স্বপ্নে দেখা ঘটনার আধ্যাত্মিক ও রহানী ব্যাখ্যা।

স্বপ্নে দেখা ঘটনার আধ্যাত্মিক ও রহানী ব্যাখ্যা।

স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে এক বোনের করা প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:-

আপনার বর্তমান অবস্থা, চিন্তাধারা, চেষ্টা কতটুকু আমার তা জানা নেই। কিছুটা ধারনা পেলে হয়তো বিস্তারিত বলা যেতো। তারপরেও কিছুটা সংক্ষিপ্ত ভাবে বলার চেষ্টা করি:-

স্বপ্নের সাথে অনেক ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিকতার কোনো সম্পর্ক নেই। আত্মশুদ্ধিলাভ থেকে যে চেতনা তৈরি হয় এবং যা ঘটে তাহা শুধু ঐশ্বরিক। আবার যাহা রুহের জগত হইতে প্রাপ্ত হয় তা বিনা ঘুমে এলহামযোগে দেখতে ও শুনতে পায়। তাছাড়া মানুষের চিন্তাধারা শুদ্ধ হলে অথবা কিছু ক্ষেত্রে মানুষ যা নিয়ে বেশি কল্পনা করে, আবেগ্রবন হয় তাহা ব্রেইন হইতে এক্ট্রাক্ট হয়ে নীরবতায় বা ঘুমের মধ্যে তা স্বপ্নে দর্শন হয়ে থাকে।

আবার একজন আধ্যাত্ববাদীর জাগ্রত কিংবা স্বপ্নের মধ্যেও অনেক ঐশ্বরিক বা রুহানী বিষয় উপলভ্য হয়।

রুহের কোনো ঘুম নাই, ব্যস্ততা নাই, স্বাঃসের লিমিটেশন নাই। রুহের জগতে কেউ প্রবেশ করতে হলে আগে তাকে অবশ্যই সাধনা করতে হবে, বিনা সাধনে রুহের উপরে থাকা পর্দাগুলো কখনওই সে সরাতে সক্ষম হয়না।

একজন আধ্যাত্মবাদী বা সাধকই জানে, নবী দেখা মানে অতীতের সেই সূরত না। নবীর সূরত তো কাফেরেও দেখেছে। আর একজন সাধারন ব্যক্তি আত্মদর্শন ছাড়া কিছু দর্শন করলে সেটাকে ঐশ্বরিক দর্শন বলা যায়না।

আত্মদর্শন হচ্ছে নিজেকে দেখা বা নিজের ভিতরের ঈশ্বরকে দেখা। নিজের বাইরে দেখা কিছুই ঐশ্বরিক নয়। তবে একজন সাধক বা আত্মাদর্শনকারী প্রাথমিক সময় অনেক কিছুই উপলব্ধি করে, সে স্বপ্নে দেখে সে ইমাম মাহাদী, আবার স্বপ্নে দেখে সে আলী, আবার স্বপ্নে দেখে শত শত সাধকগন তাকে সেজদা দিচ্ছে। এসব দেখা মানে তার রুহ অতীতে যে কর্ম করেছিলো তারই ভালো কর্মফল। নতুন একটা দেহ নিয়ে তার রুহ যখন পূনরায় বিচরন করে তখন তার পিছনের কর্ম নিয়েই আসে।

একজন আত্মদর্শন পিপাসিত ব্যক্তি বা ভক্তের প্রাথমিক পর্যায়ে তার গুরুই তার নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ বা মহান, তার গুরুর সূরতই প্রভু সূরত, গুরুর সূরতই নবী সূরত।।

রুহ বা আত্মা হচ্ছে অবিনশ্বর। আত্মার মৃত্যুনাই, আত্মা কেবল ঘুরে ফিরে বিভিন্ন দেহে তার খাসলত নিয়ে আসে।

আপনার পরম সত্তা এখন আপনার গুরু পরিচয়ে আছে। আপনি যখন ঘুমান বা দুনিয়ার চিন্তা চেতনা হইতে অবশর নিয়ে থাকেন তখন আপনার রুহ তার কর্মগুনে বিভিন্ন ভাবে বিচরন করে।

আপনি যখন আপনার নিজ পরম সত্বাকে জানতে পারবেন তখন আপনার গুরু, মুর্শীদ, আল্লাহ, নবীকে আলাদা সূরতে আর দেখতে হবে না।

লেখা- Nishat Wahid

আরো পড়ুনঃ