যেভাবে পরমেশ্বর অসীমে পরিণত হয়েছেন?

যেভাবে পরমেশ্বর অসীমে পরিণত হয়েছেন?

ঈশ্বর সম্বন্ধে সর্বকালের অমীমাংসিত একটি প্রশ্ন যে, কিভাবে পরমেশ্বর অসীমে পরিণত হয়েছেন? তোমাদের জেনে রাখা উচিৎ, পরমেশ্বর সরাসরি অসীমে পরিণত হওয়ার জন্য তাকে সর্বপ্রথম ব্রহ্মাণ্ডে পরিণত হতে হয়েছে, ব্রহ্মাণ্ড বলতে তোমাদের চিন্তা, চেতনা, আধ্যাত্মিকতা,স্বর্গ, নরক, সহ সকল বস্তুগত অস্তিত্ব’ই ব্রহ্মাণ্ডের আওতাধীন। এসকল কিছু একত্রিত করে’ই ব্রহ্মাণ্ড। ঊর্ধ্বতন পরমেশ্বর যখন নিম্নবর্গে রূপান্তরিত হয় তখন তা ব্রহ্মাণ্ড। এবার ব্রহ্মাণ্ড এসে তিন শাখায় বিবর্তিত হয়ে সর্বাবস্থায় বিস্তার করেন৷ ব্রহ্মাণ্ডের তিন শাখা হলো, দেশ, কাল, কার্য, তথা পরমেশ্বরের প্রক্রিয়া অবস্থান।

তোমরা যদি একটু খেয়াল করো তবে দেখতে পাবে, পরমেশ্বর এককভাবে ঊর্ধ্বতনে অবস্থান করেন এবং তাঁর বিবর্তন ঘটেছে নিম্নবর্গে তথা ব্রহ্মাণ্ড রূপে, এবং সে ব্রহ্মাণ্ড এসে তিন শাখাযুক্ত হয়ে সর্বাবস্থায় বিরাজ করছেন৷ এবার একটু সূক্ষ্মভাবে লক্ষ করে দেখো তোমরা সবাই ব্রহ্মাণ্ডে অবস্থান করছো, যেহেতু তোমাদের চিন্তা চেতনা আধ্যাত্মিকতা স্বর্গ নরক সহ সকল বস্তুগত অস্তিত্ব’ই ব্রহ্মাণ্ডের আওতাধীন। সেহেতু ঈশ্বরকে দেখার জন্য তোমাদের সকলকে’ই ব্রহ্মাণ্ডের তিনটি শাখাকে ব্যাবহার করতে হবে।

তোমরা কখনোই একক সত্তা বা ঊর্ধ্বতন পরমেশ্বরের দেখা পাবেনা, এবং দেখা পাবে একটি মনে মনে ভাবাও অবান্তর। কারণ সরাসরি পরমেশ্বরের মাঝে ঐ তিনটি শাখা বিদ্যমান নেই৷ কিন্তু তোমরা যেখানে অবস্থান করছো ঠিক সেখানে’ই এ তিনটি শাখা রয়েছে৷ ঊর্ধ্বতন পরমেশ্বর তো সরাসরি তোমাদের মন, মস্তিষ্ক, চিন্তা চেতনার সাথে যুক্ত নয়, সে তো বিবর্তিত ব্রহ্মাণ্ড! তোমরা ব্রহ্মাণ্ডের তিন শাখা ব্যাতিত একক সত্তা পরমেশ্বরকে চাইতে পারো না। এ অধিকার তোমাদের নেই, কারণ সে তো চিন্তা চেতনার আওতাধীন নয়! দিন রাত্র তাকে স্পর্শ করেন না, সে ভালো খারাপের অনুগত নয়, সে একক অস্তিত্ব, এখানে তাঁর রূপ রস গন্ধ কিছু’ই নেই। তাই একক সত্তা পরমেশ্বরকে চাওয়া তো অযৌক্তিক ব্যাপার, এবং এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সবার আগে পরম সত্তার বিশেষ উপলব্ধি নিয়ে’ই এ ব্রহ্মাণ্ডতে রূপান্তর, তাঁর পরে’ই তো কার্য তথা পরমেশ্বরের প্রক্রিয়া অবস্থান, আর তখন’ই তোমাদের চিন্তা চেতনা কামনাবাসনার জন্ম হয়। অনেকেই বলে থাকেন যে, একক সত্তা পরমেশ্বরের ইচ্ছা থেকে’ই এ জগৎ জন্ম, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মন্তব্য। কারণ যেখানে তাঁর একক অবস্থান, যেখানে তাঁর কোনো স্বাদ রূপ রস গন্ধ নেই, সেখানে ইচ্ছাশক্তির উপস্থিতি হয় কি করে? ইচ্ছাশক্তি তথা কামনাবাসনার জন্ম হয়েছে ব্রহ্মাণ্ডতে রূপান্তরিত হওয়ার পরে৷

এর আগে তাঁর ইচ্ছাশক্তি থাকার প্রশ্ন-ই আসেনা। একক সত্তা পরমেশ্বরকে নিয়ে তোমাদের যা ধারণা হয়েছে তিনি তাঁর চেয়েও ভিন্ন কিছু, এবং এর চেয়ে আরও বেশী কিছু যা বর্ণনা করার নয়৷ তোমাদের সকল চিন্তা চেতনা জানা অজানা এ সব কিছু’ই তাঁর বিবর্তন রূপের মধ্যে দিয়ে’ই প্রচার প্রসারিত হয়। তিনি তোমাদের সকল কিছুর’ই উপস্থিত সাক্ষী।

তোমাদের সকল চিন্তা চেতনা ও কামনাবাসনার জন্ম হতে যতটুকু সময়ের দূরত্ব থাকে,পরমেশ্বর তাঁর চেয়েও অনেক গুণ বেশী তোমাদের নিকটতর। তবুও সে ভিন্ন কিছু এবং তোমাদের চেয়েও ঊর্ধ্বে অবস্থান তাঁর, এবং এই অবস্থানটি’ই হচ্ছে তোমাদের স্বরূপ, এখানে’ই তোমরা ঈশ্বর, এই অনন্ত অবস্থাকে তোমরা কোন ভাবে’ই বর্ণনা করতে পারবেনা বা কোনো ভাষাতে’ই নয়৷ কারণ এখানে সে একক অস্তিত্ব নিয়ে থাকেন, তাঁর কোনো পরিচয় নেই, তোমরা কি বলে তাকে সম্বোধন করবে? না তিনি বস্তু রূপে, না তিনি কোনো সম্পর্ক রূপে, না তিনি কোনো নাম রূপে।

সে এক থমথমে পরিচয়ের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন৷ এই সত্তাটি’ই হলো তোমাদের সকল কিছুর কেন্দ্র, আবার এ অবস্থায় সে কোনো কিছু’ই নয়, আবার তিনি’ই সব, সে ঈশ্বরও নয়, এবং সে তুমিও নয়, সে এর চেয়েও বেশী কিছু, এবং এই যেসব বর্ণনা পেলে তিনি তাঁর চেয়েও ঊর্ধ্বতন কিছু একটা, এবং সে আসলে’ই তোমাদের স্বরূপ।

-বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ