কবর হলো দেহের আশ্রয়, আর রুহ খুঁজে মালিকের সান্নিধ্য
– সৈয়দ আবুল হাসনাত জিসান
মানুষের জীবনের অবধারিত সমাপ্তি হলো মৃত্যু। দেহের জীবনের ইতি ঘটার পর সেটি মাটির বুকে সমাহিত হয়— কবরই হয় তার শেষ শয্যা, শেষ আশ্রয়স্থল। কিন্তু দেহের সঙ্গে থাকা আত্মা বা রূহ মৃত্যুর পর আর মাটিতে থাকে না; তার যাত্রা শুরু হয় সেই সত্তার দিকে, যাঁর কাছ থেকে সে এসেছে— মহান আল্লাহর দিকে।
পবিত্র কুরআনে এই সত্য স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে:-
“নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন কারী।” (সূরা আল-বাকারা, ২:১৫৬)
“অতঃপর তাঁরই কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন।” (সূরা আল-আন’আম, ৬:৩৬)
মৃত্যুর পর মু’মিনের আত্মা পৌঁছে যায় ‘ইল্লিয়িন’-এ— এক উচ্চ মর্যাদার পবিত্র স্থানে। আর কাফির ও অবাধ্য মানুষের আত্মা নিক্ষিপ্ত হয় ‘সিজ্জিন’-এ— অন্ধকার, সংকীর্ণ ও শাস্তিমূলক স্থানে। কিয়ামতের দিন, আল্লাহ তায়ালার হুকুমে, আত্মা পুনরায় দেহের সঙ্গে মিলিত হবে, যাতে মানুষ তার আমলের হিসাব দিতে পারে।
ইল্লিয়িন — (সৎকর্মশীলদের মর্যাদার ঠিকানা): ‘ইল্লিয়িন’ শব্দটির অর্থ উচ্চতম স্থান বা সম্মানজনক মর্যাদা। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মুতাফ্ফিফীন-এর ১৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:“ নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলদের আমলনামা থাকবে ইল্লিয়্যিনে।”
ইল্লিয়িন হলো সেই উচ্চ মর্যাদার স্থান, যেখানে মু’মিনদের আত্মা ও তাদের সৎ আমলনামা সংরক্ষণ করা হয়। ফেরেশতারা সাক্ষী থেকে এসব রেকর্ড রক্ষা করেন। এটি জান্নাতের নিকটবর্তী এক পবিত্র ঠিকানা, যা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের জন্য নির্ধারিত।
সিজ্জিন — (পাপীদের শাস্তির স্থান): ‘সিজ্জিন’ শব্দটি এসেছে কারাবাস বা আবদ্ধ রাখার ধারণা থেকে। এর অর্থ সংকীর্ণ, নিম্নতর ও অন্ধকারময় স্থান। কুরআনের সূরা আল-মুতাফ্ফিফীন-এর ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:“ নিশ্চয়ই পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জিন-এ থাকবে।”
সিজ্জিন বোঝায় সেই ভয়ংকর কারাগার, যেখানে কুফর, শিরক ও পাপাচারে নিমজ্জিত আত্মাদের শাস্তি দেওয়া হয়। এর ব্যাখ্যায় বলা যায়, এটি জাহান্নামের নিম্নতম স্তরগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে আজাবের কোন শেষ নেই।
মৃত্যু কেবল জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং আত্মার জন্য এক নতুন যাত্রার সূচনা। দেহের গন্তব্য কবর হলেও আত্মার গন্তব্য নির্ভর করে দুনিয়ার আমলের ওপর— কেউ পৌঁছাবে ইল্লিয়িন-এর পবিত্র সম্মানে, কেউ নিক্ষিপ্ত হবে সিজ্জিন-এর অন্ধকার যন্ত্রণায়। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের উচিত আল্লাহ ও তার রাসুল (সঃ) সন্তুষ্টির পথে চলা, যাতে মৃত্যুর পরের এই অনন্ত যাত্রা হয় শান্তি ও সম্মানের।






