তুমি কী কোনো বাচাল মানুষের সঙ্গে থাকা পছন্দ করো?
তুমি কী কোনো বাচাল মানুষের সঙ্গে থাকা পছন্দ করো? একজন অনিয়ন্ত্রিত মানুষের সঙ্গে তুমি কতক্ষণ সময় থাকতে পারবে? তোমার কানের কাছে এসে সারাদিন অযথা প্যানপ্যানানি করা মানুষটাকে তুমি কতক্ষণ সহ্য করবে? যে মানুষটার সাথে দেখা হলে’ই সময় অসময়ে তোমার পকেট থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায় সে মানুষটাকে তুমি কত দিন ছাড় দিবে?
সম্ভবত এর একটি চরিত্র ধারণ করা কোনো ব্যাক্তিকে-ই তুমি বেশিক্ষণ তোমার সাথে রাখবেনা, কিন্তু চরম সত্য হলো এই যে, আমি যেসব চরিত্র গুলি উল্লেখ করেছি তুমি তার চেয়েও ভয়ংকর চরিত্রের সঙ্গে বছরের পর বছর থেকে চলছো। দুঃখের বিষয় হলো যে, তুমি এ চরিত্রের সাথে বছরের পর বছর থেকেও নিজেকে মহা জ্ঞানী দাবি করে চলছো এবং নিজেকে একজন সুস্থ মানুষ মনে করছো! এবং শান্তিতে থাকার স্বপ্নও দেখে চলছো!
কতটা বোকা তুমি। অনিয়ন্ত্রিত, বাচাল, অকর্মা, সর্বনিম্ন চিন্তার অধিকারী, লম্পট চরিত্রগুলিকে সঙ্গে নিয়ে নিজেকে মহান ভেবে নেয়ার মতন বোকামি আর কি থাকতে পারে? তুমি সব মেকিদেরকে সাথে নিয়ে নিজেকে ক্ষমতাবান করে দেখছো। তোমার মন এমন খিটখিটে যার সঙ্গে কিছুক্ষণ থাকা’ই নরকের সমুতুল্য, কিন্তু তুমি কীভাবে এমন মনের সাথে থেকে চলছো? তুমি তোমাকে অস্বাভাবিক করে ফেলছো এটা তুমি কেন বুঝে উঠতে পারোনা?
কেন বলে বেড়াও আমার অনেক টাকা থাকলে আমি এটা করতাম, ওটা করতাম! কেন স্বপ্ন দেখে থাকো? তুমি তো স্বপ্ন দেখার মানুষ নয়?
আমি দেখেছি তুমি সর্বাবস্থায় এটা ওটা নিয়ে বসে আছো, কিন্তু এটা কি তোমার কাজ? যা তোমার নয় তা নিয়ে তুমি কার সাথে কথা বলে চলছো? এখানে তো তুমি আর তোমার মন ছাড়া কেহ নেই।
আমি বলছি তুমি একজন ভয়ংকর মানুষ, এবং তুমি ঠিক সেই যাকে নিজে সহ্য করতে পারোনা তবুও তাকে নিয়ে আছো। তুমি ঠিক সেই যাকে তুমি কখনো’ই তোমার কাছের কেহ বলে মেনে নিতে পারোনা তবুও তাকে তোমার কাছের করে রেখেছো।
কী? এমন ধারণা তোমার মানতে কষ্ট হচ্ছে তাই তো? চলো এবার তোমাকে প্রমাণ করে দেই তুমি সর্বোচ্চ বাচাল সঙ্গীকে আলিঙ্গন করে চলছো, তুমি সর্বোচ্চ বেহায়ার সঙ্গে সংসার করে চলছো। আমি তোমাকে প্রমাণ করে দিতে চাই যে তুমি কত ভয়ংকর সঙ্গদোষে পরে আছো।
তোমার মন কতটা জঘন্য তা বুঝতে চাইলে তোমার মনটা আমার কাছে দিয়া দাও, এবং তোমার মনটাকে ভিন্ন ব্যক্তির রূপ দাও অথবা তোমার মনটাকে আমি’ই ধরে নাও। এবার আমি যদি তোমাকে সারাদিন একের পর এক প্রশ্ন করতে’ই থাকি তুমি আমাকে কতক্ষণ মেনে নিবে? কতক্ষণ আমার সাথে থাকতে চাইবে? এর পরের বার আমাকে দেখে তুমি এড়িয়ে যেতে চাইবে কিনা?
কিন্তু খেয়াল করে দেখো তোমার মন তোমাকে সারাদিন কতকী ভালো মন্দ প্রশ্ন করে’ই চলছে এবং তোমাকে কত ব্যাস্ত করে দিচ্ছে তবুও তুমি এর কোনো প্রতিবাদ করছোনা! ধরো তোমার মন আমি, এই আমি যদি তোমাকে বলি.. কায়া তুমি দেখতে সুন্দর, আরে ধ্যাত তুমি মোটে’ই সুন্দর নয়, দেখো ঐ মেয়েটা মনে হয় তোমাকে ভালোবাসে,আরে নাহ! তুমি কি কুচ্ছিত দেখতে
এই মেয়ে কী কখনো তোমাকে ভালোবাসবে? অসম্ভব! এটা কোনো দিনও সত্য নয়। ঠিক আমি যদি তোমাকে এমন ভাবে সারাদিন বাজে বকি তবে কী তুমি আমাকে আস্ত রাখবে? কিন্তু দেখো তোমার মন তোমার সাথে থেকে’ই সারাক্ষণ এমন ভাবে তোমাকে টর্চার করে চলছে আর তুমি তাকে কিছু’ই বলছোনা!
আমি বলছি, তুমি যদি তোমার ভাবনাগুলোকে আমার কায়াতে রূপান্তর করে দেখতে পারো তবে জেনে রেখো তুমি আমার সাথে কখনো’ই থাকবেনা কারণ আমি এতটা জঘন্য হবো। এবং এত বিরক্তিকর হবো যা তুমি সহ্য করতে পারবেনা। আর তুমি সেটা’ই যা তোমার দ্বারা মেনে নেয়া অসম্ভব যদি আমি হয়ে থাকতাম।
মনকে আলাদা ভাবে বিচার করে দেখো তুমি কতটা ভয়ংকর, খুঁজে দেখো তুমি কেমন বিরক্তিকর মনের সাথে বসবাস করে চলছো। তুমি যদি একে আলাদা কায়ায় হস্তান্তর করে দেখতে পারো, তবে’ই তুমি অচিন পাখি চেনার সাধনায় জয় লাভ করতে পারবে।
– বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






