার হইওনা৷
ইন্দ্রিয়াদি হলো সেই জিনিস যাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে নিজে’ই শত স্বর্গের অধিকারী হওয়া যায়। ইন্দ্রিয়কে বশ করে নিও যদি জড়তার যন্ত্রণা থাকে মুক্তি পেতে চাও, জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জাহান্নামের দরজা চিরতরে বন্ধ করার চেয়ে আর কোনো উত্তম কর্ম থাকতে পারেনা৷
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






